ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিফা প্রেসিডেন্টকে নির্বাচনে জেতাতে ‘গোপন’ চুক্তি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৪৫:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের নানা বিতর্কও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রেফারিং, শাস্তি প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ও এর সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে সমালোচনা ক্রমেই বাড়ছে। এরই মধ্যে নতুন এক প্রতিবেদনে সামনে এসেছে আরও একটি আলোচিত দাবি।

 

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচন নিশ্চিত করতে গোপনে সমর্থন জোগাড়ের একটি পরিকল্পনায় ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) যুক্ত ছিল।

 

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ইনফান্তিনোর পরবর্তী মেয়াদ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রভাবশালী ফুটবল ফেডারেশনের সমর্থন চাওয়া হয়। এতে ফিফার পক্ষ থেকে নীরব ও কৌশলগত কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

 

তবে এ বিষয়ে ফিফা কিংবা ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

 

টেলিগ্রাফের সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছিল ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এমনকি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর ইনফান্তিনোর পক্ষে আনুষ্ঠানিক সমর্থনপত্র পাঠানোর প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছিল তারা। তবে ফিফা সভাপতি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে চলমান বিতর্কের কারণে সেই সমর্থনপত্র আদৌ পাঠানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি এফএ।

 

এই নীরব অবস্থানের কারণে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছে ইংল্যান্ডের ফুটবল প্রশাসন। এফএর সাবেক চেয়ারম্যান ডেভিড বার্নস্টেইনসহ ব্রিটিশ রাজনৈতিক অঙ্গনের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রকাশ্যেই ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছেন।

 

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, ইনফান্তিনোর সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না এফএ। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থ। আগামী নভেম্বরে ২০৩১ নারী বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে ইংল্যান্ডের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পুরুষদের বিশ্বকাপ আয়োজনের দৌড়েও থাকতে চায় দেশটি। সেই প্রেক্ষাপটে ফিফা সভাপতির সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

 

২০১৬ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর টানা এক দশক ধরে ফিফার শীর্ষ পদে আছেন ইনফান্তিনো। ২০১৯ ও ২০২৩ সালের নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। ২০২৭ সালের নির্বাচনেও তার বিরুদ্ধে শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়াবে কি না, তা নিয়েই সংশয় রয়েছে।

 

এর বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে তার চালু করা ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ কর্মসূচিকে। এই প্রকল্পের আওতায় বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ফুটবল উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিপুল পরিমাণ অর্থায়ন করা হয়েছে। ফলে ফিফার সদস্য দেশগুলোর অনেক ফুটবল ফেডারেশনের আয় ও অবকাঠামোগত সুবিধা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিফা প্রেসিডেন্টকে নির্বাচনে জেতাতে ‘গোপন’ চুক্তি

আপডেট সময় ০১:৪৫:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের নানা বিতর্কও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রেফারিং, শাস্তি প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ও এর সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে সমালোচনা ক্রমেই বাড়ছে। এরই মধ্যে নতুন এক প্রতিবেদনে সামনে এসেছে আরও একটি আলোচিত দাবি।

 

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচন নিশ্চিত করতে গোপনে সমর্থন জোগাড়ের একটি পরিকল্পনায় ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) যুক্ত ছিল।

 

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ইনফান্তিনোর পরবর্তী মেয়াদ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রভাবশালী ফুটবল ফেডারেশনের সমর্থন চাওয়া হয়। এতে ফিফার পক্ষ থেকে নীরব ও কৌশলগত কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

 

তবে এ বিষয়ে ফিফা কিংবা ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

 

টেলিগ্রাফের সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছিল ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এমনকি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর ইনফান্তিনোর পক্ষে আনুষ্ঠানিক সমর্থনপত্র পাঠানোর প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছিল তারা। তবে ফিফা সভাপতি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে চলমান বিতর্কের কারণে সেই সমর্থনপত্র আদৌ পাঠানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি এফএ।

 

এই নীরব অবস্থানের কারণে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছে ইংল্যান্ডের ফুটবল প্রশাসন। এফএর সাবেক চেয়ারম্যান ডেভিড বার্নস্টেইনসহ ব্রিটিশ রাজনৈতিক অঙ্গনের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রকাশ্যেই ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছেন।

 

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, ইনফান্তিনোর সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না এফএ। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থ। আগামী নভেম্বরে ২০৩১ নারী বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে ইংল্যান্ডের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পুরুষদের বিশ্বকাপ আয়োজনের দৌড়েও থাকতে চায় দেশটি। সেই প্রেক্ষাপটে ফিফা সভাপতির সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

 

২০১৬ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর টানা এক দশক ধরে ফিফার শীর্ষ পদে আছেন ইনফান্তিনো। ২০১৯ ও ২০২৩ সালের নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। ২০২৭ সালের নির্বাচনেও তার বিরুদ্ধে শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়াবে কি না, তা নিয়েই সংশয় রয়েছে।

 

এর বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে তার চালু করা ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ কর্মসূচিকে। এই প্রকল্পের আওতায় বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ফুটবল উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিপুল পরিমাণ অর্থায়ন করা হয়েছে। ফলে ফিফার সদস্য দেশগুলোর অনেক ফুটবল ফেডারেশনের আয় ও অবকাঠামোগত সুবিধা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।