ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মরক্কো-স্কটল্যান্ডে ঝুঁলছে ব্রাজিলের গ্রুপ ভাগ্য মেহেরপুর সীমান্তে চারজনকে পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবির অবস্থানে ব্যর্থ বিএসএফ ৬ কোটি টাকার বৃত্তি পেলেন চাঁদপুরের সানজিদা তুলি আজ থেকে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল-লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী : অ্যাক্সিওস বাংলাদেশ সীমান্তে জমি অধিগ্রহণে গিয়ে কৃষকদের বিক্ষোভের মুখে শুভেন্দু সরকার পাকিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান পুরুষদের বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লেন লেডি আমেরিকান ট্রিও রেফারি টরি-ব্রুক-ক্যাথরিন কুবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা, নেতৃত্বে দেড় যুগ আগের শিক্ষার্থী আফগানিস্তানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করল তালেবান এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, থানায় জিডি

প্রধানমন্ত্রীর একজন সহকর্মী রয়েছেন, যাকে “সর্বমন্ত্রী” বলা হয়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৩২:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার গণভোটের রায়কে অস্বীকার করে জনগণের মতামতের প্রতি অসম্মান দেখিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সরকারের বিভিন্ন নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টার অভিযোগও তুলেছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) নারায়ণগঞ্জের মাসদাইরে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-কে ইঙ্গিত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একজন সহকর্মী রয়েছেন, যাকে “সর্বমন্ত্রী” বলা হয়। তার ভাষায়, তিনি সব মন্ত্রণালয়ে হস্তক্ষেপ করেন এবং সংসদেও নানা বিষয়ে মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও পরবর্তী অবস্থানের মধ্যে অসঙ্গতি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গণভোটে অংশ নেওয়া বিপুলসংখ্যক ভোটারের রায়ের মূল্য সরকার কতটুকু দিয়েছে।

তিনি দাবি করেন, বিএনপি শুরুতে গণভোটের বিষয়ে নীরব থাকলেও পরে জনমতের চাপে অবস্থান স্পষ্ট করতে বাধ্য হয়েছিল। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পাওয়া সত্ত্বেও সরকার ক্ষমতায় এসে সেই রায়কে অস্বীকার করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ এবং জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয়করণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তার মতে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, “একটি দলীয় শাসন, একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণ এসব মেনে নেবে না।”

সংসদে বিরোধী দলের প্রতি আচরণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলগুলোকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করত। এখন বিএনপিও একই ধরনের রাজনৈতিক ভাষা ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জনগণ এসব গ্রহণ করে না। তরুণ সমাজ এসব শুনতে চায় না। তরুণদের ভাষা ও প্রত্যাশা বোঝার চেষ্টা করতে হবে, অন্যথায় রাজনৈতিক ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।”

সরকারকে জনকল্যাণমুখী ও জনবান্ধব নীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, কার্যকর সুশাসন ও জবাবদিহিতা দেখতে চায়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মরক্কো-স্কটল্যান্ডে ঝুঁলছে ব্রাজিলের গ্রুপ ভাগ্য

প্রধানমন্ত্রীর একজন সহকর্মী রয়েছেন, যাকে “সর্বমন্ত্রী” বলা হয়

আপডেট সময় ০৪:৩২:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার গণভোটের রায়কে অস্বীকার করে জনগণের মতামতের প্রতি অসম্মান দেখিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সরকারের বিভিন্ন নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টার অভিযোগও তুলেছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) নারায়ণগঞ্জের মাসদাইরে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-কে ইঙ্গিত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একজন সহকর্মী রয়েছেন, যাকে “সর্বমন্ত্রী” বলা হয়। তার ভাষায়, তিনি সব মন্ত্রণালয়ে হস্তক্ষেপ করেন এবং সংসদেও নানা বিষয়ে মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও পরবর্তী অবস্থানের মধ্যে অসঙ্গতি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গণভোটে অংশ নেওয়া বিপুলসংখ্যক ভোটারের রায়ের মূল্য সরকার কতটুকু দিয়েছে।

তিনি দাবি করেন, বিএনপি শুরুতে গণভোটের বিষয়ে নীরব থাকলেও পরে জনমতের চাপে অবস্থান স্পষ্ট করতে বাধ্য হয়েছিল। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পাওয়া সত্ত্বেও সরকার ক্ষমতায় এসে সেই রায়কে অস্বীকার করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ এবং জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয়করণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তার মতে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, “একটি দলীয় শাসন, একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণ এসব মেনে নেবে না।”

সংসদে বিরোধী দলের প্রতি আচরণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলগুলোকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করত। এখন বিএনপিও একই ধরনের রাজনৈতিক ভাষা ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জনগণ এসব গ্রহণ করে না। তরুণ সমাজ এসব শুনতে চায় না। তরুণদের ভাষা ও প্রত্যাশা বোঝার চেষ্টা করতে হবে, অন্যথায় রাজনৈতিক ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।”

সরকারকে জনকল্যাণমুখী ও জনবান্ধব নীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, কার্যকর সুশাসন ও জবাবদিহিতা দেখতে চায়।