ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
খামেনির শেষ বিদায়ের প্রস্তুতিতে সর্বোচ্চ সতর্কতায় ইরান, শরিক হচ্ছে ৩০টিরও বেশি দেশ বিশ্বকাপে দলের হারের পর শুনলেন ‘বাবাও নেই’ ভেনেজুয়েলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২৯৫, জায়গা নেই মর্গে ৩২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা নেই বিশ্বকাপের মাঝেই গাজায় প্রাণ হারালেন ফিলিস্তিনি গোলরক্ষক পদ্মা রেল সেতুর নিচে মাটি অপসারণ প্রকল্পেরই অংশ, ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী বিশ্বকাপ ইতিহাসের শেষ ষোলোতে নিয়মিত ব্রাজিল, নেই আর কোনো দল ‘ইরানের পরমাণু অস্ত্র রয়েছে বলে ইসরায়েলি জনগণকে ভয় দেখাচ্ছেন নেতানিয়াহু’ শুধু ব্রাজিল নয়, নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের দেখা পায়নি আর্জেন্টিনাও গান্ধীর মূর্তির মুখ-হাত কালো কাপড়ে বাঁধা, উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ

এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে পুলিশের বডি ওর্ন ক্যামেরায় নজরদারি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১২:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

আজ থেকে সারাদেশে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এই প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে পুলিশেরবডি ওর্ন ক্যামেরাপ্রযুক্তি।পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর ভেতরের সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি এবার কেন্দ্রের বাইরের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ডিজিটাল রেকর্ড রাখার জন্য এই বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের সময় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পরীক্ষার প্রথম দিন সকালে রাজধানীর উত্তরা রাজউক মডেল কলেজ কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের শরীরে এই বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করতে দেখা গেছে। একই সাথে কেন্দ্রের বাইরে মাইকিং করে অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ও নিয়মকানুন জানানো হচ্ছিল। যেকোনো ধরনের যানজট বা অপ্রত্যাশিত বিলম্বের বিষয়টি মাথায় রেখে এবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া হয় এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে শিক্ষার্থীরা সুশৃঙ্খলভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করে।

এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত ইতিবাচক ও কার্যকর ছিল। এই প্রযুক্তি ব্যবহারে অপরাধপ্রবণ বা বিশৃঙ্খলাকারী ব্যক্তিদের মধ্যে এক ধরনের বাড়তি সতর্কতা ও আইনি ভীতি তৈরি হয়। একই কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রেও এই প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে পুলিশ।

শিক্ষা উপদেষ্টা আ ন ম এহছানুল হক মিলনও এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, পুলিশের এই আইটিভিত্তিক পদক্ষেপটি প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে দায়িত্ব পালনকারী সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সবার আরও বেশি সতর্কতা তৈরি হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এসএসসি পরীক্ষায় কেন্দ্রগুলোতে বাধ্যতামূলক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পর পরীক্ষাকেন্দ্রে অসদুপায় অবলম্বন বা নকলের ঘটনা প্রায় ৭৮ শতাংশ কমে এসেছে। অতীতের সেই অভাবনীয় সাফল্য ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই এবার সিসিটিভি নজরদারির সাথে অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্তর হিসেবে পুলিশেরবডি ওর্ন ক্যামেরাযুক্ত করা হয়েছে, যাতে পরীক্ষা আরও বেশি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করা যায়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯টি এবং মোট পরীক্ষাকেন্দ্র ২ হাজার ৬৯৭টি। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন শিক্ষার্থী ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে অংশ নেবে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে অংশ নেবে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

খামেনির শেষ বিদায়ের প্রস্তুতিতে সর্বোচ্চ সতর্কতায় ইরান, শরিক হচ্ছে ৩০টিরও বেশি দেশ

এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে পুলিশের বডি ওর্ন ক্যামেরায় নজরদারি

আপডেট সময় ১১:১২:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

আজ থেকে সারাদেশে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এই প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে পুলিশেরবডি ওর্ন ক্যামেরাপ্রযুক্তি।পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর ভেতরের সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি এবার কেন্দ্রের বাইরের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ডিজিটাল রেকর্ড রাখার জন্য এই বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের সময় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পরীক্ষার প্রথম দিন সকালে রাজধানীর উত্তরা রাজউক মডেল কলেজ কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের শরীরে এই বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করতে দেখা গেছে। একই সাথে কেন্দ্রের বাইরে মাইকিং করে অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ও নিয়মকানুন জানানো হচ্ছিল। যেকোনো ধরনের যানজট বা অপ্রত্যাশিত বিলম্বের বিষয়টি মাথায় রেখে এবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া হয় এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে শিক্ষার্থীরা সুশৃঙ্খলভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করে।

এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত ইতিবাচক ও কার্যকর ছিল। এই প্রযুক্তি ব্যবহারে অপরাধপ্রবণ বা বিশৃঙ্খলাকারী ব্যক্তিদের মধ্যে এক ধরনের বাড়তি সতর্কতা ও আইনি ভীতি তৈরি হয়। একই কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রেও এই প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে পুলিশ।

শিক্ষা উপদেষ্টা আ ন ম এহছানুল হক মিলনও এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, পুলিশের এই আইটিভিত্তিক পদক্ষেপটি প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে দায়িত্ব পালনকারী সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সবার আরও বেশি সতর্কতা তৈরি হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এসএসসি পরীক্ষায় কেন্দ্রগুলোতে বাধ্যতামূলক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পর পরীক্ষাকেন্দ্রে অসদুপায় অবলম্বন বা নকলের ঘটনা প্রায় ৭৮ শতাংশ কমে এসেছে। অতীতের সেই অভাবনীয় সাফল্য ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই এবার সিসিটিভি নজরদারির সাথে অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্তর হিসেবে পুলিশেরবডি ওর্ন ক্যামেরাযুক্ত করা হয়েছে, যাতে পরীক্ষা আরও বেশি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করা যায়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯টি এবং মোট পরীক্ষাকেন্দ্র ২ হাজার ৬৯৭টি। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন শিক্ষার্থী ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে অংশ নেবে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে অংশ নেবে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী।