ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রংপুর বিভাগকে বাজেট বৈষম্যের মধ্যে রাখা যাবে না: আখতার হোসেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান বিজেপি মন্ত্রীর জুলাই কোনো নির্দিষ্ট দলের নয় : রিজভী দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে এবার মুখ খুললেন রাহুল গান্ধী শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার ধর্ষণের অভিযোগে যুবককে গণপিটুনি ও পুরুষাঙ্গে মরিচের গুঁড়া লাগালো এলাকাবাসী মাদক-চাঁদাবাজদের ধরিয়ে দিলে লাখ টাকা পুরস্কার দিল্লির আন্দোলন ঘিরে কঙ্গনার কড়া সমালোচনা আর্জেন্টিনাকে কাঁদানো ফেরান তোরেসের জীবনের গল্প আর্জেন্টিনার হারে মেসির পাশে দাঁড়ালেন অমিতাভ বচ্চন

সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১৮:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৬৩ বার পড়া হয়েছে

এবার সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার জবাবে সৌদির এই বিমানবন্দরে হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানসমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। আর এটিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় উত্তেজনা বলে মনে করা হচ্ছে। বার্তাসংস্থা এপি বলছে, সোমবার (১৩ জুলাই) সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের হামলার জবাব হিসেবে একইদিন আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে হুথিরা জানিয়েছে। তবে এ হামলায় এখনও কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া ইয়েমেনে হামলার বিষয়ে সৌদি আরবের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেননি।

এদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর থেকে অবরোধ তুলে না নেয়া পর্যন্ত এ সতর্কবার্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এর আগে জানিয়েছিল, সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার উদ্দেশ্য ছিল একটি ইরানি বিমানকে সেখানে অবতরণ করতে বাধা দেয়া। তবে ওই হামলার প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করে হুথিরা। তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে এটিই প্রথম বড় ধরনের উত্তেজনা।

অন্যদিকে সোমবার বিকেলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জাতিসংঘের রাজনৈতিকবিষয়ক সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি বলেন, ‘ইয়েমেন এবং পুরো অঞ্চল আরেক দফা সংঘাতের সামর্থ্য রাখে না। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আলোচনায় গঠনমূলকভাবে অংশ নেয়ার জন্য আমরা সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।মূলত দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলভিত্তিক সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট উত্তরাঞ্চলে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে। এর আগে সোমবার টেলিগ্রামে দেয়া এক বার্তায় ইয়াহিয়া সারি বলেন, সৌদি আরবের বিমান হামলার মাধ্যমেউত্তেজনা কমানোর সময়ের সমাপ্তিঘটেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই আগ্রাসনের জবাব দেয়া হবে এবং শাস্তি পেতে হবে পরে দেয়া আরেকটি বার্তায় সারি বলেন, সানার হামলার লক্ষ্য ছিল রোগী ও আটকে পড়া মানুষদের বহনকারী মানবিক ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা ও উত্তর ইয়েমেনের বড় অংশ দখল করার পর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এরপর সরকার দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। পরের বছর সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরাতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই জোটে সংযুক্ত আরব আমিরাতও (ইউএই) ছিল। তবে চলতি বছরের শুরুতে ইয়েমেন যুদ্ধ নিয়ে সৌদি আরব ও ইউএইর মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ে। এর জেরে ইয়েমেন থেকে সরে যায় আরব আমিরাত। অবশ্য সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আলমালকি সোমবার রাতে এক্সে দেয়া এক পোস্টে জানান, হুথিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণাঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুর বিভাগকে বাজেট বৈষম্যের মধ্যে রাখা যাবে না: আখতার হোসেন

সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

আপডেট সময় ১০:১৮:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

এবার সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার জবাবে সৌদির এই বিমানবন্দরে হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানসমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। আর এটিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় উত্তেজনা বলে মনে করা হচ্ছে। বার্তাসংস্থা এপি বলছে, সোমবার (১৩ জুলাই) সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের হামলার জবাব হিসেবে একইদিন আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে হুথিরা জানিয়েছে। তবে এ হামলায় এখনও কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া ইয়েমেনে হামলার বিষয়ে সৌদি আরবের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেননি।

এদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর থেকে অবরোধ তুলে না নেয়া পর্যন্ত এ সতর্কবার্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এর আগে জানিয়েছিল, সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার উদ্দেশ্য ছিল একটি ইরানি বিমানকে সেখানে অবতরণ করতে বাধা দেয়া। তবে ওই হামলার প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করে হুথিরা। তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে এটিই প্রথম বড় ধরনের উত্তেজনা।

অন্যদিকে সোমবার বিকেলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জাতিসংঘের রাজনৈতিকবিষয়ক সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি বলেন, ‘ইয়েমেন এবং পুরো অঞ্চল আরেক দফা সংঘাতের সামর্থ্য রাখে না। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আলোচনায় গঠনমূলকভাবে অংশ নেয়ার জন্য আমরা সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।মূলত দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলভিত্তিক সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট উত্তরাঞ্চলে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে। এর আগে সোমবার টেলিগ্রামে দেয়া এক বার্তায় ইয়াহিয়া সারি বলেন, সৌদি আরবের বিমান হামলার মাধ্যমেউত্তেজনা কমানোর সময়ের সমাপ্তিঘটেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই আগ্রাসনের জবাব দেয়া হবে এবং শাস্তি পেতে হবে পরে দেয়া আরেকটি বার্তায় সারি বলেন, সানার হামলার লক্ষ্য ছিল রোগী ও আটকে পড়া মানুষদের বহনকারী মানবিক ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা ও উত্তর ইয়েমেনের বড় অংশ দখল করার পর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এরপর সরকার দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। পরের বছর সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরাতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই জোটে সংযুক্ত আরব আমিরাতও (ইউএই) ছিল। তবে চলতি বছরের শুরুতে ইয়েমেন যুদ্ধ নিয়ে সৌদি আরব ও ইউএইর মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ে। এর জেরে ইয়েমেন থেকে সরে যায় আরব আমিরাত। অবশ্য সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আলমালকি সোমবার রাতে এক্সে দেয়া এক পোস্টে জানান, হুথিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণাঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।