ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ওয়ারিশ সূত্রে’ কে ইনকিলাব সেন্টারের দাবি করেছে, প্রশ্ন ওসমান হাদির বোনের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের শীর্ষ পদের দায়িত্বশীল কয়েকজনের পদত্যাগ ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের চেয়ারম্যানের পদ ছাড়ার কথা জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল জাবের। পাশাপাশি দায়িত্ব ছেড়েছেন এই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ফাতিমা তাসনিম জুমা। দায়িত্ব ছাড়ার কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছেন, সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা শরীফ ওসমান বিন হাদির ‘ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে’ এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

তবে তাদের এ ঘোষণায় প্রশ্ন তুলেছেন সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা নিহত শরীফ ওসমান বিন হাদির বোন মাসুমা হাদি। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে উত্তরাধিকার সূত্রে আমার ভাইয়ের সকল কিছুর উত্তরাধিকারী একমাত্র আমার মা এবং ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তান। এই তিনজনের মধ্যে কে সেন্টারের দাবি করছে?

 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৮টা ৪৯ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে তিনি এ প্রশ্ন রাখেন।

 

ভাইয়ের মৃত্যুর পর ‘একেকটা ইস্যু সামনে এনে’ তাকে ‘হত্যাযোগ্য করে তুলছে’—এমন দাবি করে ফেসবুক পোস্টে মাসুমা হাদি লেখেন, ‘আমার কী বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই? গতকাল সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারলাম ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার থেকে কমিটির দায়িত্বশীল কয়েকজন পদত্যাগ করছেন। আমার প্রশ্ন হলো পদত্যাগ করা কিংবা না করা একান্তই তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা।’

 

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কিন্তু ওয়ারিশ সূত্রে পরিবার, কালচারাল সেন্টারের দায়িত্ব বুঝে নিতে চায়, এই মিথ্যাচার করার মানে কী?’ কোরানিক ও বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে উত্তরাধিকার সূত্রে আমার ভাইয়ের সকল কিছুর উত্তরাধিকারী একমাত্র আমার মা এবং ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তান। এই তিন জনের মধ্যে কে সেন্টারের দাবি করছে?’

 

ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের ‘কোনো পদ বা পদবি কিছুই চাননি’ উল্লেখ করে মাসুমা হাদি লেখেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের লড়াইয়ের মধ্যে বেঁচে থাকতে চেয়েছিলাম। নির্বাচন করতে চেয়েছি, ভাইয়ের কবর স্থায়ীকরণ, স্থায়ী নেইমপ্লেট স্থাপন, ভাইকে শহীদের তালিকায় গেজেটভুক্ত করা, ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের সকলের সহযোগিতা নিয়ে এই কাজগুলো সম্পন্ন করতে চেয়েছি। ওখানে কোনো পদ বা পদবি কিছুই চাইনি, শুধু আমার ভাইয়ের লড়াইয়ের মধ্যে সেন্টারের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে থেকে বাঁচতে চেয়েছিলাম।’

 

কিন্তু শুরু থেকেই কেউ তার ফোনকল পর্যন্ত রিসিভ করেনি জানিয়ে তিনি পোস্টে বলেন, ‘কোরবানির সময় সেন্টার (ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার) থেকে খালিদ সাইফুল্লাহসহ তিনজন আমার কাছে এসেছিল, আমাকে সেন্টারে নেওয়ার জন্য। ওরা বললো, ‘‘আপা যা কিছু হয়েছে সব ভুলে সেন্টারে চলেন’’। আমি ওদেরকে এতটুকুই বলেছি, আমার ওখানে তো কোনো কাজ নেই, আমি থাকি নলছিটি। যা হারাবার তা তো হারিয়েছি, আমার হারানোর আর কিছুই নাই, আমি যে কাজগুলো করতে চেয়েছি সেগুলো এখন অনেক জটিল হয়ে গেছে, সেগুলো করা এখন আর অত সহজ না। তাই তোমারা তোমাদের মতো কাজ করে যাও,শুধু ওসমান গণির আদর্শের ওপর থেকো, এর বেশি কিছু আর চাওয়ার নাই।’

 

