ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঢাবির ছাত্রী ও তার মা-বোনকে কুপিয়ে হত্যা কোটালীপাড়ার সেতুতে ফুটবল দেশের পতাকার বদলে কালেমা খচিত পতাকা, সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসার ঝড় শাহজালালে বিমানের ইঞ্জিন বিকল, জরুরি দরজা ভে’ঙে যাত্রী উ’দ্ধা’র ‘শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিন পিংয়ের সাথে বৈঠক’ আ.লীগের মিছিলে গেলেই অর্ধেক মাসের বেতন, ১৫ দিনেই জামিনের নিশ্চয়তা! বিগত সময়ের ১৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প আমাদের জন্য বোঝা: অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে যে অবস্থা হতে পারে ঢাকার তিস্তাসহ দেশের বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনায় চীন-বাংলাদেশের ঐকমত্য ঢাকার হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর মর্যাদা দিলো ভারত বর্তমানে দেশে ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্বকাপের বল এবার মহাকাশে, নাসার গবেষণায় ‘ট্রিওন্ডা’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • ৪১ বার পড়া হয়েছে

ফুটবল মাঠে গড়ানোর আগেই বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল পাড়ি জমিয়েছে মহাকাশে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য তৈরি অ্যাডিডাসের ‘ট্রিওন্ডা’ বলকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে চালানো হয়েছে বিশেষ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা। বলের গতিবিধি, ভারসাম্য এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকারিতা আরও গভীরভাবে বোঝার লক্ষ্যেই এই গবেষণা পরিচালনা করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রিওন্ডা’ এবার নতুন এক মাইলফলক ছুঁয়েছে। মাঠে ব্যবহারের আগেই বলটি পৌঁছে গেছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস), যেখানে নভোচারীরা এটি নিয়ে বিশেষ গবেষণা পরিচালনা করেছেন।

শনিবার নাসা জানায়, আইএসএসে অবস্থানরত নভোচারীরা মাইক্রোগ্রাভিটি পরিবেশে অ্যাডিডাস নির্মিত ট্রিওন্ডা বলের ভারসাম্য, ভরকেন্দ্র এবং গতিপথের ওপর বিভিন্ন পরীক্ষা চালিয়েছেন। মূলত ফুটবলের নকশা ও প্রযুক্তি কীভাবে মাঠের পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করে, সে বিষয়ে আরও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করাই ছিল এই গবেষণার উদ্দেশ্য।

নাসার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্রীড়া প্রকৌশলীরা একটি ফুটবলের ভরকেন্দ্র ও ভারসাম্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নির্ধারণ করেন, যাতে ম্যাচ চলাকালে বলের গতিবিধি আরও স্থিতিশীল, নির্ভুল এবং পূর্বানুমানযোগ্য থাকে। সেই ধারণাকে বাস্তবে যাচাই করতেই মহাকাশে এই পরীক্ষা পরিচালিত হয়েছে।

গবেষণায় বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, বলের ভারসাম্যে সামান্য পরিবর্তনও তার চলাচল ও গতিপথে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি বলের ভেতরে সংযুক্ত আধুনিক সেন্সর প্রযুক্তির কার্যকারিতাও মূল্যায়ন করা হয়েছে।

অ্যাডিডাসের তৈরি ‘ট্রিওন্ডা’ বলটিতে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক ‘কানেক্টেড বল’ প্রযুক্তি। এতে থাকা ৫০০ হার্টজ গতির মোশন সেন্সর ম্যাচ চলাকালে বলের অবস্থান ও গতিবিধির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সিস্টেমে পাঠাতে সক্ষম। এর ফলে অফসাইডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে রেফারিরা আরও নির্ভুল তথ্য পান।

নাসার এই গবেষণা ২০১৯ সালে পরিচালিত একটি অনুরূপ পরীক্ষার ধারাবাহিকতা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই পরীক্ষার ফলাফল ভবিষ্যতে ফুটবলের নকশা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ‘ট্রিওন্ডা’ নামটি এসেছে স্প্যানিশ ভাষার ‘তিন তরঙ্গ’ ধারণা থেকে। এটি ২০২৬ বিশ্বকাপের তিন স্বাগতিক দেশ—United States, Canada এবং Mexico-এর ঐক্য ও যৌথ আয়োজনের প্রতীক। বলটির নকশাতেও তিন দেশের সংস্কৃতি ও পরিচয়ের বিভিন্ন উপাদান তুলে ধরা হয়েছে।

