ঢাকা , বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১৫ দলের কারও বিরুদ্ধেই খেলতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে, তবু ফাইনালের পথে! মেসির সঙ্গে তর্ক, কেন ‘এক্স’ সংকেত মিশর কোচের? ‘জুলাই সনদ নিয়ে জাতির সঙ্গে অন্তহীন প্রতারণা করছে সরকার’— জামায়াত আমির প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন না করার পরামর্শ কর্নেল অলির আমরা ইরানের ‘বিপজ্জনক’ ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালিয়েছি: ট্রাম্প ভবিষ্যতে জনগণ আর রাজনীতিবিদদের সম্মান করবে না: জামায়াত আমির প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজে সমর্থন দেশের ৭৫.৩ শতাংশ মানুষের ফাউল হলে তখনই কেন খেলা থামানো হল না, প্রশ্ন মরিনহোর যুদ্ধবিরতি ভাঙলে মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হবে: ইরান আর্জেন্টিনার জয় যেন দিনের আলোয় ডাকাতি: জোসে মরিনিয়ো

ডাকসুর ইতিহাসে রেকর্ড: ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২০ জনের শিক্ষা শুরু মাদ্রাসায়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:১৬:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫
  • ৮৬৬ বার পড়া হয়েছে

অবশেষে দীর্ঘ ছয় বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সংগঠন ও প্যানেল তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রাথমিক বৈধ প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী এবার কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৪৬২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রার্থী হয়েছেন সর্বাধিক ৪৮ জন।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই ৪৮ জনের মধ্যে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী তাদের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেছেন মাদ্রাসায়। শুধু ভিপি পদেই নয়, কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ মিলে প্রায় পাঁচ শতাধিক প্রার্থী আছেন যারা অতীতে মাদরাসা শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, ডাকসুর ইতিহাসে এবারই প্রথম এতো বিপুল সংখ্যক মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, যা ছাত্ররাজনীতির দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারা থেকে এক নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ভিপি পদে মাদ্রাসা শিক্ষার পটভূমি থেকে আসা আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্যানেলের প্রার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান, ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’-এর প্রার্থী ও শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক মো. আবু সাদিক কায়েম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক আব্দুল কাদের, স্বতন্ত্র প্যানেল ‘ডিইউ ফার্স্ট’-এর প্রার্থী জামালুদ্দীন খালিদ, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আবদুল ওয়াহেদ এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইয়াসিন আরাফাতসহ অনেকে।

শিবিরের ২৮ সদস্যের প্যানেল ঘোষণা: সাদিক কায়েম ভিপি ও ফরহাদ জিএস প্রার্থীশিবিরের ২৮ সদস্যের প্যানেল ঘোষণা: সাদিক কায়েম ভিপি ও ফরহাদ জিএস প্রার্থী এই প্রার্থীদের মধ্যে আবিদুল ইসলাম খান ও আবু সাদিক কায়েমকে ঘিরে ইতোমধ্যে আলোচনা সবচেয়ে বেশি। শিক্ষার্থীদের মতে, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে তাদের সক্রিয় ভূমিকা জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামালুদ্দীন খালিদও ছাত্রসমাজে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে কয়েকজন প্রার্থী জানান, অতীতে পরিচয়ের কারণে নানা প্রকার বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাদের। আবু সাদিক কায়েম বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পর পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি বিলুপ্ত হয়েছে, এখন ডাকসু সব শিক্ষার্থীর প্ল্যাটফর্ম।’ আব্দুল কাদেরের ভাষায়, ‘এক সময় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বাড়তি নির্যাতনের শিকার হতে হতো। কিন্তু এবার পরিস্থিতি বদলেছে।’

ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের প্রার্থী ইয়াসিন আরাফাত মনে করেন, এই অংশগ্রহণ আগামীর বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। অন্যদিকে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা মনে করেন, মাদরাসাশিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নতুন কিছু নয়। পার্থক্য হলো, আগে ভয়ের কারণে তারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতেন না, এখন তা খোলাখুলিভাবে করছেন।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ আগস্ট দুপুর ১টা পর্যন্ত। প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৬ আগস্ট বিকাল ৪টায়। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৯ সেপ্টেম্বর এবং সেদিনই ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো হলে বাইরে ৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৮৭১ এবং ছাত্রী ১৮ হাজার ৯০২ জন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১৫ দলের কারও বিরুদ্ধেই খেলতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে, তবু ফাইনালের পথে!

ডাকসুর ইতিহাসে রেকর্ড: ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২০ জনের শিক্ষা শুরু মাদ্রাসায়

আপডেট সময় ০২:১৬:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

অবশেষে দীর্ঘ ছয় বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সংগঠন ও প্যানেল তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রাথমিক বৈধ প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী এবার কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৪৬২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রার্থী হয়েছেন সর্বাধিক ৪৮ জন।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই ৪৮ জনের মধ্যে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী তাদের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেছেন মাদ্রাসায়। শুধু ভিপি পদেই নয়, কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ মিলে প্রায় পাঁচ শতাধিক প্রার্থী আছেন যারা অতীতে মাদরাসা শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, ডাকসুর ইতিহাসে এবারই প্রথম এতো বিপুল সংখ্যক মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, যা ছাত্ররাজনীতির দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারা থেকে এক নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ভিপি পদে মাদ্রাসা শিক্ষার পটভূমি থেকে আসা আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্যানেলের প্রার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান, ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’-এর প্রার্থী ও শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক মো. আবু সাদিক কায়েম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক আব্দুল কাদের, স্বতন্ত্র প্যানেল ‘ডিইউ ফার্স্ট’-এর প্রার্থী জামালুদ্দীন খালিদ, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আবদুল ওয়াহেদ এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইয়াসিন আরাফাতসহ অনেকে।

শিবিরের ২৮ সদস্যের প্যানেল ঘোষণা: সাদিক কায়েম ভিপি ও ফরহাদ জিএস প্রার্থীশিবিরের ২৮ সদস্যের প্যানেল ঘোষণা: সাদিক কায়েম ভিপি ও ফরহাদ জিএস প্রার্থী এই প্রার্থীদের মধ্যে আবিদুল ইসলাম খান ও আবু সাদিক কায়েমকে ঘিরে ইতোমধ্যে আলোচনা সবচেয়ে বেশি। শিক্ষার্থীদের মতে, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে তাদের সক্রিয় ভূমিকা জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামালুদ্দীন খালিদও ছাত্রসমাজে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে কয়েকজন প্রার্থী জানান, অতীতে পরিচয়ের কারণে নানা প্রকার বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাদের। আবু সাদিক কায়েম বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পর পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি বিলুপ্ত হয়েছে, এখন ডাকসু সব শিক্ষার্থীর প্ল্যাটফর্ম।’ আব্দুল কাদেরের ভাষায়, ‘এক সময় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বাড়তি নির্যাতনের শিকার হতে হতো। কিন্তু এবার পরিস্থিতি বদলেছে।’

ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের প্রার্থী ইয়াসিন আরাফাত মনে করেন, এই অংশগ্রহণ আগামীর বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। অন্যদিকে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা মনে করেন, মাদরাসাশিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নতুন কিছু নয়। পার্থক্য হলো, আগে ভয়ের কারণে তারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতেন না, এখন তা খোলাখুলিভাবে করছেন।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ আগস্ট দুপুর ১টা পর্যন্ত। প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৬ আগস্ট বিকাল ৪টায়। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৯ সেপ্টেম্বর এবং সেদিনই ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো হলে বাইরে ৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৮৭১ এবং ছাত্রী ১৮ হাজার ৯০২ জন।