ঢাকা , সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর খাওয়ার পানির ট্যাংকে বিষ দিয়েছে সন্ত্রাসীরা: পুলিশ বিচার ও সংস্কারে কোনো আপস করবে না এনসিপি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া সরকারের সামনে বিকল্প পথ নেই: মামুনুল হক ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গ্রিন সিগনালে কক্সবাজার-গাজীপুরে ছাত্রলীগের মিছিল’: ফেসবুক পোস্টে সারজিস আলম ইসি সচিবালয়ে ‘দলীয় ব্যক্তিকে’ নিয়োগ দেওয়া নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য হুমকি: জামায়াত এটা কেবলই শুরু, এখনও অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া বাকি: ককরোচ পার্টির প্রধান আর্জেন্টিনাকে লেখা ফিফা সভাপতির চিঠি ফাঁস, আবারও সমালোচনার ঝড় এবার নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে পরীক্ষা সংস্কার বিষয়ক টাস্কফোর্স গঠন উখিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী সমাবেশ, রামুতে শোডাউন যুদ্ধের মধ্যেও সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে ইরান, যুক্ত হলো নতুন প্রযুক্তি

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ১১ জনকে ঘিরে জট, কাটেনি ৩৬ ঘণ্টায়ও

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৩৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • ১১৮ বার পড়া হয়েছে

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পুশইনের শিকার ১১ জন মানুষ প্রায় ৩৬ ঘণ্টা ধরে দুই দেশের শূন্যরেখায় আটকা পড়ে আছেন। দুই দফা পতাকা বৈঠক হলেও এখনো কোনো সমাধান মেলেনি।

রোববারও নারী ও শিশুসহ এই ১১ জন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন পুরুষ, চারজন নারী ও চার শিশু। একজন নারী ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, আর একটি শিশু শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ভোরে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে বিজিবি তা প্রতিহত করলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন। বর্তমানে তারা এমন এক অবস্থায় আছেন, যেখানে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারছেন না, আবার ভারতেও ফিরতে পারছেন না।

আটকে পড়াদের একজন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রোজিনা আক্তার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সে জানায়, পরিবারের সঙ্গে ভারতের কলকাতায় বসবাস করছিল। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আটক করার পর প্রায় ১২ দিন বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ঘোরানোর পর তাদের ঠাকুরগাঁও সীমান্তে এনে রেখে যায়। এখন তার একটাই চাওয়া—পরিবার নিয়ে দ্রুত বাড়ি ফিরতে পারা।

এদিকে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করায় তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার সংকটে দিন কাটছে তাদের। স্থানীয় গ্রামবাসীরা মানবিক কারণে কিছু খাবার ও পানি দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানিয়েছেন, বিএসএফের সঙ্গে বৈঠকে অবৈধ পুশইনের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে হস্তান্তর করা হলে তাদের গ্রহণ করা হবে। তবে অবৈধভাবে কাউকে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

একটি অন্তঃসত্ত্বা নারী ও প্রতিবন্ধী শিশুসহ ১১ জনের এই মানবিক সংকট দ্রুত সমাধানে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমানে সীমান্তজুড়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর খাওয়ার পানির ট্যাংকে বিষ দিয়েছে সন্ত্রাসীরা: পুলিশ

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ১১ জনকে ঘিরে জট, কাটেনি ৩৬ ঘণ্টায়ও

আপডেট সময় ০৪:৩৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পুশইনের শিকার ১১ জন মানুষ প্রায় ৩৬ ঘণ্টা ধরে দুই দেশের শূন্যরেখায় আটকা পড়ে আছেন। দুই দফা পতাকা বৈঠক হলেও এখনো কোনো সমাধান মেলেনি।

রোববারও নারী ও শিশুসহ এই ১১ জন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন পুরুষ, চারজন নারী ও চার শিশু। একজন নারী ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, আর একটি শিশু শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ভোরে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে বিজিবি তা প্রতিহত করলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন। বর্তমানে তারা এমন এক অবস্থায় আছেন, যেখানে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারছেন না, আবার ভারতেও ফিরতে পারছেন না।

আটকে পড়াদের একজন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রোজিনা আক্তার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সে জানায়, পরিবারের সঙ্গে ভারতের কলকাতায় বসবাস করছিল। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আটক করার পর প্রায় ১২ দিন বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ঘোরানোর পর তাদের ঠাকুরগাঁও সীমান্তে এনে রেখে যায়। এখন তার একটাই চাওয়া—পরিবার নিয়ে দ্রুত বাড়ি ফিরতে পারা।

এদিকে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করায় তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার সংকটে দিন কাটছে তাদের। স্থানীয় গ্রামবাসীরা মানবিক কারণে কিছু খাবার ও পানি দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানিয়েছেন, বিএসএফের সঙ্গে বৈঠকে অবৈধ পুশইনের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে হস্তান্তর করা হলে তাদের গ্রহণ করা হবে। তবে অবৈধভাবে কাউকে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

একটি অন্তঃসত্ত্বা নারী ও প্রতিবন্ধী শিশুসহ ১১ জনের এই মানবিক সংকট দ্রুত সমাধানে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমানে সীমান্তজুড়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।