ঢাকা , শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইরানের হামলায় কুয়েতে বিমানবন্দর বন্ধ, বিদ্যুৎকেন্দ্র-পানি শোধনাগারে আগুন ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য ‘কুমিরবেষ্টিত কারাগার’ পরিকল্পনা, আইনি প্রক্রিয়া শুরু ইসরায়েলে শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যার পর আড্ডা বন্ধের নির্দেশ হরমুজে ইরানের মাইন পাতা এলাকায় দুই তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ নিয়ে যা বললেন জয়সওয়াল মেসির সাফল্যের পেছনে রোকুজ্জো,বললেন শাকিরা স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনালে হাফটাইম ১৭ মিনিট, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ফিফার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি ফ্রান্স-ইংল্যান্ড, এমবাপ্পের চোখ গোল্ডেন বুটে আমরা কী অর্জন করেছি তা ভাবলে চোখে পানি চলে আসে: এমি মার্তিনেজ শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা সভ্য রাষ্ট্রে মানায় না: নাসীরুদ্দীন

আমরা কী অর্জন করেছি তা ভাবলে চোখে পানি চলে আসে: এমি মার্তিনেজ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৩৭:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে মহাকাব্যিক বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের অতন্দ্র প্রহরী এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।  সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলের অভাবনীয় সাফল্যের কথা মনে করলেই মাঝে মধ্যে তার চোখে পানি চলে আসে বলে শুক্রবার (১৭ জুলাই) নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান এই অ্যাস্টন ভিলা গোলরক্ষক। তবে এই আবেগের মাঝেই টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখার মিশনে তিনি পুরোপুরি মনোযোগী।

মার্তিনেজ বলেন, ‘আমি এখন কেবলই জয়ের দিকে তাকিয়ে আছি। পুরো দল গত কয়েক বছরে এতটা উন্নতি করেছে, যা আমরা বছরের পর বছর ধরে একটু একটু করে গড়ে তুলেছি। সত্যি বলতে, মাঝে মধ্যে আমরা কী অর্জন করেছি তা একা একা ভাবলে আমার চোখে পানি চলে আসে। আমি শুধু এই মুহূর্তটা উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কারণ অনেক সময় ফুটবলার হিসেবে আমরা নিজেরাও বুঝতে পারি না যে ক্যারিয়ারের কোন চূড়ায় আমরা দাঁড়িয়ে আছি।’ 

দলের সতীর্থদের উদ্দেশ্যে এই ৩৩ বছর বয়সি তারকা বলেন, ‘সহযোদ্ধাদের প্রতি আমার একটাই বার্তাএই মুহূর্তটা উপভোগ করো এবং মুখে হাসি নিয়ে প্রস্তুতি নাও। এটা এমন এক স্মৃতি যা আমরা আজীবন মনে রাখব।’  ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউটে জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে কোলো মুয়ানির নিশ্চিত গোল আটকে দিয়ে আর্জেন্টিনার ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছেনদিবুমার্তিনেজ। 

সেই ম্যাচের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘গত ফাইনালে ফ্রান্স পেনাল্টি পাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রথম ৮০ মিনিট আমরা ওদের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা তিনটি গোল খেয়ে বসি, আর ফাইনালে তিনটি গোল হজম করলে সাধারণত ম্যাচ হারার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। একদম শেষ মুহূর্তে আমাকে ওই সেভটা করতেই হতো। মাঝে মধ্যে বল গায়ে লেগে ভেতরে ঢুকে যায়, যেমনটা এবার গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিপক্ষে হয়েছিল। সেদিন তো বল আমার পায়ের মাঝখান দিয়ে গলে যায়। সৌভাগ্যবশত, সেদিনের ফাইনালে তেমন কিছু হয়নি।’ 

মে মাসে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ইউরোপা লিগের ফাইনালে আঙুল ভেঙে ইনজুরি নিয়ে এবারের টুর্নামেন্টে এলেও, ২০২২ সালের চেয়ে এবারের বিশ্বকাপ সফরটি অনেক বেশি উপভোগ করছেন বলে জানান তিনি।  মার্তিনেজের মতে, এখন তার বল পাসিং ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আরও উন্নত হয়েছে। আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের পঞ্চম ফাইনাল খেলতে পারায় তিনি চিরকৃতজ্ঞ।

