ঢাকা , সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আর্জেন্টিনাকে সমর্থন দিয়ে ট্রাম্প বললেন, ‘মেসির বিপক্ষে বাজি ধরা কঠিন’ স্পেনের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি দেখতে চায় গাজাবাসী ‘জুলাইয়ের চেতনা’ দিয়ে ব্যবসা না করার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল পেরু, বহু হতাহত মার্কিন ‘লুকাস’ ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান ‘জুলাই আন্দোলন ছিল দেশের যুবসমাজ ও সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত সংগ্রাম’ জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ধ্বংসাবশেষ পড়ল ইসরায়েলে জামায়াতের উত্থান বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: নুর বিতর্ক এড়াতে আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালে সাত দেশের রেফারি আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালের আগে জানা গেল আবহাওয়া পরিস্থিতি, ম্যাচ কি পেছাবে?

ট্রাম্পকে ‘মহাশয়তান’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ৪৫ বার পড়া হয়েছে

এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেমহাশয়তানআখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর শিক্ষা দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত রাখলে দেশটির জন্যঅবিস্মরণীয় শিক্ষাঅপেক্ষা করছে। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, দুই দেশের মধ্যে গত মাসে হওয়া সমঝোতা বারবার লঙ্ঘন করেছে ওয়াশিংটন।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, শনিবার (১৮ জুলাই) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মোজতবা খামেনির নামে পাঠ করা একটি লিখিত বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। এতে বলা হয়, গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বারবার লঙ্ঘনের মাধ্যমে ওয়াশিংটন প্রমাণ করেছে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনও মূল্য বা বৈধতা নেই। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চুক্তির ক্ষেত্রে মহাশয়তান বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে আবারও সবার কাছে প্রমাণ করেছে যে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর এখন সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অবৈধ। দাদাগিরি, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতা আমেরিকার নীতি ও মতবাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এতে আরও বলা হয়, ‘এখন আমেরিকা যখন যুদ্ধ আরও উসকে দিতে চায় এবং আরও বড় মূল্য ও অপমান ডেকে আনতে চায়, তখন তাদের জেনে রাখা উচিতপ্রিয় ইরানি জাতি এবং প্রতিরোধ ফ্রন্ট তাদের জন্য অবিস্মরণীয় শিক্ষা প্রস্তুত করে রেখেছে।প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইরানে হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেতু, রেলপথ এবং সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে। এর জবাবে কুয়েতের বেসামরিক অবকাঠামোতে সফলভাবে হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। এরপর দেশটির কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধকে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছে। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বাড়তে থাকা চাপের কাছে নতি স্বীকারের কোনও লক্ষণ দেখাচ্ছে না তেহরান। একই সময়ে পর্দার আড়ালে আঞ্চলিক দেশগুলো সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মোজতবা খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তারআসল চেহারাপ্রকাশ করেছে। এতে দেশটিরপ্রতারণা, অযৌক্তিকতা, অবিশ্বাসযোগ্যতা ও অসৎ চরিত্রসামনে এসেছে। তিনি দেশের নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে ইরানিদের সতর্ক ও সক্রিয় থাকারও আহ্বান জানান।

এদিকে সাম্প্রতিক কয়েক দিনে এমন খবরও সামনে এসেছে যে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ইয়েমেনের হুথিরা লোহিত সাগরে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পথ বাব আলমান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। এমনটি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হবে, মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং হামলা বন্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হবে। আর এমন অবস্থায় এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে এটি মার্কিন অর্থনীতিরও ক্ষতি করেছে। গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের পরিবেশ তৈরি করা। তবে পরে একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয়েই সেই সমঝোতা আর কার্যকর নেই বলে ঘোষণা দেয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনাকে সমর্থন দিয়ে ট্রাম্প বললেন, ‘মেসির বিপক্ষে বাজি ধরা কঠিন’

ট্রাম্পকে ‘মহাশয়তান’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির

আপডেট সময় ১০:০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেমহাশয়তানআখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর শিক্ষা দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত রাখলে দেশটির জন্যঅবিস্মরণীয় শিক্ষাঅপেক্ষা করছে। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, দুই দেশের মধ্যে গত মাসে হওয়া সমঝোতা বারবার লঙ্ঘন করেছে ওয়াশিংটন।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, শনিবার (১৮ জুলাই) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মোজতবা খামেনির নামে পাঠ করা একটি লিখিত বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। এতে বলা হয়, গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বারবার লঙ্ঘনের মাধ্যমে ওয়াশিংটন প্রমাণ করেছে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনও মূল্য বা বৈধতা নেই। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চুক্তির ক্ষেত্রে মহাশয়তান বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে আবারও সবার কাছে প্রমাণ করেছে যে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর এখন সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অবৈধ। দাদাগিরি, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতা আমেরিকার নীতি ও মতবাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এতে আরও বলা হয়, ‘এখন আমেরিকা যখন যুদ্ধ আরও উসকে দিতে চায় এবং আরও বড় মূল্য ও অপমান ডেকে আনতে চায়, তখন তাদের জেনে রাখা উচিতপ্রিয় ইরানি জাতি এবং প্রতিরোধ ফ্রন্ট তাদের জন্য অবিস্মরণীয় শিক্ষা প্রস্তুত করে রেখেছে।প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইরানে হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেতু, রেলপথ এবং সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে। এর জবাবে কুয়েতের বেসামরিক অবকাঠামোতে সফলভাবে হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। এরপর দেশটির কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধকে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছে। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বাড়তে থাকা চাপের কাছে নতি স্বীকারের কোনও লক্ষণ দেখাচ্ছে না তেহরান। একই সময়ে পর্দার আড়ালে আঞ্চলিক দেশগুলো সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মোজতবা খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তারআসল চেহারাপ্রকাশ করেছে। এতে দেশটিরপ্রতারণা, অযৌক্তিকতা, অবিশ্বাসযোগ্যতা ও অসৎ চরিত্রসামনে এসেছে। তিনি দেশের নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে ইরানিদের সতর্ক ও সক্রিয় থাকারও আহ্বান জানান।

এদিকে সাম্প্রতিক কয়েক দিনে এমন খবরও সামনে এসেছে যে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ইয়েমেনের হুথিরা লোহিত সাগরে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পথ বাব আলমান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। এমনটি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হবে, মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং হামলা বন্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হবে। আর এমন অবস্থায় এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে এটি মার্কিন অর্থনীতিরও ক্ষতি করেছে। গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের পরিবেশ তৈরি করা। তবে পরে একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয়েই সেই সমঝোতা আর কার্যকর নেই বলে ঘোষণা দেয়।