এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পেপার ফাঁস মামলায় দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছে ‘ককক্রোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সংগঠনটি এ উদ্যোগকে “বিভ্রান্তিমূলক পদক্ষেপ” আখ্যা দিয়ে বলেছে, এতে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস সংকটের মূল সমস্যার সমাধান হবে না। একই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে তারা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পেপার ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই সিজেপি তাদের প্রতিক্রিয়া জানায়। এক্সে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বার্তায় সংগঠনটি লিখেছে, “ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চাই।”
এর আগে সিজেপির নেতা অভিজিৎ দীপকে প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট কোট করে একটি ছবি শেয়ার করেন। ছবিতে শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করা হয়। এর মাধ্যমে সংগঠনটি অভিযোগ করে, সরকার শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি এড়িয়ে যাচ্ছে। পরে দেওয়া এক বিবৃতিতে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রানকা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পেছনের মূল সমস্যার সমাধান করছে না। তিনি বলেন, “দ্রুত বিচার আদালতের ঘোষণা কোনো প্রকৃত সমাধান নয়। এটি কেবল বিভ্রান্তি তৈরির একটি পদক্ষেপ। দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে এটি একটি নিষ্ঠুর রসিকতা।”
রানকা দাবি করেন, ভারতে পেপার ফাঁস হচ্ছে দ্রুত বিচার আদালতের অভাবে নয়, বরং শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ব্যর্থতার কারণে। তিনি বলেন, “তিনি একটি নিরাপদ ও ত্রুটিমুক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। দেশের তরুণরা এখন সবার আগে জবাবদিহি চাইছে।” কেন্দ্রের প্রস্তাবকে অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত সমাধান অনেকটা ভাঙা হাড়ে ব্যান্ডেজ লাগানোর মতো। সমস্যার শিকড় আরও গভীরে। পরীক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা দূর না করা হলে পেপার ফাঁস বন্ধ হবে না।” তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার প্রতিশ্রুতি নয়, বরং তাৎক্ষণিক বিচার ও জবাবদিহি চায়।
দেশজুড়ে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বিক্ষোভের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানান। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, “আমাদের যুবসমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নেই।” তিনি আরও বলেন, “পেপার ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় এটি সরকারের ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ।” মোদি সতর্ক করে বলেন, “যারা আমাদের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।” প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দিল্লিতে সিজেপির নেতৃত্বে বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনকারীরা কেন্দ্র সরকারের কাছে জবাবদিহির দাবি জানাচ্ছেন।
গত কয়েক দিনে আন্দোলন আরও জোরদার হয়েছে। হাজারো শিক্ষার্থী ও সমর্থক দিল্লির জন्तर মন্তরসহ আশপাশের এলাকায় জড়ো হয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিজেপি সরকারের পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছে, বিরোধীরা বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানসহ বিজেপির নেতারা এ অভিযোগ করেছেন। তবে সিজেপি জানিয়েছে, তাদের মূল দাবি অপরিবর্তিত রয়েছে—শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পরীক্ষায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা। সিজেপির দাবিগুলো হলো– শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার। আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। সিজেপি জানিয়েছে, কেন্দ্র তাদের দাবিগুলো মেনে না নেওয়া পর্যন্ত দেশব্যাপী আন্দোলন চালিয়ে যাবে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

ডেস্ক রিপোর্ট 

