রোববার স্পেনকে হারাতে পারলে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য এক কীর্তি গড়বে আলবিসেলেস্তেরা। নিজেদের লিগ্যাসি বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দলের পরিচয় কেমন হবেএমন প্রশ্নের জবাবে মার্তিনেজ বলেন, ‘আমাদের দলের সব খেলোয়াড়ই উঠে এসেছে খেটে খাওয়া সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে। আমাদের বাবামায়েদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। আমি মনে করি, আর্জেন্টিনার মানুষ আমাদের কঠোর পরিশ্রমী হিসেবেই মনে রাখবে, যারা কখনো পরাজয় মেনে নেয় না। যতই কঠিন পরিস্থিতি আসুক না কেন, আমরা ঠিকই পথ খুঁজে নিইযেমনটা এই বিশ্বকাপেও করে দেখিয়েছি।’ 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের হামলায় কুয়েতে বিমানবন্দর বন্ধ, বিদ্যুৎকেন্দ্র-পানি শোধনাগারে আগুন

আমরা কী অর্জন করেছি তা ভাবলে চোখে পানি চলে আসে: এমি মার্তিনেজ

আপডেট সময় ০১:৩৭:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে মহাকাব্যিক বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের অতন্দ্র প্রহরী এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।  সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলের অভাবনীয় সাফল্যের কথা মনে করলেই মাঝে মধ্যে তার চোখে পানি চলে আসে বলে শুক্রবার (১৭ জুলাই) নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান এই অ্যাস্টন ভিলা গোলরক্ষক। তবে এই আবেগের মাঝেই টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখার মিশনে তিনি পুরোপুরি মনোযোগী।

মার্তিনেজ বলেন, ‘আমি এখন কেবলই জয়ের দিকে তাকিয়ে আছি। পুরো দল গত কয়েক বছরে এতটা উন্নতি করেছে, যা আমরা বছরের পর বছর ধরে একটু একটু করে গড়ে তুলেছি। সত্যি বলতে, মাঝে মধ্যে আমরা কী অর্জন করেছি তা একা একা ভাবলে আমার চোখে পানি চলে আসে। আমি শুধু এই মুহূর্তটা উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কারণ অনেক সময় ফুটবলার হিসেবে আমরা নিজেরাও বুঝতে পারি না যে ক্যারিয়ারের কোন চূড়ায় আমরা দাঁড়িয়ে আছি।’ 

দলের সতীর্থদের উদ্দেশ্যে এই ৩৩ বছর বয়সি তারকা বলেন, ‘সহযোদ্ধাদের প্রতি আমার একটাই বার্তাএই মুহূর্তটা উপভোগ করো এবং মুখে হাসি নিয়ে প্রস্তুতি নাও। এটা এমন এক স্মৃতি যা আমরা আজীবন মনে রাখব।’  ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউটে জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে কোলো মুয়ানির নিশ্চিত গোল আটকে দিয়ে আর্জেন্টিনার ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছেনদিবুমার্তিনেজ। 

সেই ম্যাচের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘গত ফাইনালে ফ্রান্স পেনাল্টি পাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রথম ৮০ মিনিট আমরা ওদের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা তিনটি গোল খেয়ে বসি, আর ফাইনালে তিনটি গোল হজম করলে সাধারণত ম্যাচ হারার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। একদম শেষ মুহূর্তে আমাকে ওই সেভটা করতেই হতো। মাঝে মধ্যে বল গায়ে লেগে ভেতরে ঢুকে যায়, যেমনটা এবার গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিপক্ষে হয়েছিল। সেদিন তো বল আমার পায়ের মাঝখান দিয়ে গলে যায়। সৌভাগ্যবশত, সেদিনের ফাইনালে তেমন কিছু হয়নি।’ 

মে মাসে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ইউরোপা লিগের ফাইনালে আঙুল ভেঙে ইনজুরি নিয়ে এবারের টুর্নামেন্টে এলেও, ২০২২ সালের চেয়ে এবারের বিশ্বকাপ সফরটি অনেক বেশি উপভোগ করছেন বলে জানান তিনি।  মার্তিনেজের মতে, এখন তার বল পাসিং ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আরও উন্নত হয়েছে। আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের পঞ্চম ফাইনাল খেলতে পারায় তিনি চিরকৃতজ্ঞ।

রোববার স্পেনকে হারাতে পারলে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য এক কীর্তি গড়বে আলবিসেলেস্তেরা। নিজেদের লিগ্যাসি বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দলের পরিচয় কেমন হবেএমন প্রশ্নের জবাবে মার্তিনেজ বলেন, ‘আমাদের দলের সব খেলোয়াড়ই উঠে এসেছে খেটে খাওয়া সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে। আমাদের বাবামায়েদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। আমি মনে করি, আর্জেন্টিনার মানুষ আমাদের কঠোর পরিশ্রমী হিসেবেই মনে রাখবে, যারা কখনো পরাজয় মেনে নেয় না। যতই কঠিন পরিস্থিতি আসুক না কেন, আমরা ঠিকই পথ খুঁজে নিইযেমনটা এই বিশ্বকাপেও করে দেখিয়েছি।’