ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তদন্তের মুখে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন, দুই ম্যাচে সন্দেহ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:০৮:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ১৬ বছর পর অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের মিশনে নামা শক্তিশালী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একপেশে ফাইনালে ১-০ গোলের জয় তুলে নেয় তারা। তবে এই জয়োল্লাসের রেশ কাটতে না কাটতেই স্পেনের সাফল্য ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপের দুটি ম্যাচ সন্দেহজনক বেটিংয়ের তালিকায় আসায় তদন্তের মুখে পড়তে হতে পারে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’ জানিয়েছে, স্পোর্টিং ইভেন্টে সম্ভাব্য ম্যাচ পাতানো রোধ ও শাস্তি নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করা স্বাধীন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘গ্রুপ অব কোপেনহেগেন’ বিশ্বকাপের মোট সাতটি ম্যাচ চিহ্নিত করেছে। খেলার ফলাফলের বৈধতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় এসব ম্যাচের বিষয়ে ফিফার কাছে যথাযথ ব্যাখ্যা চেয়েছে সংস্থাটি, যার মধ্যে রয়েছে স্পেনের দুটি ম্যাচ।

বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল কেপ ভার্দে। আসরে তাদের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচেই স্প্যানিশদের কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছিল এবং ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়। ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্ম ‘পলি-মার্কেট’-এ এই ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে ব্যাপকহারে বাজি ধরা হয়েছিল যে, স্পেন শেষ পর্যন্ত কেপ ভার্দেকে হারাতে পারবে না।

এছাড়াও সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচে স্পেনের ফরোয়ার্ড ফেররান তোরেসের একটি গোল বাতিল করার ক্ষেত্রে ভিএআরের দীর্ঘ বিলম্বের বিষয়টিও গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। উল্লেখ্য, এই ফরোয়ার্ডের করা একমাত্র গোলেই ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল স্পেন।

সন্দেহের তালিকায় থাকা ম্যাচগুলোকে ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ বা হলুদ সতর্কতার আওতাভুক্ত করা হয়। অস্বাভাবিক কোনো কার্যকলাপ, যেমন- বাজি ধরার অদ্ভুত গতিবিধি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব কিংবা তথ্যের অস্বাভাবিক আদান-প্রদান লক্ষ্য করা গেলে এই সতর্কতা জারি করা হয়।

চার স্তরের সতর্কতার মধ্যে এটি তৃতীয় পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। এই স্তরগুলো হলো- সবুজ: স্বাভাবিক অবস্থা, হলুদ: সামান্য উচ্চমাত্রার সতর্কতা, কমলা: উচ্চমাত্রার সতর্কতা এবং লাল: সর্বোচ্চ সতর্কতা।

স্বাধীন সংস্থা গ্রুপ অব কোপেনহেগেনের সাবেক সহযোগী ও বিশেষজ্ঞ ক্রিশ্চিয়ান কালব দ্য অ্যাথলেটিককে জানান, এ ধরনের সতর্কবার্তা পাওয়ার অর্থই যে নিশ্চিতভাবে ম্যাচ কারচুপি বা জালিয়াতি হয়েছে, তা কিন্তু নয়। তার মতে, কোটা বা হেজিংয়ের তারল্যে পরিবর্তনের মতো ‘আউটলায়ার’ বা স্বাভাবিকের বাইরের বিভিন্ন কারণেও এমনটি ঘটতে পারে।

এদিকে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার মাত্র দুদিন পরেই ফিফা জানিয়েছিল যে, তারা টুর্নামেন্টে কোনো সন্দেহজনক বেটিং বা ম্যাচ পাতানোর সুনির্দিষ্ট তথ্য পায়নি। একই কথা জানিয়েছে গ্রুপ অব কোপেনহেগেনও। তবে কোনো ম্যাচেই সরাসরি পাতানোর প্রমাণ না মিললেও, চিহ্নিত হওয়া ম্যাচগুলো নিয়ে ফিফার কাছে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে এই স্বাধীন সংস্থাটি।

শুধু স্পেনই নয়, টুর্নামেন্টের আরও কয়েকটি ম্যাচ নিয়েও সতর্কবার্তা জারি করেছে গ্রুপ অব কোপেনহেগেন। এর মধ্যে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড় থেম্বা জোয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড পাওয়ার ঘটনাগুলোও রয়েছে। বিশেষ করে, বালোগুনের ক্ষেত্রে একটি অদ্ভুত বাজি ধরা হয়েছিল যে তিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলবেন, অথচ এর আগেই বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখে বেলজিয়াম ম্যাচ থেকে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। যদিও বাজি ধরার সময় সেই শাস্তি প্রত্যাহার করা হয়নি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

