ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধ্বংসস্তূপে পবিত্র কোরআন খুঁজছেন এক ফিলিস্তিনি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:০৮:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

গাজার চারদিকে শুধু ধ্বংসস্তূপ। ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, মসজিদ আর জনপদ। কিন্তু এই ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও নীরবে চলছে এক ভিন্ন লড়াই—পবিত্র কোরআনের ক্ষতিগ্রস্ত কপিগুলো সংরক্ষণের লড়াই।

শহরের একটি ফুটপাতে বসে ষাটোর্ধ্ব আলহাজ রাফাত জাবের যত্নের সঙ্গে মেরামত করছেন আগুনে পোড়া ও ছিন্নভিন্ন কোরআনের কপিগুলো। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া এসব কোরআন স্থানীয় বাসিন্দারা তার কাছে নিয়ে আসেন। আধুনিক কোনো যন্ত্রপাতি নেই, নেই উন্নত বাঁধাইয়ের ব্যবস্থা। সাধারণ আঠা আর নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি ছেঁড়া পাতা জোড়া লাগান, ক্ষতিগ্রস্ত প্রচ্ছদ নতুন করে বাঁধাই করেন।

যুদ্ধের কারণে গাজায় নতুন কোরআনের কপি পৌঁছানো প্রায় বন্ধ। ফলে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া ক্ষতিগ্রস্ত কপিগুলোই এখন অনেক মানুষের একমাত্র ভরসা। এমন বাস্তবতায় রাফাত জাবেরের এই উদ্যোগ শুধু বই মেরামতের কাজ নয়, বরং ধর্মীয় ঐতিহ্য ও বিশ্বাস রক্ষার এক নীরব প্রতীক হয়ে উঠেছে।

রাফাত জাবের জানান, প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে তিনি প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয়টির বেশি কোরআন মেরামত করতে পারেন না। তবু তার বিশ্বাস, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সামান্য কাজও অনেক মূল্যবান।

প্রায় তিন দশক ধরে বই বাঁধাইয়ের কাজ করছেন তিনি। যুদ্ধের আগে গাজার একটি বাজারে ছিল তার নিজস্ব দোকান। কিন্তু যুদ্ধ সেই জীবন কেড়ে নিয়েছে। এখন খোলা আকাশের নিচে, ধ্বংসস্তূপের পাশেই সীমিত উপকরণ নিয়ে একই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তিনি।

রাফাত জাবেরের ভাষায়, সব প্রতিকূলতার মধ্যেও আল্লাহর কালামের খিদমত করার সুযোগই তাকে শক্তি ও প্রেরণা জোগায়। আর সেই বিশ্বাস নিয়েই ধ্বংসস্তূপের মাঝেও তিনি চেষ্টা করে চলেছেন গাজার মানুষের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও আশা-ভরসার একটি অংশ বাঁচিয়ে রাখতে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ধ্বংসস্তূপে পবিত্র কোরআন খুঁজছেন এক ফিলিস্তিনি

আপডেট সময় ১২:০৮:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

গাজার চারদিকে শুধু ধ্বংসস্তূপ। ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, মসজিদ আর জনপদ। কিন্তু এই ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও নীরবে চলছে এক ভিন্ন লড়াই—পবিত্র কোরআনের ক্ষতিগ্রস্ত কপিগুলো সংরক্ষণের লড়াই।

শহরের একটি ফুটপাতে বসে ষাটোর্ধ্ব আলহাজ রাফাত জাবের যত্নের সঙ্গে মেরামত করছেন আগুনে পোড়া ও ছিন্নভিন্ন কোরআনের কপিগুলো। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া এসব কোরআন স্থানীয় বাসিন্দারা তার কাছে নিয়ে আসেন। আধুনিক কোনো যন্ত্রপাতি নেই, নেই উন্নত বাঁধাইয়ের ব্যবস্থা। সাধারণ আঠা আর নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি ছেঁড়া পাতা জোড়া লাগান, ক্ষতিগ্রস্ত প্রচ্ছদ নতুন করে বাঁধাই করেন।

যুদ্ধের কারণে গাজায় নতুন কোরআনের কপি পৌঁছানো প্রায় বন্ধ। ফলে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া ক্ষতিগ্রস্ত কপিগুলোই এখন অনেক মানুষের একমাত্র ভরসা। এমন বাস্তবতায় রাফাত জাবেরের এই উদ্যোগ শুধু বই মেরামতের কাজ নয়, বরং ধর্মীয় ঐতিহ্য ও বিশ্বাস রক্ষার এক নীরব প্রতীক হয়ে উঠেছে।

রাফাত জাবের জানান, প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে তিনি প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয়টির বেশি কোরআন মেরামত করতে পারেন না। তবু তার বিশ্বাস, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সামান্য কাজও অনেক মূল্যবান।

প্রায় তিন দশক ধরে বই বাঁধাইয়ের কাজ করছেন তিনি। যুদ্ধের আগে গাজার একটি বাজারে ছিল তার নিজস্ব দোকান। কিন্তু যুদ্ধ সেই জীবন কেড়ে নিয়েছে। এখন খোলা আকাশের নিচে, ধ্বংসস্তূপের পাশেই সীমিত উপকরণ নিয়ে একই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তিনি।

রাফাত জাবেরের ভাষায়, সব প্রতিকূলতার মধ্যেও আল্লাহর কালামের খিদমত করার সুযোগই তাকে শক্তি ও প্রেরণা জোগায়। আর সেই বিশ্বাস নিয়েই ধ্বংসস্তূপের মাঝেও তিনি চেষ্টা করে চলেছেন গাজার মানুষের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও আশা-ভরসার একটি অংশ বাঁচিয়ে রাখতে।