বাবাকে চিরবিদায় জানিয়ে কবর থেকে ফিরেছেন মাত্র। কিন্তু শোকের সেই ভার বুকে নিয়েই রাতে ছুটেছেন কর্মস্থলে। কারণ দায়িত্ব আছে। আর পরদিন সকালেই বসতে হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষার হলে। জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এমনই সংগ্রামের গল্প লিখছেন বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইসমাইল ইকন।
বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল ইকন খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের খরচ চালাতে তিনি একটি ব্যাংকের এটিএম বুথে চাকরি করেন।
মঙ্গলবার ভোরে অসুস্থ হয়ে মারা যান তার বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া। জানাজা শেষে গোপালগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে বাবাকে দাফন করা হয়। কিন্তু সেদিন রাতেই কর্মস্থলে ফিরতে হয় ইকনকে। কারণ রাতের ডিউটি শেষ করেই পরদিন সকালে দিতে হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের পরীক্ষা।
ইকন জানান, চাকরির বেতনের টাকাই পরিবারের প্রধান ভরসা। তাই বাবার মৃত্যুর শোকের মধ্যেও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল না। তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান এবং ভবিষ্যতে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্ন পূরণে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতাও কামনা করেছেন তিনি।
ইকনের স্বজনরা বলছেন, সংসারের দায় কাঁধে নিয়েও পড়াশোনা ছাড়েননি তিনি। বাবার আকস্মিক মৃত্যু সেই সংগ্রামকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ খোন্দকার আছিফ উদ্দিন রাখী বলেন, এত বড় শোকের মধ্যেও ইকনের দায়িত্ববোধ ও শিক্ষার প্রতি অঙ্গীকার সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। কলেজের পক্ষ থেকে তার পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
শোক, দায়িত্ব আর স্বপ্ন—তিনটিকে একসঙ্গে বুকে ধারণ করে এগিয়ে চলা ইসমাইল ইকনের এই গল্প অনেকের কাছেই হয়ে উঠেছে জীবনসংগ্রামের এক অনন্য উদাহরণ।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















