ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পুশইনের শিকার ১১ জন মানুষ প্রায় ৩৬ ঘণ্টা ধরে দুই দেশের শূন্যরেখায় আটকা পড়ে আছেন। দুই দফা পতাকা বৈঠক হলেও এখনো কোনো সমাধান মেলেনি।
রোববারও নারী ও শিশুসহ এই ১১ জন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন পুরুষ, চারজন নারী ও চার শিশু। একজন নারী ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, আর একটি শিশু শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ভোরে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে বিজিবি তা প্রতিহত করলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন। বর্তমানে তারা এমন এক অবস্থায় আছেন, যেখানে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারছেন না, আবার ভারতেও ফিরতে পারছেন না।
আটকে পড়াদের একজন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রোজিনা আক্তার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সে জানায়, পরিবারের সঙ্গে ভারতের কলকাতায় বসবাস করছিল। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আটক করার পর প্রায় ১২ দিন বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ঘোরানোর পর তাদের ঠাকুরগাঁও সীমান্তে এনে রেখে যায়। এখন তার একটাই চাওয়া—পরিবার নিয়ে দ্রুত বাড়ি ফিরতে পারা।
এদিকে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করায় তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার সংকটে দিন কাটছে তাদের। স্থানীয় গ্রামবাসীরা মানবিক কারণে কিছু খাবার ও পানি দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানিয়েছেন, বিএসএফের সঙ্গে বৈঠকে অবৈধ পুশইনের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে হস্তান্তর করা হলে তাদের গ্রহণ করা হবে। তবে অবৈধভাবে কাউকে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
একটি অন্তঃসত্ত্বা নারী ও প্রতিবন্ধী শিশুসহ ১১ জনের এই মানবিক সংকট দ্রুত সমাধানে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমানে সীমান্তজুড়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















