ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইকনের পড়ালেখার দায়িত্ব নিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের পাশে স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসকেরা শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অ্যাকশনে বিজেপি ও শরিকদের অস্বস্তি রান্নার সময় মাংসের রং হলো সবুজ, কড়াই নিয়ে থানায় হাজির শিশুকে বলাৎকার করে মাদরাসাশিক্ষক বললেন, ‘মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ তারেক রহমানের পাঙ্খা গজাইছে, সব পাঙ্খা ভেঙে মাটিতে পড়ে যাবে: পাটওয়ারী যে মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীকে লাল কার্ড ধরিয়ে দিতে চান পাটওয়ারী, সেই মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন সারজিস আলম সরকারি নির্দেশেই দিল্লিতে ইন্টারনেট বন্ধ, দাবি টেলিকম সংস্থাগুলোর বাবাকে হারিয়েও থামেনি জীবন, রাতের ডিউটি শেষে সকালে এইচএসসি পরীক্ষা দিলেন ইকন মেয়েটা যে অরক্ষিত হলো, এই দায়ভার কে নেবে: মনিরা শারমিন

নেইমারের দেশ ব্রাজিলে বাড়ছে ইসলামের অনুসারী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • ১১৩ বার পড়া হয়েছে

এবার ফুটবল, সাম্বা আর কার্নিভালের দেশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ব্রাজিল। পেলে, রোনালদো, রোনালদিনহো কিংবা নেইমারের দেশটি যেমন ফুটবল উন্মাদনার জন্য বিখ্যাত, তেমনি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরেকটি কারণে আলোচনায় আসছে দেশটিতে ইসলামের ক্রমবর্ধমান বিস্তার। খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ এই লাতিন আমেরিকান দেশে মুসলিমরা এখনও সংখ্যালঘু। তবে তাদের সংখ্যা, সামাজিক উপস্থিতি এবং ধর্মীয় কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অভিবাসনের পাশাপাশি স্থানীয় ব্রাজিলীয়দের ইসলাম গ্রহণের প্রবণতাও দিন দিন বাড়ছে, যা দেশটিতে ইসলামের বিকাশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা ও স্থানীয় ইসলামিক সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্রাজিলে মুসলিম জনসংখ্যা কয়েক লাখ থেকে ১৫ লাখের মধ্যে বলে ধারণা করা হয়। সরকারি আদমশুমারিতে মুসলিমদের সংখ্যা তুলনামূলক কম দেখা গেলেও ইসলামিক সেন্টারগুলোর মতে, প্রকৃত সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। মুসলিমদের ধর্মীয় জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো। বর্তমানে ব্রাজিলে ১৫০টিরও বেশি সক্রিয় মসজিদ রয়েছে। এর মধ্যে সাও পাওলোর ঐতিহাসিকমেসকিতা ব্রাজিল’, ফোজ দো ইগুয়াসুরওমর ইবনুল খাত্তাব মসজিদএবং কুরিতিবারইমাম আলী ইবনে আবি তালিব মসজিদবিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে লেবানন, সিরিয়া ও ফিলিস্তিন থেকে আসা অভিবাসীরা। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় ব্রাজিলীয়দের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের হার বৃদ্ধি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইসলামিক শিক্ষাকেন্দ্র এবং মুসলিম কমিউনিটির সক্রিয়তার কারণে অনেক ব্রাজিলীয় ইসলাম সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন এবং আগ্রহী হচ্ছেন। ব্রাজিলের মুসলিমদের বেশিরভাগই বসবাস করেন সাও পাওলো, রিও ডি জেনেইরো, ব্রাসিলিয়া, কুরিতিবা এবং ফোজ দো ইগুয়াসুর মতো বড় শহরগুলোতে। এসব শহরে মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং হালাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হালাল মাংস রপ্তানিকারক দেশও ব্রাজিল। ফলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রভাব ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশের কারণে দেশটিতে ইসলাম চর্চার সুযোগও তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত। ফুটবল ও সাম্বার দেশ হিসেবে পরিচিত ব্রাজিলের সামাজিক বাস্তবতায় ইসলাম এখন আর কেবল অভিবাসীদের ধর্ম নয়। বরং এটি দেশটির বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের সম্প্রসারণ এবং স্থানীয়দের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী বছরগুলোতে ব্রাজিলে ইসলামের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইকনের পড়ালেখার দায়িত্ব নিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী

নেইমারের দেশ ব্রাজিলে বাড়ছে ইসলামের অনুসারী

আপডেট সময় ১০:৩৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

এবার ফুটবল, সাম্বা আর কার্নিভালের দেশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ব্রাজিল। পেলে, রোনালদো, রোনালদিনহো কিংবা নেইমারের দেশটি যেমন ফুটবল উন্মাদনার জন্য বিখ্যাত, তেমনি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরেকটি কারণে আলোচনায় আসছে দেশটিতে ইসলামের ক্রমবর্ধমান বিস্তার। খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ এই লাতিন আমেরিকান দেশে মুসলিমরা এখনও সংখ্যালঘু। তবে তাদের সংখ্যা, সামাজিক উপস্থিতি এবং ধর্মীয় কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অভিবাসনের পাশাপাশি স্থানীয় ব্রাজিলীয়দের ইসলাম গ্রহণের প্রবণতাও দিন দিন বাড়ছে, যা দেশটিতে ইসলামের বিকাশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা ও স্থানীয় ইসলামিক সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্রাজিলে মুসলিম জনসংখ্যা কয়েক লাখ থেকে ১৫ লাখের মধ্যে বলে ধারণা করা হয়। সরকারি আদমশুমারিতে মুসলিমদের সংখ্যা তুলনামূলক কম দেখা গেলেও ইসলামিক সেন্টারগুলোর মতে, প্রকৃত সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। মুসলিমদের ধর্মীয় জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো। বর্তমানে ব্রাজিলে ১৫০টিরও বেশি সক্রিয় মসজিদ রয়েছে। এর মধ্যে সাও পাওলোর ঐতিহাসিকমেসকিতা ব্রাজিল’, ফোজ দো ইগুয়াসুরওমর ইবনুল খাত্তাব মসজিদএবং কুরিতিবারইমাম আলী ইবনে আবি তালিব মসজিদবিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে লেবানন, সিরিয়া ও ফিলিস্তিন থেকে আসা অভিবাসীরা। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় ব্রাজিলীয়দের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের হার বৃদ্ধি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইসলামিক শিক্ষাকেন্দ্র এবং মুসলিম কমিউনিটির সক্রিয়তার কারণে অনেক ব্রাজিলীয় ইসলাম সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন এবং আগ্রহী হচ্ছেন। ব্রাজিলের মুসলিমদের বেশিরভাগই বসবাস করেন সাও পাওলো, রিও ডি জেনেইরো, ব্রাসিলিয়া, কুরিতিবা এবং ফোজ দো ইগুয়াসুর মতো বড় শহরগুলোতে। এসব শহরে মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং হালাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হালাল মাংস রপ্তানিকারক দেশও ব্রাজিল। ফলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রভাব ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশের কারণে দেশটিতে ইসলাম চর্চার সুযোগও তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত। ফুটবল ও সাম্বার দেশ হিসেবে পরিচিত ব্রাজিলের সামাজিক বাস্তবতায় ইসলাম এখন আর কেবল অভিবাসীদের ধর্ম নয়। বরং এটি দেশটির বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের সম্প্রসারণ এবং স্থানীয়দের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী বছরগুলোতে ব্রাজিলে ইসলামের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হতে পারে।