ঢাকা , সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সংস্কারের জন্ম দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান: মির্জা ফখরুল আমি শুধু ধর্ষণ করছি, রামিসাকে মারছে ডলার: সোহেল রানা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে কোরআন তিলাওয়াত, বিশ্বজুড়ে প্রশংসা ফেসবুক লাইভে এসে ১০ কোটি টাকার হিসাব দিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ অন্তর্বর্তী সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দের টাকায় ৭৭টি আসন কিনেছে জামায়াত-এনসিপি: রাশেদ খান এবার হজে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৪১ বাংলাদেশির সৌভাগ্যের মৃত্যু ইসলামী ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ, টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ফিলিস্তিনকে সমর্থন জানিয়ে ইসরাইল দিবস প্যারেডে যোগ দিলেন না মামদানি আমরাও ভারতের জমি দখল করে রেখেছি: নেপালের প্রধানমন্ত্রী দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে না গেলে কয়টা ভোট পাইত?: প্রশ্ন মনিরার 

২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন: জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:৪৩:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ জুন ২০২৫
  • ১২৪৬ বার পড়া হয়েছে

২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (৬ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।

ড. ইউনূস জানান, অবাধ, সুষ্ঠু, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এবং বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনসংক্রান্ত চলমান প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন শিগগিরই নির্বাচনের বিস্তারিত রোডম্যাপ প্রকাশ করবে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, “আমরা এমন নির্বাচন চাই যা দেখে অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে। এই নির্বাচন যেন হয় সবচেয়ে বেশি ভোটার ও প্রার্থীর অংশগ্রহণে, এবং ইতিহাসে স্মরণীয় হয় সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের উদাহরণ হিসেবে।”

ড. ইউনূস আরও বলেন, প্রায় দেড়যুগ পর দেশে সত্যিকারের একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সংসদ গঠিত হতে যাচ্ছে। বিপুল তরুণ ভোটার এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে। এই লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “আপনারা যেন প্রার্থীদের কাছ থেকে স্পষ্ট অঙ্গীকার আদায় করেন—সংসদের প্রথম অধিবেশনেই যেন পূর্বনির্ধারিত সংস্কার এজেন্ডা কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই পাস হয়। তারা যেন কখনোই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন না করে।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা তাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নেবেন যে তারা দেশ চালাবে সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং দুর্নীতি, দলীয়করণ, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসসহ সব গণবিরোধী কাজ থেকে নিজেদের দূরে রাখবে।”

ভাষণের একপর্যায়ে ড. ইউনূস বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু একটি শান্তিপূর্ণ ভোট নয়—এটি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষিত ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রথম ধাপ। পরিচিত দল ও প্রতীক থাকবে, কিন্তু ভোটারকে বিচার করতে হবে কোন প্রার্থী সত্যিকারের পরিবর্তনের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কারের জন্ম দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান: মির্জা ফখরুল

২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন: জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা

আপডেট সময় ০৭:৪৩:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ জুন ২০২৫

২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (৬ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।

ড. ইউনূস জানান, অবাধ, সুষ্ঠু, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এবং বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনসংক্রান্ত চলমান প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন শিগগিরই নির্বাচনের বিস্তারিত রোডম্যাপ প্রকাশ করবে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, “আমরা এমন নির্বাচন চাই যা দেখে অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে। এই নির্বাচন যেন হয় সবচেয়ে বেশি ভোটার ও প্রার্থীর অংশগ্রহণে, এবং ইতিহাসে স্মরণীয় হয় সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের উদাহরণ হিসেবে।”

ড. ইউনূস আরও বলেন, প্রায় দেড়যুগ পর দেশে সত্যিকারের একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সংসদ গঠিত হতে যাচ্ছে। বিপুল তরুণ ভোটার এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে। এই লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “আপনারা যেন প্রার্থীদের কাছ থেকে স্পষ্ট অঙ্গীকার আদায় করেন—সংসদের প্রথম অধিবেশনেই যেন পূর্বনির্ধারিত সংস্কার এজেন্ডা কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই পাস হয়। তারা যেন কখনোই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন না করে।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা তাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নেবেন যে তারা দেশ চালাবে সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং দুর্নীতি, দলীয়করণ, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসসহ সব গণবিরোধী কাজ থেকে নিজেদের দূরে রাখবে।”

ভাষণের একপর্যায়ে ড. ইউনূস বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু একটি শান্তিপূর্ণ ভোট নয়—এটি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষিত ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রথম ধাপ। পরিচিত দল ও প্রতীক থাকবে, কিন্তু ভোটারকে বিচার করতে হবে কোন প্রার্থী সত্যিকারের পরিবর্তনের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।