ঢাকা , সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এটাই হয়তো ‘সিন্থেসিস’, আমরাই বুঝিনি এতদিন: মাহফুজ আলম এবার ইয়েমেন থেকে মিসাইল নিক্ষেপ, ইসরায়েলে বাজছে সতর্কতামূলক সাইরেন ৭০ ঘণ্টা পর সেই ১০ জনকে শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হলো বিএসএফ ৪৮০০ জনকে ওপারে পাঠানো হয়েছে, অপেক্ষায় আরও ৮৩৬: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ফিলিপাইনে ধ্বংসলীলা, ধসে পড়েছে বহু ভবন কোরআনে চুমু দিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে গেলেন ইরানের ফুটবলাররা নেতানিয়াহুর ইরান চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই: ট্রাম্প  আ. লীগের ফিরে আসার আতঙ্কে অনেকের হাত-পা কাঁপছে: রনি ইসরায়েলের বিমানঘাঁটিতে ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে গ্রেপ্তার দুই ছাত্রলীগ নেতা

কোরআনে চুমু দিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে গেলেন ইরানের ফুটবলাররা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৫২:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

এবার উত্তর আমেরিকা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬এর পর্দা উঠতে আর মাত্র ৩ দিন বাকি। টুর্নামেন্টের মূল আসরে মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে অংশগ্রহণকারী দলগুলো ইতিমধ্যেই উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে পৌঁছাতে শুরু করেছে এবং নিজেদের শেষ মুহূর্তের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নানা সমীকরণের কারণে এবারের বিশ্বকাপে এশিয়ান পরাশক্তি ইরান ফুটবল দল তাদের বিশ্বকাপযাত্রা শুরু করেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও আধ্যাত্মিক এক আবহে। দেশ ছাড়ার আগে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরিফে চুমু দিয়ে এবং বিশেষ দোয়ামোনাজাতের মাধ্যমে মেগা টুর্নামেন্টের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন ইরানি ফুটবলাররা। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা জটিলতায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে পার্সিয়ান লায়নরা।

ইরানি ফুটবলারদের পবিত্র কোরআন শরিফ ছুঁয়ে ও চুমু দিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার এই অনন্য ও আবেগঘন ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে গেছে। এক বিশেষ ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্বকাপগামী বিশেষ বিমানে ওঠার আগে দলের তারকা ফুটবলার ও অফিশিয়ালরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে একে একে পরম শ্রদ্ধায় পবিত্র কোরআন শরিফে চুমু দিচ্ছেন এবং মাথায় ছোঁয়াচ্ছেন। এ সময় বিমানবন্দরের চারপাশে উপস্থিত শত শত সমর্থক ইরানি জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে উল্লাস করতে থাকেন এবং ফুটবলারদের উৎসাহিত করেন। এর আগে দলটি তাদের বিশেষ টিম বাসে করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দেশের প্রধান বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে দেশপ্রেমের এমন অনন্য নিদর্শন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ২৩তম বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পথে ইরান দলের সামনে অন্যতম বড় বাধা ছিল মার্কিন ভিসা। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইরান দল এতদিন তুরস্কের আনতালিয়া শহরে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প করছিল। সেখান থেকেই তুরস্কে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ভিসার আবেদন করেছিল পুরো বহর। তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে নিশ্চিত করেছিলেন যে, ইরানি ফুটবলাররা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা পেয়েছেন। তবে এর পরপরই ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে সম্পূর্ণ বিপরীত ও উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদক তুরস্কের আন্তালিয়া শহর থেকে সরাসরি জানান যে, ইরান ফুটবল দলের মূল স্কোয়াড ভিসা পেলেও দলটির টেকনিক্যাল স্টাফ ও প্রতিনিধি দলের গুরুত্বপূর্ণ ১৫ জন সদস্যকে ভিসা দিতে চূড়ান্ত অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন ইমিগ্রেশন বিভাগ।

