ঢাকা , শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ভিআইপি গ্যালারিতে থাকছেন ট্রাম্প, আর্জেন্টিনা-স্পেনের প্রধানরা থাকছেন কি? ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বললেন যুক্তরাজ্যের হবু প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পেয়ে নাহিদ এক দফার ঘোষণা করেছিল: রাশেদ খান আইনমন্ত্রীর পরিচয়ে প্রতারণা করতেন আতিয়ার দাবানলের ধোঁয়ায় ফাইনালের আগে নিউইয়র্কে বায়ুদূষণ সতর্কতা ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পর্শকাতর তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাস চুয়াডাঙ্গায় বাল্যবিয়ের আয়োজনে প্রশাসনের হানা, কনের মাকে জরিমানা লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হলেন যুক্তরাজ্যের হবু প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফরের বিচার অন্য আসামিদের মতোই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেক্সিকোতে ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা

অবৈধ সম্পদ মামলায় তদন্তে বিলম্ব, দুদকের কাছে ব্যাখ্যা চাইলেন আদালত

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক শহিদুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা পৃথক দুটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আদালতে দাখিল না হওয়ায় তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন আদালত। এমন নির্দেশনার প্রেক্ষিতে আদালতে লিখিতভাবে ব্যাখা দিয়েছেন মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঠাকুরগাঁওয়ের উপসহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলমের জমা দেয়া কপি থেকে জানা গেছে, শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়।

মামলার দায়িত্ব পাওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ, নথি যাচাই এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছিলেন। তবে তদন্ত চলাকালে শহীদুল ইসলাম মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নম্বর-৩১০/২০২৪ দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি শেষে একই বছরের ১৬ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি করেন এবং দুদকের নোটিশসহ স্পেশাল মামলা নম্বর-০৩/২০২৩-এর সব কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। পরে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং ৩১ জুলাই ২০২৪ তারিখে পৃথক নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে হাইকোর্টের আদেশ অনুসরণ করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩০ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জুন আদালতে বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়া হয়।

লিখিত ব্যাখ্যায় আরও উল্লেখ করা হয়, মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়মিতভাবে দুদকের প্রধান কার্যালয়কে জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় আইনগত উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রধান কার্যালয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। রিট নিষ্পত্তি ও কমিশনের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

আর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আসামিপক্ষের করা রিটের কারণে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত আছে। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম এম সফিউজ্জামান সুমন বলেন, মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা হলেই পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জমি অধিগ্রহণের সুযোগ নিয়ে কম দামে জমি কিনে পরে বেশি দামে বিক্রি, টিসিবির পণ্য বিতরণে অনিয়মসহ বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে শহিদুল ইসলাম অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শহিদুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী কামরুন নাহারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভিআইপি গ্যালারিতে থাকছেন ট্রাম্প, আর্জেন্টিনা-স্পেনের প্রধানরা থাকছেন কি?

অবৈধ সম্পদ মামলায় তদন্তে বিলম্ব, দুদকের কাছে ব্যাখ্যা চাইলেন আদালত

আপডেট সময় ০৫:৪৮:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক শহিদুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা পৃথক দুটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আদালতে দাখিল না হওয়ায় তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন আদালত। এমন নির্দেশনার প্রেক্ষিতে আদালতে লিখিতভাবে ব্যাখা দিয়েছেন মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঠাকুরগাঁওয়ের উপসহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলমের জমা দেয়া কপি থেকে জানা গেছে, শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়।

মামলার দায়িত্ব পাওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ, নথি যাচাই এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছিলেন। তবে তদন্ত চলাকালে শহীদুল ইসলাম মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নম্বর-৩১০/২০২৪ দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি শেষে একই বছরের ১৬ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি করেন এবং দুদকের নোটিশসহ স্পেশাল মামলা নম্বর-০৩/২০২৩-এর সব কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। পরে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং ৩১ জুলাই ২০২৪ তারিখে পৃথক নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে হাইকোর্টের আদেশ অনুসরণ করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩০ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জুন আদালতে বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়া হয়।

লিখিত ব্যাখ্যায় আরও উল্লেখ করা হয়, মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়মিতভাবে দুদকের প্রধান কার্যালয়কে জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় আইনগত উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রধান কার্যালয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। রিট নিষ্পত্তি ও কমিশনের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

আর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আসামিপক্ষের করা রিটের কারণে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত আছে। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম এম সফিউজ্জামান সুমন বলেন, মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা হলেই পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জমি অধিগ্রহণের সুযোগ নিয়ে কম দামে জমি কিনে পরে বেশি দামে বিক্রি, টিসিবির পণ্য বিতরণে অনিয়মসহ বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে শহিদুল ইসলাম অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শহিদুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী কামরুন নাহারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।