ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
চাঁদপুরে অর্ধশত ট্রান্সফরমার চুরি, চরম ভোগান্তিতে গ্রাহক ব্যাগের ভেতর থেকে নবজাতক উদ্ধার, শরীরজুড়ে অসংখ্য পিঁপড়া গ্যাসের মূল সমস্যা আমদানি করতে না পারা: তথ্য উপদেষ্টা ভূগর্ভস্থ পানির চাপ কমাতে লবণাক্ত পানি শোধনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাজ্যে ধর্ষকদের যৌনাকাঙ্ক্ষা নিঃশেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা এবার জোট করতে ইরানকে ডেকেছে সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান শেখ হাসিনাসহ ৭ জনকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারত হয়তো রাজনৈতিকভাবে দায় নিতে চাচ্ছে না: তথ্যমন্ত্রী বরিশালে ফের বাস ধর্মঘট, মহাসড়ক অবরোধ বিশ্বকে হতবাক করা সেই ফিলিস্তিনি শিশুর ছবি পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করল মিশর

২৬ বছর বয়স পর্যন্ত গাড়ির সেলসম্যান, ডিএনএ পরীক্ষায় জানলেন তিনি রাজপুত্র

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:১৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০ বার পড়া হয়েছে

তার বয়স তখন ১৬। একদিন মায়ের কাছ থেকে জানতে পারলেন, তার বাবা কোনো সাধারণ মানুষ নন তিনি বেলজিয়ামের রাজপরিবারের সদস্য। এরপর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ, ডিএনএ পরীক্ষা, দীর্ঘ অপেক্ষা। সবশেষে ২৬ বছর বয়সে এসে পেলেন সেই পরিচয়ের আইনি স্বীকৃতি। সাধারণ জীবন কাটানো এক গাড়ির সেলসম্যান রাতারাতি হয়ে গেলেন রাজপুত্র! রূপকথার গল্প মনে হলেও ঘটনাটি সত্যি। বেলজিয়ামের ক্লেমঁ ভানদেনকার্কহোভের জীবনেই ঘটেছে এমন ঘটনা। ক্লেমঁর জন্ম ২০০০ সালের আগস্টে। তার মা ওয়েন্ডি ভান ওয়ানটেন একজন বেলজিয়ান গায়িকা। তার আসল নাম আইরিস ভানদেনকার্কহোভ। ১৯৯০এর দশকে প্যারিসের একটি ফ্যাশন শোয়ে প্রিন্স লরাঁর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

ক্লেমঁর বয়স যখন ১৬, তখন মা তাকে জানান, তার বাবা বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপের ছোট ভাই প্রিন্স লরাঁ। তবে এই পরিচয় জানার পরও সঙ্গে সঙ্গে রাজপরিবারের কাছ থেকে স্বীকৃতি পাননি তিনি। চার বছর পর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন ক্লেমঁ। এরপর দুজনের সম্মতিতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলেও প্রমাণিত হয়, ক্লেমঁই প্রিন্স লরাঁর ছেলে। ডিএনএ পরীক্ষায় পিতৃত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর বাবাছেলের মধ্যে যোগাযোগ বাড়তে থাকে। ক্লেমঁ জানিয়েছেন, তারা নিজেদের মধ্যে খোলামেলা ও আন্তরিকভাবে কথা বলেছেন। তবে জৈবিক সম্পর্ক নিশ্চিত হওয়ার পরও আইনি স্বীকৃতির জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

অবশেষে প্রায় ছয় মাস আগে একেবারে নীরবে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রিন্স লরাঁ ক্লেমঁকে নিজের ছেলে হিসেবে আইনগতভাবে স্বীকৃতি দেন। চলতি সপ্তাহে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এই স্বীকৃতির ফলে প্রিন্স লরাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে তার অন্য সন্তানদের সমান উত্তরাধিকার পাবেন ক্লেমঁ। স্ত্রী প্রিন্সেস ক্লেয়ারের ঘরে লরাঁর আরও তিন সন্তান রয়েছেন প্রিন্সেস লুইস, প্রিন্স নিকোলাস ও প্রিন্স আয়মেরিক। তবে রাজপরিবারে ক্লেমঁর ভূমিকা খুব সীমিতই থাকবে। তিনি কোনো রাজকীয় ভাতা পাবেন না, পালন করতে হবে না কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক দায়িত্বও। এমনকি বেলজিয়ামের সিংহাসনের ওপরও তার কোনো অধিকার থাকবে না।

বাবার পারিবারিক পদবিসাক্সকোবুর্গনেওয়ার সুযোগ থাকলেও আপাতত নিজের মায়ের পদবিভানদেনকার্কহোভই রাখতে চান ক্লেমঁ। তার কাছে এই নাম শুধু একটি পদবি নয়, মায়ের পরিচয় ও অবদানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মায়ের কাছ থেকে পাওয়া নামটি ছেড়ে দেওয়া তার কাছে বিশ্বাসঘাতকতার মতো। মজার বিষয় হলো, বেলজিয়ামের রাজপরিবারে পিতৃত্ব নিয়ে এমন ঘটনা এটাই প্রথম নয়। প্রিন্স লরাঁর বাবা, বেলজিয়ামের সাবেক রাজা দ্বিতীয় আলবের্তও দীর্ঘদিন পিতৃত্বের একটি আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন।

শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালে তিনি স্বীকার করেন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মাধ্যমে তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সেই সন্তান ডেলফিন বোয়েলও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর রাজকন্যার মর্যাদা পান। বর্তমানে তিনি ডেলফিন দ্য সাক্সকোবুর্গ নামে পরিচিত। অর্থাৎ, জীবনের ২৬ বছর পর্যন্ত যার পরিচয় ছিল সাধারণ এক গাড়ির সেলসম্যান হিসেবে, ডিএনএ পরীক্ষার পর সেই মানুষটির জীবনেই যুক্ত হলো রাজপরিবারের পরিচয় একেবারে বাস্তব জীবনের রূপকথার মতো। সূত্র: সিএনএন

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে অর্ধশত ট্রান্সফরমার চুরি, চরম ভোগান্তিতে গ্রাহক

২৬ বছর বয়স পর্যন্ত গাড়ির সেলসম্যান, ডিএনএ পরীক্ষায় জানলেন তিনি রাজপুত্র

আপডেট সময় ০২:১৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

তার বয়স তখন ১৬। একদিন মায়ের কাছ থেকে জানতে পারলেন, তার বাবা কোনো সাধারণ মানুষ নন তিনি বেলজিয়ামের রাজপরিবারের সদস্য। এরপর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ, ডিএনএ পরীক্ষা, দীর্ঘ অপেক্ষা। সবশেষে ২৬ বছর বয়সে এসে পেলেন সেই পরিচয়ের আইনি স্বীকৃতি। সাধারণ জীবন কাটানো এক গাড়ির সেলসম্যান রাতারাতি হয়ে গেলেন রাজপুত্র! রূপকথার গল্প মনে হলেও ঘটনাটি সত্যি। বেলজিয়ামের ক্লেমঁ ভানদেনকার্কহোভের জীবনেই ঘটেছে এমন ঘটনা। ক্লেমঁর জন্ম ২০০০ সালের আগস্টে। তার মা ওয়েন্ডি ভান ওয়ানটেন একজন বেলজিয়ান গায়িকা। তার আসল নাম আইরিস ভানদেনকার্কহোভ। ১৯৯০এর দশকে প্যারিসের একটি ফ্যাশন শোয়ে প্রিন্স লরাঁর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

ক্লেমঁর বয়স যখন ১৬, তখন মা তাকে জানান, তার বাবা বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপের ছোট ভাই প্রিন্স লরাঁ। তবে এই পরিচয় জানার পরও সঙ্গে সঙ্গে রাজপরিবারের কাছ থেকে স্বীকৃতি পাননি তিনি। চার বছর পর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন ক্লেমঁ। এরপর দুজনের সম্মতিতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলেও প্রমাণিত হয়, ক্লেমঁই প্রিন্স লরাঁর ছেলে। ডিএনএ পরীক্ষায় পিতৃত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর বাবাছেলের মধ্যে যোগাযোগ বাড়তে থাকে। ক্লেমঁ জানিয়েছেন, তারা নিজেদের মধ্যে খোলামেলা ও আন্তরিকভাবে কথা বলেছেন। তবে জৈবিক সম্পর্ক নিশ্চিত হওয়ার পরও আইনি স্বীকৃতির জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

অবশেষে প্রায় ছয় মাস আগে একেবারে নীরবে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রিন্স লরাঁ ক্লেমঁকে নিজের ছেলে হিসেবে আইনগতভাবে স্বীকৃতি দেন। চলতি সপ্তাহে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এই স্বীকৃতির ফলে প্রিন্স লরাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে তার অন্য সন্তানদের সমান উত্তরাধিকার পাবেন ক্লেমঁ। স্ত্রী প্রিন্সেস ক্লেয়ারের ঘরে লরাঁর আরও তিন সন্তান রয়েছেন প্রিন্সেস লুইস, প্রিন্স নিকোলাস ও প্রিন্স আয়মেরিক। তবে রাজপরিবারে ক্লেমঁর ভূমিকা খুব সীমিতই থাকবে। তিনি কোনো রাজকীয় ভাতা পাবেন না, পালন করতে হবে না কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক দায়িত্বও। এমনকি বেলজিয়ামের সিংহাসনের ওপরও তার কোনো অধিকার থাকবে না।

বাবার পারিবারিক পদবিসাক্সকোবুর্গনেওয়ার সুযোগ থাকলেও আপাতত নিজের মায়ের পদবিভানদেনকার্কহোভই রাখতে চান ক্লেমঁ। তার কাছে এই নাম শুধু একটি পদবি নয়, মায়ের পরিচয় ও অবদানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মায়ের কাছ থেকে পাওয়া নামটি ছেড়ে দেওয়া তার কাছে বিশ্বাসঘাতকতার মতো। মজার বিষয় হলো, বেলজিয়ামের রাজপরিবারে পিতৃত্ব নিয়ে এমন ঘটনা এটাই প্রথম নয়। প্রিন্স লরাঁর বাবা, বেলজিয়ামের সাবেক রাজা দ্বিতীয় আলবের্তও দীর্ঘদিন পিতৃত্বের একটি আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন।

শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালে তিনি স্বীকার করেন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মাধ্যমে তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সেই সন্তান ডেলফিন বোয়েলও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর রাজকন্যার মর্যাদা পান। বর্তমানে তিনি ডেলফিন দ্য সাক্সকোবুর্গ নামে পরিচিত। অর্থাৎ, জীবনের ২৬ বছর পর্যন্ত যার পরিচয় ছিল সাধারণ এক গাড়ির সেলসম্যান হিসেবে, ডিএনএ পরীক্ষার পর সেই মানুষটির জীবনেই যুক্ত হলো রাজপরিবারের পরিচয় একেবারে বাস্তব জীবনের রূপকথার মতো। সূত্র: সিএনএন