ভিসা জটিলতার এই বড় ধাক্কা ও স্নায়ুযুদ্ধের মাঝেই ইরান ফুটবল দল সফলভাবে উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে গিয়ে পৌঁছেছে। তবে টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী, ইরান দলকে তাদের গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ম্যাচই খেলতে হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে। যেহেতু প্রতিনিধি দলের একটি বড় অংশের মার্কিন ভিসা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত জটিল, তাই ইরান দলকে মেক্সিকোর বেস ক্যাম্পে অবস্থান করেই যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ খেলতে যেতে হবে। ম্যাচ শেষে মার্কিন মুলুকে অবস্থান না করে দিনে গিয়ে দিনেই আবার মেক্সিকোতে ফিরে আসতে হবে ইরানি ফুটবলার ও অফিশিয়ালদের, যা টুর্নামেন্ট চলাকালীন খেলোয়াড়দের শারীরিক ক্লান্তি ও মাঠের পারফরম্যান্সে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এটাই হয়তো ‘সিন্থেসিস’, আমরাই বুঝিনি এতদিন: মাহফুজ আলম

কোরআনে চুমু দিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে গেলেন ইরানের ফুটবলাররা

আপডেট সময় ০৯:৫২:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

এবার উত্তর আমেরিকা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬এর পর্দা উঠতে আর মাত্র ৩ দিন বাকি। টুর্নামেন্টের মূল আসরে মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে অংশগ্রহণকারী দলগুলো ইতিমধ্যেই উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে পৌঁছাতে শুরু করেছে এবং নিজেদের শেষ মুহূর্তের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নানা সমীকরণের কারণে এবারের বিশ্বকাপে এশিয়ান পরাশক্তি ইরান ফুটবল দল তাদের বিশ্বকাপযাত্রা শুরু করেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও আধ্যাত্মিক এক আবহে। দেশ ছাড়ার আগে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরিফে চুমু দিয়ে এবং বিশেষ দোয়ামোনাজাতের মাধ্যমে মেগা টুর্নামেন্টের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন ইরানি ফুটবলাররা। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা জটিলতায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে পার্সিয়ান লায়নরা।

ইরানি ফুটবলারদের পবিত্র কোরআন শরিফ ছুঁয়ে ও চুমু দিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার এই অনন্য ও আবেগঘন ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে গেছে। এক বিশেষ ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্বকাপগামী বিশেষ বিমানে ওঠার আগে দলের তারকা ফুটবলার ও অফিশিয়ালরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে একে একে পরম শ্রদ্ধায় পবিত্র কোরআন শরিফে চুমু দিচ্ছেন এবং মাথায় ছোঁয়াচ্ছেন। এ সময় বিমানবন্দরের চারপাশে উপস্থিত শত শত সমর্থক ইরানি জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে উল্লাস করতে থাকেন এবং ফুটবলারদের উৎসাহিত করেন। এর আগে দলটি তাদের বিশেষ টিম বাসে করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দেশের প্রধান বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে দেশপ্রেমের এমন অনন্য নিদর্শন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ২৩তম বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পথে ইরান দলের সামনে অন্যতম বড় বাধা ছিল মার্কিন ভিসা। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইরান দল এতদিন তুরস্কের আনতালিয়া শহরে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প করছিল। সেখান থেকেই তুরস্কে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ভিসার আবেদন করেছিল পুরো বহর। তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে নিশ্চিত করেছিলেন যে, ইরানি ফুটবলাররা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা পেয়েছেন। তবে এর পরপরই ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে সম্পূর্ণ বিপরীত ও উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদক তুরস্কের আন্তালিয়া শহর থেকে সরাসরি জানান যে, ইরান ফুটবল দলের মূল স্কোয়াড ভিসা পেলেও দলটির টেকনিক্যাল স্টাফ ও প্রতিনিধি দলের গুরুত্বপূর্ণ ১৫ জন সদস্যকে ভিসা দিতে চূড়ান্ত অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন ইমিগ্রেশন বিভাগ।

ভিসা জটিলতার এই বড় ধাক্কা ও স্নায়ুযুদ্ধের মাঝেই ইরান ফুটবল দল সফলভাবে উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে গিয়ে পৌঁছেছে। তবে টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী, ইরান দলকে তাদের গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ম্যাচই খেলতে হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে। যেহেতু প্রতিনিধি দলের একটি বড় অংশের মার্কিন ভিসা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত জটিল, তাই ইরান দলকে মেক্সিকোর বেস ক্যাম্পে অবস্থান করেই যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ খেলতে যেতে হবে। ম্যাচ শেষে মার্কিন মুলুকে অবস্থান না করে দিনে গিয়ে দিনেই আবার মেক্সিকোতে ফিরে আসতে হবে ইরানি ফুটবলার ও অফিশিয়ালদের, যা টুর্নামেন্ট চলাকালীন খেলোয়াড়দের শারীরিক ক্লান্তি ও মাঠের পারফরম্যান্সে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।