তদন্তের মুখে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন, দুই ম্যাচে সন্দেহ

আপডেট সময় ০২:০৮:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘ ১৬ বছর পর অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের মিশনে নামা শক্তিশালী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একপেশে ফাইনালে ১-০ গোলের জয় তুলে নেয় তারা। তবে এই জয়োল্লাসের রেশ কাটতে না কাটতেই স্পেনের সাফল্য ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপের দুটি ম্যাচ সন্দেহজনক বেটিংয়ের তালিকায় আসায় তদন্তের মুখে পড়তে হতে পারে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’ জানিয়েছে, স্পোর্টিং ইভেন্টে সম্ভাব্য ম্যাচ পাতানো রোধ ও শাস্তি নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করা স্বাধীন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘গ্রুপ অব কোপেনহেগেন’ বিশ্বকাপের মোট সাতটি ম্যাচ চিহ্নিত করেছে। খেলার ফলাফলের বৈধতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় এসব ম্যাচের বিষয়ে ফিফার কাছে যথাযথ ব্যাখ্যা চেয়েছে সংস্থাটি, যার মধ্যে রয়েছে স্পেনের দুটি ম্যাচ।

বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল কেপ ভার্দে। আসরে তাদের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচেই স্প্যানিশদের কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছিল এবং ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়। ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্ম ‘পলি-মার্কেট’-এ এই ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে ব্যাপকহারে বাজি ধরা হয়েছিল যে, স্পেন শেষ পর্যন্ত কেপ ভার্দেকে হারাতে পারবে না।

এছাড়াও সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচে স্পেনের ফরোয়ার্ড ফেররান তোরেসের একটি গোল বাতিল করার ক্ষেত্রে ভিএআরের দীর্ঘ বিলম্বের বিষয়টিও গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। উল্লেখ্য, এই ফরোয়ার্ডের করা একমাত্র গোলেই ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল স্পেন।

সন্দেহের তালিকায় থাকা ম্যাচগুলোকে ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ বা হলুদ সতর্কতার আওতাভুক্ত করা হয়। অস্বাভাবিক কোনো কার্যকলাপ, যেমন- বাজি ধরার অদ্ভুত গতিবিধি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব কিংবা তথ্যের অস্বাভাবিক আদান-প্রদান লক্ষ্য করা গেলে এই সতর্কতা জারি করা হয়।

চার স্তরের সতর্কতার মধ্যে এটি তৃতীয় পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। এই স্তরগুলো হলো- সবুজ: স্বাভাবিক অবস্থা, হলুদ: সামান্য উচ্চমাত্রার সতর্কতা, কমলা: উচ্চমাত্রার সতর্কতা এবং লাল: সর্বোচ্চ সতর্কতা।

স্বাধীন সংস্থা গ্রুপ অব কোপেনহেগেনের সাবেক সহযোগী ও বিশেষজ্ঞ ক্রিশ্চিয়ান কালব দ্য অ্যাথলেটিককে জানান, এ ধরনের সতর্কবার্তা পাওয়ার অর্থই যে নিশ্চিতভাবে ম্যাচ কারচুপি বা জালিয়াতি হয়েছে, তা কিন্তু নয়। তার মতে, কোটা বা হেজিংয়ের তারল্যে পরিবর্তনের মতো ‘আউটলায়ার’ বা স্বাভাবিকের বাইরের বিভিন্ন কারণেও এমনটি ঘটতে পারে।

এদিকে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার মাত্র দুদিন পরেই ফিফা জানিয়েছিল যে, তারা টুর্নামেন্টে কোনো সন্দেহজনক বেটিং বা ম্যাচ পাতানোর সুনির্দিষ্ট তথ্য পায়নি। একই কথা জানিয়েছে গ্রুপ অব কোপেনহেগেনও। তবে কোনো ম্যাচেই সরাসরি পাতানোর প্রমাণ না মিললেও, চিহ্নিত হওয়া ম্যাচগুলো নিয়ে ফিফার কাছে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে এই স্বাধীন সংস্থাটি।

শুধু স্পেনই নয়, টুর্নামেন্টের আরও কয়েকটি ম্যাচ নিয়েও সতর্কবার্তা জারি করেছে গ্রুপ অব কোপেনহেগেন। এর মধ্যে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড় থেম্বা জোয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড পাওয়ার ঘটনাগুলোও রয়েছে। বিশেষ করে, বালোগুনের ক্ষেত্রে একটি অদ্ভুত বাজি ধরা হয়েছিল যে তিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলবেন, অথচ এর আগেই বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখে বেলজিয়াম ম্যাচ থেকে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। যদিও বাজি ধরার সময় সেই শাস্তি প্রত্যাহার করা হয়নি।