ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাঝ আকাশে আর্জেন্টাইন পাইলটের আত্মহত্যা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:২৩:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

আর্জেন্টিনায় একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালে ঘটে গেছে মর্মান্তিক এক ঘটনা। মাঝ আকাশে উড়ন্ত বিমান থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন একজন অভিজ্ঞ ফ্লাইট প্রশিক্ষক। তবে চরম সংকটের মুহূর্তে অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে মাত্র ২২ বছর বয়সী এক শিক্ষানবিশ একাই বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করিয়ে সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা এড়ান।

 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দেশটির পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় এ ঘটনার তথ্য প্রকাশ করে। যদিও ঘটনাটি ঘটেছিল গত শনিবার।

 

 

নিহত প্রশিক্ষকের নাম লিয়ান্দ্রো আন্দ্রেস বেরতাজ্জো (৪২)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফ্লাইট প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, সেসনা ১৫০ মডেলের একটি প্রশিক্ষণ বিমানে শিক্ষানবিশ রোজারিওকে নিয়ে প্রশিক্ষণ উড্ডয়নে ছিলেন বেরতাজ্জো। তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে রোজারিও জানান, উড্ডয়নের একপর্যায়ে হঠাৎ করেই তার প্রশিক্ষক মাথা থেকে হেডসেট এবং শরীরের সিটবেল্ট খুলে ফেলেন। এরপর বিমানের দরজা খোলার আগে তিনি শিক্ষার্থীকে বলেন, “তুমি জানো তোমাকে কী করতে হবে, চালিয়ে যাও।”

 

এরপরই তিনি চলন্ত বিমান থেকে নিচে ঝাঁপ দেন। ঘটনাটির পর শিক্ষানবিশ রোজারিও একাই বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হন। পরে উদ্ধারকারী দল তল্লাশি চালিয়ে বেরতাজ্জোর মরদেহ উদ্ধার করে।

 

বেরতাজ্জো কর্মরত ছিলেন ‘ফ্লাইং প্যারট কর্ডোবা’ ফ্লাইং স্কুলে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক এদুয়ার্দো আলভারেজ জানান, তিনি অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি মানুষ ছিলেন। ঘটনার দিন সকালেও তিনি আরেকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে সফলভাবে একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট সম্পন্ন করেছিলেন। তাই তার এমন সিদ্ধান্তে সবাই বিস্মিত।

 

আলভারেজের ভাষায়, দ্রুতগতিতে ছুটে চলা গাড়ির দরজা খোলার মতো চলন্ত বিমানের দরজা খোলা অত্যন্ত কঠিন। একজন শিক্ষার্থীকে পাশে রেখেই তিনি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তার কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

 

প্রশিক্ষকের এমন আচরণে রোজারিও প্রথমে হতভম্ব হয়ে পড়লেও পরে সাহসিকতার পরিচয় দেন। নিজের সীমিত অভিজ্ঞতা নিয়েই তিনি বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হন।

 

উল্লেখ্য, লিয়ান্দ্রো শুধু আর্জেন্টিনায় নয়, প্রতিবেশী রাষ্ট্র চিলিতেও দীর্ঘ সময় ধরে ফ্লাইট প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন এবং পেশাগত দক্ষতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মাঝ আকাশে আর্জেন্টাইন পাইলটের আত্মহত্যা

আপডেট সময় ০১:২৩:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

আর্জেন্টিনায় একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালে ঘটে গেছে মর্মান্তিক এক ঘটনা। মাঝ আকাশে উড়ন্ত বিমান থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন একজন অভিজ্ঞ ফ্লাইট প্রশিক্ষক। তবে চরম সংকটের মুহূর্তে অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে মাত্র ২২ বছর বয়সী এক শিক্ষানবিশ একাই বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করিয়ে সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা এড়ান।

 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দেশটির পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় এ ঘটনার তথ্য প্রকাশ করে। যদিও ঘটনাটি ঘটেছিল গত শনিবার।

 

 

নিহত প্রশিক্ষকের নাম লিয়ান্দ্রো আন্দ্রেস বেরতাজ্জো (৪২)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফ্লাইট প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, সেসনা ১৫০ মডেলের একটি প্রশিক্ষণ বিমানে শিক্ষানবিশ রোজারিওকে নিয়ে প্রশিক্ষণ উড্ডয়নে ছিলেন বেরতাজ্জো। তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে রোজারিও জানান, উড্ডয়নের একপর্যায়ে হঠাৎ করেই তার প্রশিক্ষক মাথা থেকে হেডসেট এবং শরীরের সিটবেল্ট খুলে ফেলেন। এরপর বিমানের দরজা খোলার আগে তিনি শিক্ষার্থীকে বলেন, “তুমি জানো তোমাকে কী করতে হবে, চালিয়ে যাও।”

 

এরপরই তিনি চলন্ত বিমান থেকে নিচে ঝাঁপ দেন। ঘটনাটির পর শিক্ষানবিশ রোজারিও একাই বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হন। পরে উদ্ধারকারী দল তল্লাশি চালিয়ে বেরতাজ্জোর মরদেহ উদ্ধার করে।

 

বেরতাজ্জো কর্মরত ছিলেন ‘ফ্লাইং প্যারট কর্ডোবা’ ফ্লাইং স্কুলে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক এদুয়ার্দো আলভারেজ জানান, তিনি অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি মানুষ ছিলেন। ঘটনার দিন সকালেও তিনি আরেকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে সফলভাবে একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট সম্পন্ন করেছিলেন। তাই তার এমন সিদ্ধান্তে সবাই বিস্মিত।

 

আলভারেজের ভাষায়, দ্রুতগতিতে ছুটে চলা গাড়ির দরজা খোলার মতো চলন্ত বিমানের দরজা খোলা অত্যন্ত কঠিন। একজন শিক্ষার্থীকে পাশে রেখেই তিনি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তার কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

 

প্রশিক্ষকের এমন আচরণে রোজারিও প্রথমে হতভম্ব হয়ে পড়লেও পরে সাহসিকতার পরিচয় দেন। নিজের সীমিত অভিজ্ঞতা নিয়েই তিনি বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হন।

 

উল্লেখ্য, লিয়ান্দ্রো শুধু আর্জেন্টিনায় নয়, প্রতিবেশী রাষ্ট্র চিলিতেও দীর্ঘ সময় ধরে ফ্লাইট প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন এবং পেশাগত দক্ষতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন।