ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ভেঙে গেল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা, মমতা এখন কী করবেন দুবাই থেকে গ্রেপ্তার মূল আসামি আরিফ বরিশালে নারী শিক্ষার্থীকে হত্যা, মূল আসামি মাইনুল গ্রেপ্তার বিয়ের ১০ বছর পর একসঙ্গে সাত সন্তানের জন্ম, বাঁচল না কেউ মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত দিপালীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে জামায়াত আমিরের সঙ্গে জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের বৈঠক মায়ের কাছে স্মার্ট ফোনের আবদার, টাকা না পেয়ে যুবকের আত্মহত্যা বিদ্যালয়ে সিনিয়রকে ‘তুই’ সম্বোধন করায় মাথা ফাটলো দুই শিক্ষার্থীর হাসপাতালে গৃহবধূর মরদেহ রেখে পালালেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর বিষয়ে সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আমদানির গুজবে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু, সিন্ডিকেটের কারসাজিতেই হঠাৎ বেড়েছিল দাম

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৫৩:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ৭৮০ বার পড়া হয়েছে

বাজারে সিন্ডিকেট চক্রের কারসাজিতে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৭০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়া পেঁয়াজের দাম আবারও কমতে শুরু করেছে। আগের কয়েকদিন রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও, গতকাল রোববার তা নেমে এসেছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দাম কমতে শুরু করেছে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, “ভারত থেকে আমদানির খবরে আড়তদর কমে গেছে, তাই আমরাও ১০–২০ টাকা কমে বিক্রি করছি। দু-এক দিনের মধ্যে দাম আরও কমতে পারে।”

রাজধানীর শান্তিনগর, নয়াবাজার, হাতিরপুল ও পলাশীসহ বিভিন্ন বাজারেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

রোববার বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক ব্রিফিংয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “চলতি সপ্তাহের মধ্যে দাম কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না নামলে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” তিনি জানান, দেশে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং দুই সপ্তাহের মধ্যেই নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমাদের কাছে ২ হাজার ৮০০টি আমদানির আবেদন এসেছে। এর ১০ শতাংশ অনুমোদন দিলেও বাজারে সয়লাব হবে, কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।”

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. জামাল উদ্দীন বলেন, “দেশে এখনো কৃষকের হাতে প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আছে। কোনো সংকট নেই। অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আমদানির পাঁয়তারা করছে।”

তিনি আরও বলেন, ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ ‘আমদানিকারকচক্রের প্রভাবে’ হয়ে থাকতে পারে। বাস্তবে সংকট না থাকা সত্ত্বেও বাজারে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “বাজারের কারসাজি বন্ধ না করে এখন আমদানি অনুমোদন দেওয়া হলে কৃষক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন।”

সরকারি সংস্থাগুলোর দাবি—দেশে পেঁয়াজের যথেষ্ট মজুত রয়েছে, এবং বাজার শিগগিরই স্থিতিশীল হবে। তবে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দাবি, সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এমন অস্থিরতা চলতেই থাকবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেঙে গেল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা, মমতা এখন কী করবেন

আমদানির গুজবে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু, সিন্ডিকেটের কারসাজিতেই হঠাৎ বেড়েছিল দাম

আপডেট সময় ০৯:৫৩:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

বাজারে সিন্ডিকেট চক্রের কারসাজিতে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৭০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়া পেঁয়াজের দাম আবারও কমতে শুরু করেছে। আগের কয়েকদিন রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও, গতকাল রোববার তা নেমে এসেছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দাম কমতে শুরু করেছে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, “ভারত থেকে আমদানির খবরে আড়তদর কমে গেছে, তাই আমরাও ১০–২০ টাকা কমে বিক্রি করছি। দু-এক দিনের মধ্যে দাম আরও কমতে পারে।”

রাজধানীর শান্তিনগর, নয়াবাজার, হাতিরপুল ও পলাশীসহ বিভিন্ন বাজারেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

রোববার বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক ব্রিফিংয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “চলতি সপ্তাহের মধ্যে দাম কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না নামলে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” তিনি জানান, দেশে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং দুই সপ্তাহের মধ্যেই নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমাদের কাছে ২ হাজার ৮০০টি আমদানির আবেদন এসেছে। এর ১০ শতাংশ অনুমোদন দিলেও বাজারে সয়লাব হবে, কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।”

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. জামাল উদ্দীন বলেন, “দেশে এখনো কৃষকের হাতে প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আছে। কোনো সংকট নেই। অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আমদানির পাঁয়তারা করছে।”

তিনি আরও বলেন, ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ ‘আমদানিকারকচক্রের প্রভাবে’ হয়ে থাকতে পারে। বাস্তবে সংকট না থাকা সত্ত্বেও বাজারে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “বাজারের কারসাজি বন্ধ না করে এখন আমদানি অনুমোদন দেওয়া হলে কৃষক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন।”

সরকারি সংস্থাগুলোর দাবি—দেশে পেঁয়াজের যথেষ্ট মজুত রয়েছে, এবং বাজার শিগগিরই স্থিতিশীল হবে। তবে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দাবি, সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এমন অস্থিরতা চলতেই থাকবে।