ফুটবলের ইতিহাসে এটি এক ব্যতিক্রমী ঘটনা, যেখানে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল শুধু মাঠেই নয়, গবেষণার অংশ হিসেবে মহাকাশেও জায়গা করে নিল।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবির ছাত্রী ও তার মা-বোনকে কুপিয়ে হত্যা

বিশ্বকাপের বল এবার মহাকাশে, নাসার গবেষণায় ‘ট্রিওন্ডা’

আপডেট সময় ১১:০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

ফুটবল মাঠে গড়ানোর আগেই বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল পাড়ি জমিয়েছে মহাকাশে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য তৈরি অ্যাডিডাসের ‘ট্রিওন্ডা’ বলকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে চালানো হয়েছে বিশেষ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা। বলের গতিবিধি, ভারসাম্য এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকারিতা আরও গভীরভাবে বোঝার লক্ষ্যেই এই গবেষণা পরিচালনা করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রিওন্ডা’ এবার নতুন এক মাইলফলক ছুঁয়েছে। মাঠে ব্যবহারের আগেই বলটি পৌঁছে গেছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস), যেখানে নভোচারীরা এটি নিয়ে বিশেষ গবেষণা পরিচালনা করেছেন।

শনিবার নাসা জানায়, আইএসএসে অবস্থানরত নভোচারীরা মাইক্রোগ্রাভিটি পরিবেশে অ্যাডিডাস নির্মিত ট্রিওন্ডা বলের ভারসাম্য, ভরকেন্দ্র এবং গতিপথের ওপর বিভিন্ন পরীক্ষা চালিয়েছেন। মূলত ফুটবলের নকশা ও প্রযুক্তি কীভাবে মাঠের পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করে, সে বিষয়ে আরও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করাই ছিল এই গবেষণার উদ্দেশ্য।

নাসার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্রীড়া প্রকৌশলীরা একটি ফুটবলের ভরকেন্দ্র ও ভারসাম্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নির্ধারণ করেন, যাতে ম্যাচ চলাকালে বলের গতিবিধি আরও স্থিতিশীল, নির্ভুল এবং পূর্বানুমানযোগ্য থাকে। সেই ধারণাকে বাস্তবে যাচাই করতেই মহাকাশে এই পরীক্ষা পরিচালিত হয়েছে।

গবেষণায় বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, বলের ভারসাম্যে সামান্য পরিবর্তনও তার চলাচল ও গতিপথে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি বলের ভেতরে সংযুক্ত আধুনিক সেন্সর প্রযুক্তির কার্যকারিতাও মূল্যায়ন করা হয়েছে।

অ্যাডিডাসের তৈরি ‘ট্রিওন্ডা’ বলটিতে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক ‘কানেক্টেড বল’ প্রযুক্তি। এতে থাকা ৫০০ হার্টজ গতির মোশন সেন্সর ম্যাচ চলাকালে বলের অবস্থান ও গতিবিধির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সিস্টেমে পাঠাতে সক্ষম। এর ফলে অফসাইডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে রেফারিরা আরও নির্ভুল তথ্য পান।

নাসার এই গবেষণা ২০১৯ সালে পরিচালিত একটি অনুরূপ পরীক্ষার ধারাবাহিকতা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই পরীক্ষার ফলাফল ভবিষ্যতে ফুটবলের নকশা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ‘ট্রিওন্ডা’ নামটি এসেছে স্প্যানিশ ভাষার ‘তিন তরঙ্গ’ ধারণা থেকে। এটি ২০২৬ বিশ্বকাপের তিন স্বাগতিক দেশ—United States, Canada এবং Mexico-এর ঐক্য ও যৌথ আয়োজনের প্রতীক। বলটির নকশাতেও তিন দেশের সংস্কৃতি ও পরিচয়ের বিভিন্ন উপাদান তুলে ধরা হয়েছে।

ফুটবলের ইতিহাসে এটি এক ব্যতিক্রমী ঘটনা, যেখানে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল শুধু মাঠেই নয়, গবেষণার অংশ হিসেবে মহাকাশেও জায়গা করে নিল।