ঢাকা , বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘আমার কাছে কাজ করতে হলে ঘুষ দিতেই হবে’ সড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা, রাতের মধ্যে শর্ত না মানলে কাল লংমার্চ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সরকারের পরিণতি আ.লীগের মতো হবে: সারজিস এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ভুল, ৪ শিক্ষককে শোকজ গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসতে হবে বন্যায় শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে পরীক্ষা পেছানোর আহ্বান রিজভীর পরীক্ষায় শেখ মুজিবকে নিয়ে প্রশ্ন, সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পছন্দের রেফারি পেয়েছেন মেসি! চেয়ারম্যান প্রার্থীর কাছে টাকা চেয়ে দুই ভুয়া ডিজিএফআই সদস্য গ্রেপ্তার ইরানে আরও শক্তিশালী হামলা চালানো হবে: নেতানিয়াহু

জুলাই গণঅভ্যুত্থান: আজকের দিনেই আন্দোলন উসকে দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৬৫ বার পড়া হয়েছে

গত ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আন্দোলনের আগুনে ঘি ঢালে তৎকালীন স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাররাজাকারের বাচ্চাবলে করা মন্তব্যটি। এর প্রতিবাদে রাতেই উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ দেশের প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মূলত এ মন্তব্যকে ঘিরেই নড়ে ওঠে আওয়ামী লীগের ক্ষমতার মসনদ। 

১৪ জুলাই ২০২৪, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার উদ্দেশে পদযাত্রায় অংশ নিতে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। এরপর বেলা ১২টার দিকে কোটা সংস্কারের দাবিতেবৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনেরব্যানারে বঙ্গভবনের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, ঢাকা কলেজ, ইডেন, জগন্নাথসহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যোগ দেয়। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাহবাগ, মৎসভবন এবং সচিবালয় হয়ে বঙ্গভবনের দিকে এগোলে গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে পুলিশ বাঁধার মুখে পড়ে পদযাত্রা। ওইসময় সচিবালয়ের সামনে সড়কে বসে পড়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে ধীরে ধীরে পদযাত্রাটি মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামের সামনে গেলে সেখানে আটকে দেয়া হয় শিক্ষার্থীদের।  সেখান থেকে ১২ জনের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি জমা দিতে যায়। তারা রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবের কাছে স্মারক লিপি দেয়। ওইসময় ২৪ ঘন্টার মধ্যে কোনো সুরাহা না হলে পরবর্তী কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেয় আন্দোলনকারীরা। কিন্তু তাদের আন্দোলনকে উসকে দেয় তৎকালীন স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাররাজাকারের বাচ্চাবলে করা মন্তব্যটি।

চীন সফর থেকে এসে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে এই এক বক্তব্যেই বারুদের মতো জ্বলে উঠেছিলো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। দাবানল ছড়িয়ে পরেছিলো দীর্ঘ ১৬ বছরে চেতনার মোড়কে রাজনীতি করে যাওয়া স্বৈরাচারের মসনদে। রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শুরু হয় বিক্ষোভ। রাজাকার রাজাকার স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো দেশ। যদিও ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের প্রতিহত করতে মধ্যরাতেই শাহবাগে তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মো. এ আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি নিখিলের নেতৃত্বে আওয়ীমী লীগ. যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সগযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়।  তাতেও থামানো যায়নি বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের। ভোরের আলো ফুটার সাথে সাথে আবারও রাজপথে নামেন তারা। যা নড়বড়ে করে দেয় স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৬ বছরের ক্ষমতার মসনদ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘আমার কাছে কাজ করতে হলে ঘুষ দিতেই হবে’

জুলাই গণঅভ্যুত্থান: আজকের দিনেই আন্দোলন উসকে দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা

আপডেট সময় ১২:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

গত ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আন্দোলনের আগুনে ঘি ঢালে তৎকালীন স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাররাজাকারের বাচ্চাবলে করা মন্তব্যটি। এর প্রতিবাদে রাতেই উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ দেশের প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মূলত এ মন্তব্যকে ঘিরেই নড়ে ওঠে আওয়ামী লীগের ক্ষমতার মসনদ। 

১৪ জুলাই ২০২৪, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার উদ্দেশে পদযাত্রায় অংশ নিতে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। এরপর বেলা ১২টার দিকে কোটা সংস্কারের দাবিতেবৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনেরব্যানারে বঙ্গভবনের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, ঢাকা কলেজ, ইডেন, জগন্নাথসহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যোগ দেয়। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাহবাগ, মৎসভবন এবং সচিবালয় হয়ে বঙ্গভবনের দিকে এগোলে গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে পুলিশ বাঁধার মুখে পড়ে পদযাত্রা। ওইসময় সচিবালয়ের সামনে সড়কে বসে পড়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে ধীরে ধীরে পদযাত্রাটি মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামের সামনে গেলে সেখানে আটকে দেয়া হয় শিক্ষার্থীদের।  সেখান থেকে ১২ জনের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি জমা দিতে যায়। তারা রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবের কাছে স্মারক লিপি দেয়। ওইসময় ২৪ ঘন্টার মধ্যে কোনো সুরাহা না হলে পরবর্তী কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেয় আন্দোলনকারীরা। কিন্তু তাদের আন্দোলনকে উসকে দেয় তৎকালীন স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাররাজাকারের বাচ্চাবলে করা মন্তব্যটি।

চীন সফর থেকে এসে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে এই এক বক্তব্যেই বারুদের মতো জ্বলে উঠেছিলো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। দাবানল ছড়িয়ে পরেছিলো দীর্ঘ ১৬ বছরে চেতনার মোড়কে রাজনীতি করে যাওয়া স্বৈরাচারের মসনদে। রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শুরু হয় বিক্ষোভ। রাজাকার রাজাকার স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো দেশ। যদিও ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের প্রতিহত করতে মধ্যরাতেই শাহবাগে তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মো. এ আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি নিখিলের নেতৃত্বে আওয়ীমী লীগ. যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সগযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়।  তাতেও থামানো যায়নি বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের। ভোরের আলো ফুটার সাথে সাথে আবারও রাজপথে নামেন তারা। যা নড়বড়ে করে দেয় স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৬ বছরের ক্ষমতার মসনদ।