পাবনার ঈশ্বরদীর হৃদয়বিদারক ঘটনায় ৮টি কুকুরছানাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যার পর নিজের সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল মা কুকুর ‘টম’। দীর্ঘ কান্না ও কষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়া টমের বেদনা লাঘবে এগিয়ে আসে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ঈশ্বরদীয়ান’।
সংগঠনটির পরিচালক অমিত শাহরিয়ার মানবিক উদ্যোগে নিজের পালন করা আরেকটি কুকুরের ৭টি বাচ্চার মধ্যে থেকে দুটি ছানা এনে টমের কাছে দেন। প্রথমে টম ছানাদুটিকে গ্রহণ না করলেও তাদের মুখে দুধ লাগিয়ে কোলে বসিয়ে দিলে ধীরে ধীরে টম ছানাদুটিকে নিজের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করে। এরপর টমকে আনন্দে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ওই ছানাগুলোকে দুধ পান করাতে দেখা যায়।
ঘটনাটি জানাজানি হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সন্তান হারানোর কষ্ট কিছুটা হলেও কমাতে এ উদ্যোগ প্রশংসার যোগ্য।
এদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকেও টমের সার্বিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। ভেটেরিনারি সার্জনকে প্রধান করে ৮ সদস্যের একটি ‘ইমারজেন্সি ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম’ গঠন করা হয়েছে, যারা সার্বক্ষণিক টমের দেখভাল করছেন।
ঘটনার তদন্তে জানা যায়, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়ন-এর স্ত্রী নিশি খাতুন জীবিত ছানাগুলোকে বস্তায় ভরে রাতে পুকুরে ফেলে দেন। পরদিন তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন থানায় মামলা করেন। রাতেই নিশি খাতুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ, এবং আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
টম-এর নতুন দুই ছানাকে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য এখন স্থানীয়দের মনকে ছুঁয়ে গেছে—যেখানে নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে মানবিকতার জয়ই শেষ কথা বলে দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















