ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগৈলঝাড়ায় মিছিল নিয়ে এসে থানায় হামলা, পুলিশ সদস্যদের মারধর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১৬:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় আসমির মৃত্যু গুজব ছড়িয়ে মিছিল নিয়ে এসে থানায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীদের মারধরে পুলিশের অন্তত ছয়জন সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ সদস্যদের প্রতিরোধের মুখে কয়েকজন হামলাকারী আহত হয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে আগৈলঝাড়া থানায় এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ।

 

তিনি জানান, ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

 

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আ. হালিম, সিপাহী লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আলামিন হোসেন ও মেহেদী হাসান। তাদের মধ্যে আ. হালিমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

হামলাকারীদের মধ্যে আহতরা হলেন, আসামির মা নাছরিন বেগম, বোন শারমিন আক্তার ও স্থানীয় বাসিন্দা মমতাজ বেগম। শারমিন আক্তার ও মমতাজ বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ ফকিরকে একটি চুরির মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রিয়াজ থানার ভেতর দেয়ালের সঙ্গে নিজের মাথা আঘাত করে অচেতন হয়ে পড়েন। তাকে বুধবার রাত ১১টায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। জ্ঞান না ফেরায় রাতেই তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে রিয়াজ মারা গেছেন বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তার স্বজনসহ এলাকার শতাধিক বাসিন্দা মিছিল নিয়ে গিয়ে থানায় হামলা চালান। তারা পুলিশ সদস্যদের মারধর করেন। পুলিশ সদস্যরা পাল্টা হামলাকারীদের মারধর করেন।

 

রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির বলেন, আমার ছেলেকে রাস্তা থেকে বিনা অপরাধে পুলিশ ধরে নিয়ে মারধর করেছে। আমরা পরে জেনেছি সে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মাদ মাসুদ খান বলেন, চুরির মামলায় রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে রিয়াজের স্বজনসহ শতাধিক লোকজন মিছিল নিয়ে থানায় হামলা করে পুলিশ সদস্যদের মারধর করেছে। থানায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আগৈলঝাড়ায় মিছিল নিয়ে এসে থানায় হামলা, পুলিশ সদস্যদের মারধর

আপডেট সময় ১০:১৬:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় আসমির মৃত্যু গুজব ছড়িয়ে মিছিল নিয়ে এসে থানায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীদের মারধরে পুলিশের অন্তত ছয়জন সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ সদস্যদের প্রতিরোধের মুখে কয়েকজন হামলাকারী আহত হয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে আগৈলঝাড়া থানায় এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ।

 

তিনি জানান, ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

 

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আ. হালিম, সিপাহী লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আলামিন হোসেন ও মেহেদী হাসান। তাদের মধ্যে আ. হালিমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

হামলাকারীদের মধ্যে আহতরা হলেন, আসামির মা নাছরিন বেগম, বোন শারমিন আক্তার ও স্থানীয় বাসিন্দা মমতাজ বেগম। শারমিন আক্তার ও মমতাজ বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ ফকিরকে একটি চুরির মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রিয়াজ থানার ভেতর দেয়ালের সঙ্গে নিজের মাথা আঘাত করে অচেতন হয়ে পড়েন। তাকে বুধবার রাত ১১টায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। জ্ঞান না ফেরায় রাতেই তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে রিয়াজ মারা গেছেন বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তার স্বজনসহ এলাকার শতাধিক বাসিন্দা মিছিল নিয়ে গিয়ে থানায় হামলা চালান। তারা পুলিশ সদস্যদের মারধর করেন। পুলিশ সদস্যরা পাল্টা হামলাকারীদের মারধর করেন।

 

রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির বলেন, আমার ছেলেকে রাস্তা থেকে বিনা অপরাধে পুলিশ ধরে নিয়ে মারধর করেছে। আমরা পরে জেনেছি সে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মাদ মাসুদ খান বলেন, চুরির মামলায় রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে রিয়াজের স্বজনসহ শতাধিক লোকজন মিছিল নিয়ে থানায় হামলা করে পুলিশ সদস্যদের মারধর করেছে। থানায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।