ঢাকা , রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সম্পত্তি দান করেও আজীবন ভোগদখলের অধিকার, আসছে নতুন আইন অভিনয়ে আর ফিরবেন না পপি, বাঁচতে চান আল্লাহ-খোদার নাম নিয়ে ‘সন্তান বিক্রি’ করে ঢাকায় এসে নতুন আইফোন কিনলেন বাবা বন্যার স্রোত আসতে দেখেই ছুটির ঘণ্টা, প্রধান শিক্ষকের দূরদর্শিতায় রক্ষা পেল ১৬৪৩ শিক্ষার্থীর প্রাণ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ইমামের সরকারি ভাতা তুলে নেওয়ার অভিযোগ সংসদের স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন করলো জামায়াত, জানা গেল কারণ ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি সত্ত্বেও ইরানে আবারও হামলার হুঁশিয়ারি ইসরায়েলের কর্মসূচি ডাকবে জামায়াত, তাতে ঢুকে পড়বে আওয়ামী লীগ বললেন রাশেদ খাঁন ট্রাম্পের ‘লেক আমেরিকা’ বলার পর ‘লেক অন্টারিও’ সাইনবোর্ড বসাল কানাডা ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে জামায়াতের চুড়ান্ত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন

বন্যার স্রোত আসতে দেখেই ছুটির ঘণ্টা, প্রধান শিক্ষকের দূরদর্শিতায় রক্ষা পেল ১৬৪৩ শিক্ষার্থীর প্রাণ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:২৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

নেপালের ভয়াবহ পাহাড়ি বন্যার মধ্যেও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি। তার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে প্রাণে বেঁচে গেছে এক হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থী।

বুধবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে এক বন্ধুর ফোন পান প্রধান শিক্ষক দাওয়াদি। তাকে জানানো হয়, পাহাড়ি নদীতে ভয়াবহ স্রোত নেমে এসেছে এবং গ্রামের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে।

প্রথমে স্কুল ভবনটি নিরাপদ মনে হলেও এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ছুটে এসে জানান, পানি দ্রুত বাড়ছে। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের ছুটির ঘণ্টা বাজান প্রধান শিক্ষক। শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষ খালি করার নির্দেশ দেন এবং স্কুলবাসগুলো দ্রুত ফিরিয়ে আনতে চালকদের ফোন করেন।

এরই মধ্যে আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা নিরাপদ জায়গার দিকে ছুটতে শুরু করে। এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মোটরসাইকেলে করে উঁচু এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। বাকিরাও দৌড়ে আশ্রয় নেয় একটি বোধিবৃক্ষের নিচে। তাদের পেছন পেছন ছুটছিলেন প্রধান শিক্ষক দাওয়াদি।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ভয়াবহ স্রোত স্কুল ভবনসহ আশপাশের স্থাপনা ভাসিয়ে নিয়ে যায়। তবে তার দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণে শিক্ষার্থী ও অধিকাংশ শিক্ষক-কর্মী প্রাণে বেঁচে যান।

তবে এই ঘটনায় স্কুলের সমাজবিজ্ঞান শিক্ষক সান্তোষ পারিয়ার ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুলতান লামা প্রাণ হারান।

স্থানীয়দের কাছে প্রধান শিক্ষক দাওয়াদি এখন একজন নায়ক। কিন্তু নিজেকে নায়ক মনে করেন না তিনি। ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্কুলের কাদামাখা ধ্বংসাবশেষের দিকে তাকিয়ে তার ভাষ্য, তিনি শুধু নিজের দায়িত্বটুকুই পালন করেছেন।

রূপালি পর্দার কাহিনিকেও হার মানানো এই ঘটনা উঠে এসেছে দ্য টাইমসের এক প্রতিবেদনে।

এদিকে, সাম্প্রতিক বন্যায় নেপালে এখন পর্যন্ত ৭৩৪ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ২ হাজার ৪৯৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিব্বতের গিয়েরং কাউন্টিতেও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫৪৬ জন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পত্তি দান করেও আজীবন ভোগদখলের অধিকার, আসছে নতুন আইন

বন্যার স্রোত আসতে দেখেই ছুটির ঘণ্টা, প্রধান শিক্ষকের দূরদর্শিতায় রক্ষা পেল ১৬৪৩ শিক্ষার্থীর প্রাণ

আপডেট সময় ০৬:২৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

নেপালের ভয়াবহ পাহাড়ি বন্যার মধ্যেও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি। তার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে প্রাণে বেঁচে গেছে এক হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থী।

বুধবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে এক বন্ধুর ফোন পান প্রধান শিক্ষক দাওয়াদি। তাকে জানানো হয়, পাহাড়ি নদীতে ভয়াবহ স্রোত নেমে এসেছে এবং গ্রামের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে।

প্রথমে স্কুল ভবনটি নিরাপদ মনে হলেও এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ছুটে এসে জানান, পানি দ্রুত বাড়ছে। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের ছুটির ঘণ্টা বাজান প্রধান শিক্ষক। শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষ খালি করার নির্দেশ দেন এবং স্কুলবাসগুলো দ্রুত ফিরিয়ে আনতে চালকদের ফোন করেন।

এরই মধ্যে আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা নিরাপদ জায়গার দিকে ছুটতে শুরু করে। এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মোটরসাইকেলে করে উঁচু এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। বাকিরাও দৌড়ে আশ্রয় নেয় একটি বোধিবৃক্ষের নিচে। তাদের পেছন পেছন ছুটছিলেন প্রধান শিক্ষক দাওয়াদি।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ভয়াবহ স্রোত স্কুল ভবনসহ আশপাশের স্থাপনা ভাসিয়ে নিয়ে যায়। তবে তার দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণে শিক্ষার্থী ও অধিকাংশ শিক্ষক-কর্মী প্রাণে বেঁচে যান।

তবে এই ঘটনায় স্কুলের সমাজবিজ্ঞান শিক্ষক সান্তোষ পারিয়ার ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুলতান লামা প্রাণ হারান।

স্থানীয়দের কাছে প্রধান শিক্ষক দাওয়াদি এখন একজন নায়ক। কিন্তু নিজেকে নায়ক মনে করেন না তিনি। ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্কুলের কাদামাখা ধ্বংসাবশেষের দিকে তাকিয়ে তার ভাষ্য, তিনি শুধু নিজের দায়িত্বটুকুই পালন করেছেন।

রূপালি পর্দার কাহিনিকেও হার মানানো এই ঘটনা উঠে এসেছে দ্য টাইমসের এক প্রতিবেদনে।

এদিকে, সাম্প্রতিক বন্যায় নেপালে এখন পর্যন্ত ৭৩৪ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ২ হাজার ৪৯৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিব্বতের গিয়েরং কাউন্টিতেও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫৪৬ জন।