ঢাকা , শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে ‘আমেরিকার ধ্বংস’ আর ‘প্রতিশোধের’ স্লোগান জামায়াতের মধ্যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা একটি নেয়ামত, যা অন্য কোনো সংগঠনে নেই: ডা. শফিকুর রহমান ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচের সময় বদলের গুঞ্জন, জানাল ফিফা বৈরি আবহাওয়ার আশঙ্কা, ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচের সময় পরিবর্তন নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিলো ফিফা তারেক রহমানকে ১০ বছর সময় দিতে হবে, কোনো কথা চলবে না: জুলাই যোদ্ধা শাহিন ‘জেন জি অলস, ওদের ইরান পাঠিয়ে দেওয়া উচিত’ রাজধানীর চকবাজারের আশিক টাওয়ারে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট শাওন কি শেখ হাসিনার চেয়েও পাওয়ারফুল?: প্রধানমন্ত্রীর সামনেই প্রশ্ন ছাত্রদল নেতার কাল আমিরের তৃতীয় বিয়ে, অতিথি তালিকায় ২ প্রাক্তন স্ত্রী আওয়ামী লীগ আর কোনোদিন বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কায়রো বিমানবন্দরে বাংলাদেশিদের বাড়তি তল্লাশি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৪৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

এবার মিশরের কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশি যাত্রীদের প্রতি বাড়তি নিরাপত্তা তল্লাশি ও নজরদারির অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেকায়রো টু ঢাকা ফ্রি টিকিট’, ‘১০০ শতাংশ রিস্কমুক্ত মালামালসহ বিভিন্ন প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যবসায়িক পণ্য বহনের প্রবণতাকে এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, বিষয়টি এখন শুধু কয়েকজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ভোগান্তিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এর প্রভাব পড়ছে মিশরে অবস্থানরত পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির ওপর। বিমানবন্দরে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের দীর্ঘ সময় নিরাপত্তা তল্লাশি ও অতিরিক্ত যাচাইবাছাইয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে।

সম্প্রতি কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ভ্রমণের সময় বাংলাদেশি যাত্রীরা ব্যাপক হয়রানির শিকার হন। বিশেষ করে ১ জুলাই টার্মিনাল২ থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি ফ্লাইটের প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে তিন থেকে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেককে একাধিকবার লাগেজ পরীক্ষা করানো হয় এবং শুরুতে কয়েকজনের লাগেজ গ্রহণেও অনীহা দেখানো হয়। পরে বাংলাদেশি যাত্রীদের একসঙ্গে একটি নির্ধারিত গেট দিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও অনেকে প্রয়োজনীয় মালামাল বিমানবন্দরেই রেখে যেতে বাধ্য হন। কারও কারও ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফ্লাইট মিস হওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, কিছু যাত্রী ব্যক্তিগত লাগেজে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ কসমেটিকস, ওষুধ ও অন্যান্য পণ্য বহন করায় এই কড়াকড়ি বেড়েছে। বিভিন্ন লাগেজে ব্যক্তিগত ব্যবহারের সীমা ছাড়িয়ে শত শত কসমেটিকস ও অন্যান্য পণ্য পাওয়া গেছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনোকায়রো টু ঢাকা, ১০০ শতাংশ রিস্কমুক্ত মালামালশিরোনামে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। অতিরিক্ত আয়ের আশায় অনেক শিক্ষার্থী এসব প্রলোভনে সাড়া দিচ্ছেন। তবে বিমানবন্দরে মালামাল জব্দ বা বহনের অনুমতি না মিললে ব্যবসায়ীদের নয়, ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন যাত্রীরাই।

অভিযোগের বিষয়ে আহমেদ উল্লাহ নামে এক বিজ্ঞাপনদাতা বলেন, তিনি আগে খেজুর, কসমেটিকস ও অন্যান্য পণ্য পাঠাতেন, তবে এখন আর করবেন না। তার দাবি, বর্তমানে কিছু ব্যক্তি গাঁজা পাঠানোর চেষ্টাও করছে এবং সম্প্রতি একজনের পাসপোর্ট জব্দ হয়েছে। অন্যদিকে ইবনে আজহার নামে আরেক ব্যক্তি দাবি করেন, তারা শুধু বৈধ পণ্য কিনে দেন এবং যাত্রীরা নিজেরাই তা দেখে গ্রহণ করেন। বহন করা ওজন অনুযায়ী যাত্রীদের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়।

আলআজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে কায়রো বিমানবন্দরে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেখলেই অনেক কর্মকর্তা সন্দেহের চোখে দেখেন। এতে সাধারণ শিক্ষার্থী, প্রবাসী, পর্যটক ও বৈধভাবে ব্যক্তিগত মালামাল বহনকারী যাত্রীরাও অপ্রয়োজনীয় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে মিশরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সাময়িক আর্থিক লাভের আশায় এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে ‘আমেরিকার ধ্বংস’ আর ‘প্রতিশোধের’ স্লোগান

কায়রো বিমানবন্দরে বাংলাদেশিদের বাড়তি তল্লাশি

আপডেট সময় ০১:৪৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

এবার মিশরের কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশি যাত্রীদের প্রতি বাড়তি নিরাপত্তা তল্লাশি ও নজরদারির অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেকায়রো টু ঢাকা ফ্রি টিকিট’, ‘১০০ শতাংশ রিস্কমুক্ত মালামালসহ বিভিন্ন প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যবসায়িক পণ্য বহনের প্রবণতাকে এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, বিষয়টি এখন শুধু কয়েকজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ভোগান্তিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এর প্রভাব পড়ছে মিশরে অবস্থানরত পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির ওপর। বিমানবন্দরে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের দীর্ঘ সময় নিরাপত্তা তল্লাশি ও অতিরিক্ত যাচাইবাছাইয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে।

সম্প্রতি কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ভ্রমণের সময় বাংলাদেশি যাত্রীরা ব্যাপক হয়রানির শিকার হন। বিশেষ করে ১ জুলাই টার্মিনাল২ থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি ফ্লাইটের প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে তিন থেকে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেককে একাধিকবার লাগেজ পরীক্ষা করানো হয় এবং শুরুতে কয়েকজনের লাগেজ গ্রহণেও অনীহা দেখানো হয়। পরে বাংলাদেশি যাত্রীদের একসঙ্গে একটি নির্ধারিত গেট দিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও অনেকে প্রয়োজনীয় মালামাল বিমানবন্দরেই রেখে যেতে বাধ্য হন। কারও কারও ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফ্লাইট মিস হওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, কিছু যাত্রী ব্যক্তিগত লাগেজে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ কসমেটিকস, ওষুধ ও অন্যান্য পণ্য বহন করায় এই কড়াকড়ি বেড়েছে। বিভিন্ন লাগেজে ব্যক্তিগত ব্যবহারের সীমা ছাড়িয়ে শত শত কসমেটিকস ও অন্যান্য পণ্য পাওয়া গেছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনোকায়রো টু ঢাকা, ১০০ শতাংশ রিস্কমুক্ত মালামালশিরোনামে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। অতিরিক্ত আয়ের আশায় অনেক শিক্ষার্থী এসব প্রলোভনে সাড়া দিচ্ছেন। তবে বিমানবন্দরে মালামাল জব্দ বা বহনের অনুমতি না মিললে ব্যবসায়ীদের নয়, ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন যাত্রীরাই।

অভিযোগের বিষয়ে আহমেদ উল্লাহ নামে এক বিজ্ঞাপনদাতা বলেন, তিনি আগে খেজুর, কসমেটিকস ও অন্যান্য পণ্য পাঠাতেন, তবে এখন আর করবেন না। তার দাবি, বর্তমানে কিছু ব্যক্তি গাঁজা পাঠানোর চেষ্টাও করছে এবং সম্প্রতি একজনের পাসপোর্ট জব্দ হয়েছে। অন্যদিকে ইবনে আজহার নামে আরেক ব্যক্তি দাবি করেন, তারা শুধু বৈধ পণ্য কিনে দেন এবং যাত্রীরা নিজেরাই তা দেখে গ্রহণ করেন। বহন করা ওজন অনুযায়ী যাত্রীদের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়।

আলআজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে কায়রো বিমানবন্দরে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেখলেই অনেক কর্মকর্তা সন্দেহের চোখে দেখেন। এতে সাধারণ শিক্ষার্থী, প্রবাসী, পর্যটক ও বৈধভাবে ব্যক্তিগত মালামাল বহনকারী যাত্রীরাও অপ্রয়োজনীয় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে মিশরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সাময়িক আর্থিক লাভের আশায় এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।