‘কিন্তু হঠাৎ করেই গতকাল দেখলাম, পরিবারের উপর দায় চাপিয়ে সদস্যরা পদত্যাগ করছেন, কেন এই দুরভীসন্ধি? কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে? একজন শহীদের পরিবারকে বিতর্কিত করার মানে কী?’ বলে প্রশ্ন তুলেছেন নিহত ওসমান হাদির বোন।

 

পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘আমি যতদূর জানি, ওমর হাদি সেন্টারে প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দায়িত্বশীল পদে রয়েছে, সেই হিসেবে ওমরকে সেন্টারের ব্যাংক একাউন্টের নমিনি করা হয়েছে, মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট অটোমেটিক ফ্রিজ হয়ে যায়। ওমর যেহেতু দেশের বাইরে আছে, ওর সঙ্গে কথা বলে কীভাবে কী করা যায়, সমাধান করে নিলেই পারতো।’

 

‘কেন এই মিথ্যাচার’—এমন প্রশ্ন তুলে মাসুমা বলেন, ‘এখান থেকে বেরিয়ে এসে একমাত্র ইনসাফের পথে থেকে সব ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করাই একমাত্র লক্ষ্য হাওয়া দরকার।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘কালচারাল সেন্টার একক কোনো ব্যক্তি বা মালিকানা নয়। এটা বাংলাদেশপন্থী সাধারণ জনগণের, যা জনগণের অর্থায়নেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ডানপন্থীদের বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান। এটাকে ধ্বংস করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চলছে।’

 

ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারকে ‘ধ্বংস করার মিশন কোনোভাবেই বাস্তবায়ন করতে দেওয়া যাবে না’—এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে মাসুমা হাদি পোস্টের শেষে বলেন, ‘আমার ভাই বলেছিলেন, জুলাইয়ের সঙ্গে যদি কেউ গাদ্দারি করে আমার মা আমার মা না, আমার বাপ আমার বাপ না, আমার সন্তান আমার সন্তান না। তার সঙ্গে আমি (মাসুমা হাদি) আর একটা কথা যোগ করতে চাই, আমার ভাইয়ের সঙ্গে যারা গাদ্দারি করবে সে যে-ই হোক, আমার কাছে সে কিছুই না।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ওয়ারিশ সূত্রে’ কে ইনকিলাব সেন্টারের দাবি করেছে, প্রশ্ন ওসমান হাদির বোনের

আপডেট সময় ১০:৫৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের শীর্ষ পদের দায়িত্বশীল কয়েকজনের পদত্যাগ ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের চেয়ারম্যানের পদ ছাড়ার কথা জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল জাবের। পাশাপাশি দায়িত্ব ছেড়েছেন এই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ফাতিমা তাসনিম জুমা। দায়িত্ব ছাড়ার কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছেন, সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা শরীফ ওসমান বিন হাদির ‘ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে’ এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

তবে তাদের এ ঘোষণায় প্রশ্ন তুলেছেন সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা নিহত শরীফ ওসমান বিন হাদির বোন মাসুমা হাদি। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে উত্তরাধিকার সূত্রে আমার ভাইয়ের সকল কিছুর উত্তরাধিকারী একমাত্র আমার মা এবং ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তান। এই তিনজনের মধ্যে কে সেন্টারের দাবি করছে?

 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৮টা ৪৯ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে তিনি এ প্রশ্ন রাখেন।

 

ভাইয়ের মৃত্যুর পর ‘একেকটা ইস্যু সামনে এনে’ তাকে ‘হত্যাযোগ্য করে তুলছে’—এমন দাবি করে ফেসবুক পোস্টে মাসুমা হাদি লেখেন, ‘আমার কী বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই? গতকাল সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারলাম ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার থেকে কমিটির দায়িত্বশীল কয়েকজন পদত্যাগ করছেন। আমার প্রশ্ন হলো পদত্যাগ করা কিংবা না করা একান্তই তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা।’

 

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কিন্তু ওয়ারিশ সূত্রে পরিবার, কালচারাল সেন্টারের দায়িত্ব বুঝে নিতে চায়, এই মিথ্যাচার করার মানে কী?’ কোরানিক ও বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে উত্তরাধিকার সূত্রে আমার ভাইয়ের সকল কিছুর উত্তরাধিকারী একমাত্র আমার মা এবং ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তান। এই তিন জনের মধ্যে কে সেন্টারের দাবি করছে?’

