ঢাকা , রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ মরক্কোর রূপকথা চলছেই, এবার কি বিশ্বকাপ জয়ের পালা? খামেনির জানাজায় ট্রাম্পের মৃত্যুর আহ্বান, স্লোগানে মুখর তেহরান আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে অবাক হবো: সাকিব এক ছাদে পাঁচ নারীর গল্প ‘আর্জেন্টিনার খেলা দেখে টেনশন হচ্ছিল’ বলার পর নিজেকে নিরপেক্ষ দাবি ফিফা সভাপতির জাতিসংঘ পুলিশ সম্মেলনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুমিল্লায় ১ হাজার শয্যার হাসপাতালের পরিকল্পনা: গণপূর্তমন্ত্রী এস আলমসহ তিনজনের সম্পদ জব্দ, দেশে ফিরবে কি পাচারের অর্থ ব্রাজিল-নরওয়ের ব্যবধান নিশ্চয়ই ৯০-১০ নয়: সোলবাকেন

মসজিদের ভেতর মুয়াজ্জিনকে বিএনপি নেতার মারধর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১৬:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
  • ৪৬৬ বার পড়া হয়েছে

এবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল জামে মসজিদের ভেতর মুয়াজ্জিনকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে। সোমবার (২০ অক্টোবর) জোহরের নামাজের পরে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার জোহরের নামাজের পর মুয়াজ্জিন আব্দুল লতিফ মসজিদের দরজা লাগাচ্ছিলেন। এসময় মসজিদের ভেতরে উপস্থিত বিএনপি নেতা জয়নাল চৌধুরী দরজা লাগানোর শব্দে ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘শব্দ হলো কেন?’ বলেই তিনি মুয়াজ্জিনের ওপর চড়াও হন।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি কোনো কথা না শুনেই মুয়াজ্জিন আব্দুল লতিফকে ধমক ও মারধর করেন। ঘটনার পর খবর পেয়ে মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এশার নামাজের পর উপস্থিত মুসল্লিরা প্রতিবাদ জানালে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে সর্বদলীয় ইসলামী ছাত্র ঐক্য পরিষদ ও স্থানীয় মুসল্লিদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।‌ বিক্ষোভ শেষে প্রতিবাদকারীরা অভিযুক্ত বিএনপি নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, স্থানীয় মুসল্লিদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে অভিযুক্ত জয়নাল চৌধুরীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশ জয়নালকে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে। এদিকে মুসল্লিরা প্রশাসন ও মসজিদ কমিটি কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মসজিদের পবিত্র পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

মুয়াজ্জিন আব্দুল লতিফ বলেন, আমি প্রতিদিনের মতো নামাজ শেষে দরজা লাগাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে জয়নাল সাহেব এসে রেগে গিয়ে আমাকে ধমক দেন। আমি কিছু বলার আগেই তিনি আমার গায়ে হাত তোলেন। আমি ১৫ বছর ধরে এই মসজিদে সেবা করছি, কখনো এমন আচরণ পাইনি। আমি আল্লাহর ঘরে অপমানিত হয়েছি, এটা খুব কষ্টের। এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন, আবার সংশোধন করবেন বলে গেছেন, এখনো আসেন নাই। পুলিশ কাউকে হেফাজতে নেয়নি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ

মসজিদের ভেতর মুয়াজ্জিনকে বিএনপি নেতার মারধর

আপডেট সময় ১১:১৬:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

এবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল জামে মসজিদের ভেতর মুয়াজ্জিনকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে। সোমবার (২০ অক্টোবর) জোহরের নামাজের পরে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার জোহরের নামাজের পর মুয়াজ্জিন আব্দুল লতিফ মসজিদের দরজা লাগাচ্ছিলেন। এসময় মসজিদের ভেতরে উপস্থিত বিএনপি নেতা জয়নাল চৌধুরী দরজা লাগানোর শব্দে ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘শব্দ হলো কেন?’ বলেই তিনি মুয়াজ্জিনের ওপর চড়াও হন।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি কোনো কথা না শুনেই মুয়াজ্জিন আব্দুল লতিফকে ধমক ও মারধর করেন। ঘটনার পর খবর পেয়ে মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এশার নামাজের পর উপস্থিত মুসল্লিরা প্রতিবাদ জানালে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে সর্বদলীয় ইসলামী ছাত্র ঐক্য পরিষদ ও স্থানীয় মুসল্লিদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।‌ বিক্ষোভ শেষে প্রতিবাদকারীরা অভিযুক্ত বিএনপি নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, স্থানীয় মুসল্লিদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে অভিযুক্ত জয়নাল চৌধুরীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশ জয়নালকে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে। এদিকে মুসল্লিরা প্রশাসন ও মসজিদ কমিটি কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মসজিদের পবিত্র পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

মুয়াজ্জিন আব্দুল লতিফ বলেন, আমি প্রতিদিনের মতো নামাজ শেষে দরজা লাগাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে জয়নাল সাহেব এসে রেগে গিয়ে আমাকে ধমক দেন। আমি কিছু বলার আগেই তিনি আমার গায়ে হাত তোলেন। আমি ১৫ বছর ধরে এই মসজিদে সেবা করছি, কখনো এমন আচরণ পাইনি। আমি আল্লাহর ঘরে অপমানিত হয়েছি, এটা খুব কষ্টের। এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন, আবার সংশোধন করবেন বলে গেছেন, এখনো আসেন নাই। পুলিশ কাউকে হেফাজতে নেয়নি।