 

ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের ‘কোনো পদ বা পদবি কিছুই চাননি’ উল্লেখ করে মাসুমা হাদি লেখেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের লড়াইয়ের মধ্যে বেঁচে থাকতে চেয়েছিলাম। নির্বাচন করতে চেয়েছি, ভাইয়ের কবর স্থায়ীকরণ, স্থায়ী নেইমপ্লেট স্থাপন, ভাইকে শহীদের তালিকায় গেজেটভুক্ত করা, ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের সকলের সহযোগিতা নিয়ে এই কাজগুলো সম্পন্ন করতে চেয়েছি। ওখানে কোনো পদ বা পদবি কিছুই চাইনি, শুধু আমার ভাইয়ের লড়াইয়ের মধ্যে সেন্টারের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে থেকে বাঁচতে চেয়েছিলাম।’

 

কিন্তু শুরু থেকেই কেউ তার ফোনকল পর্যন্ত রিসিভ করেনি জানিয়ে তিনি পোস্টে বলেন, ‘কোরবানির সময় সেন্টার (ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার) থেকে খালিদ সাইফুল্লাহসহ তিনজন আমার কাছে এসেছিল, আমাকে সেন্টারে নেওয়ার জন্য। ওরা বললো, ‘‘আপা যা কিছু হয়েছে সব ভুলে সেন্টারে চলেন’’। আমি ওদেরকে এতটুকুই বলেছি, আমার ওখানে তো কোনো কাজ নেই, আমি থাকি নলছিটি। যা হারাবার তা তো হারিয়েছি, আমার হারানোর আর কিছুই নাই, আমি যে কাজগুলো করতে চেয়েছি সেগুলো এখন অনেক জটিল হয়ে গেছে, সেগুলো করা এখন আর অত সহজ না। তাই তোমারা তোমাদের মতো কাজ করে যাও,শুধু ওসমান গণির আদর্শের ওপর থেকো, এর বেশি কিছু আর চাওয়ার নাই।’

 

‘কিন্তু হঠাৎ করেই গতকাল দেখলাম, পরিবারের উপর দায় চাপিয়ে সদস্যরা পদত্যাগ করছেন, কেন এই দুরভীসন্ধি? কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে? একজন শহীদের পরিবারকে বিতর্কিত করার মানে কী?’ বলে প্রশ্ন তুলেছেন নিহত ওসমান হাদির বোন।

 

পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘আমি যতদূর জানি, ওমর হাদি সেন্টারে প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দায়িত্বশীল পদে রয়েছে, সেই হিসেবে ওমরকে সেন্টারের ব্যাংক একাউন্টের নমিনি করা হয়েছে, মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট অটোমেটিক ফ্রিজ হয়ে যায়। ওমর যেহেতু দেশের বাইরে আছে, ওর সঙ্গে কথা বলে কীভাবে কী করা যায়, সমাধান করে নিলেই পারতো।’

 

‘কেন এই মিথ্যাচার’—এমন প্রশ্ন তুলে মাসুমা বলেন, ‘এখান থেকে বেরিয়ে এসে একমাত্র ইনসাফের পথে থেকে সব ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করাই একমাত্র লক্ষ্য হাওয়া দরকার।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘কালচারাল সেন্টার একক কোনো ব্যক্তি বা মালিকানা নয়। এটা বাংলাদেশপন্থী সাধারণ জনগণের, যা জনগণের অর্থায়নেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ডানপন্থীদের বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান। এটাকে ধ্বংস করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চলছে।’

 

ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারকে ‘ধ্বংস করার মিশন কোনোভাবেই বাস্তবায়ন করতে দেওয়া যাবে না’—এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে মাসুমা হাদি পোস্টের শেষে বলেন, ‘আমার ভাই বলেছিলেন, জুলাইয়ের সঙ্গে যদি কেউ গাদ্দারি করে আমার মা আমার মা না, আমার বাপ আমার বাপ না, আমার সন্তান আমার সন্তান না। তার সঙ্গে আমি (মাসুমা হাদি) আর একটা কথা যোগ করতে চাই, আমার ভাইয়ের সঙ্গে যারা গাদ্দারি করবে সে যে-ই হোক, আমার কাছে সে কিছুই না।’