ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাহাবুদ্দিনের চিকিৎসা দেশেই সম্ভব: ডা. শফিক ইরান যুদ্ধে জড়ানো নিয়ে চীন-রাশিয়াকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি লন্ডনের বিলাসবহুল হোটেলে অত্যাধিক মাদক সেবনে সৌদি প্রিন্সের মৃত্যু এমপি নজরুলের ভিডিওকাণ্ডে গ্রেফতার রাকিবুলকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ মতিঝিলের অবিস্ফোরিত পেট্রোল বোমা নিষ্ক্রিয় করলো ডিসপোজাল টিম পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১২ সেনাসহ ১৫ জন নিহত মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে প্রাণ গেল রিকশাচালকের, আহত-১০ প্রবাস থেকে এলো দুঃসংবাদ, সৌদিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশি নিহত সরকারের সঙ্গে বৈঠক শেষে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম সিজেপির আবারও বন্ধ ইন্টারনেট, দিল্লিতে কী ঘটছে?

প্রবাস থেকে এলো দুঃসংবাদ, সৌদিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশি নিহত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১৪:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

সন্তান পড়াশুনার জন্য ইংল্যান্ডে যাবে তাই স্বপরিবারে ওমরাহ করতে যাচ্ছিলেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের সৌদি আরব প্রবাসী সফিকুল ইসলাম খোকন। কিন্তু মুহুর্তেই সব শেষ করে দিলো একটি সড়ক দুর্ঘটনা। এক সঙ্গে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়ে প্রাণে বেঁচে থাকা একমাত্র সন্তান ও প্রবাসী খোকন মৃত্যুর সঙ্গে হাসপাতালে পাঞ্জা লড়ছেন। তিনি উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর গ্রামের মৃত হাজী এমএ সিরাজুল ইসলামে ছেলে।

গত ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদ-মক্কা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর গ্রামের মৃত হাজী সিরাজুল ইসলামের ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী সফিকুল ইসলাম খোকনের স্ত্রী তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫), তার ছেলে তাসবিক (২০) ও মেয়ে জারা (১৫)। এছাড়া এই ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রবাসী শফিকুল ইসলাম খোকন এবং বড় ছেলে নাবিল।

 

 

আজ শুক্রবার দুপুরে সৌদি আরবে উমরায় যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মা ও দুই সন্তানের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো বাড়িটি যেন শোকে স্তদ্ধ হয়ে রয়েছে।

প্রবাসীর আরেক চাচা করম আলী বলেন, খোকনের বড় ছেলে নাবিল ইংল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার জন্য চান্স পায়। সেই জন্যই আল্লাহতালার সন্তুষ্টির জন্য পুরো পরিবার নিয়ে মক্কায় ওমরাহ পালনের জন্য যাচ্ছিলো পথিমধ্যে একটি ঘাতক গাড়ি আমার দুই নাতিসহ তাদের মায়ের প্রাণ নিয়ে নিলো। আমি অসুস্থ থাকায় ১ বছর আগে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে প্রবাসী খোকন দেশে এসে গ্রামে এসেছিলেন।

 

খোকনের চাচাতো ভাই রুবেল মিয়া বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে সাড়ে ৪ টার দিকে ঢাকা থেকে আমাদের এক আত্মীয় মোবাইল ফোনে খবর দেয় আমার ভাবীসহ দুই ভাতিজি, ভাতিজা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এছাড়া আমার ভাই ও আরেক ভাতিজা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

 

পরিবারের স্বজনদের সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ৩৮ বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি দেন প্রবাসী সফিকুল ইসলাম খোকন। সেখানে থাকাকালীন দেশে এসে বিয়ে করে কয়েক বছরের মধ্যেই পরিবারকে সেখানে নিয়ে যান। তার পরিবারে দুই ছেলে এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে বেশ সুখেই কাটছিলো তাদের সংসার। তাদের বড় সন্তান নাবিল উচ্চতর পড়াশুনার জন্য ইংল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পান। সেখানে যাওয়ার আগে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে পবিত্র ওমরাহ হজ্ব পালনের জন্য গত ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার ভোর রাতে সৌদি আরবের রিয়াদের বাসা থেকে প্রাইভেটকারে নিজেই গাড়ি চালিয়ে পরিবারের স্বজনদের নিয়ে মক্কার উদ্দেশ্য রওনা দেন। পথিমধ্যে রিয়াদ-মক্কা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন জন নিহত হয়েছেন।

 

এ ঘটনায় প্রবাসী ও তার সন্তান আহত হয়ে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

নিহত তানিয়া তাহমিনা রিনার বড় ভাই আবু সালেহ মো. খুশবো জানান, ২৪ জুলাই বাদ জুম্মা সৌদি আরবে নিহতদের দাফন কাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সাহাবুদ্দিনের চিকিৎসা দেশেই সম্ভব: ডা. শফিক

প্রবাস থেকে এলো দুঃসংবাদ, সৌদিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশি নিহত

আপডেট সময় ১০:১৪:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

সন্তান পড়াশুনার জন্য ইংল্যান্ডে যাবে তাই স্বপরিবারে ওমরাহ করতে যাচ্ছিলেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের সৌদি আরব প্রবাসী সফিকুল ইসলাম খোকন। কিন্তু মুহুর্তেই সব শেষ করে দিলো একটি সড়ক দুর্ঘটনা। এক সঙ্গে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়ে প্রাণে বেঁচে থাকা একমাত্র সন্তান ও প্রবাসী খোকন মৃত্যুর সঙ্গে হাসপাতালে পাঞ্জা লড়ছেন। তিনি উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর গ্রামের মৃত হাজী এমএ সিরাজুল ইসলামে ছেলে।

গত ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদ-মক্কা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর গ্রামের মৃত হাজী সিরাজুল ইসলামের ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী সফিকুল ইসলাম খোকনের স্ত্রী তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫), তার ছেলে তাসবিক (২০) ও মেয়ে জারা (১৫)। এছাড়া এই ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রবাসী শফিকুল ইসলাম খোকন এবং বড় ছেলে নাবিল।

 

 

আজ শুক্রবার দুপুরে সৌদি আরবে উমরায় যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মা ও দুই সন্তানের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো বাড়িটি যেন শোকে স্তদ্ধ হয়ে রয়েছে।

প্রবাসীর আরেক চাচা করম আলী বলেন, খোকনের বড় ছেলে নাবিল ইংল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার জন্য চান্স পায়। সেই জন্যই আল্লাহতালার সন্তুষ্টির জন্য পুরো পরিবার নিয়ে মক্কায় ওমরাহ পালনের জন্য যাচ্ছিলো পথিমধ্যে একটি ঘাতক গাড়ি আমার দুই নাতিসহ তাদের মায়ের প্রাণ নিয়ে নিলো। আমি অসুস্থ থাকায় ১ বছর আগে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে প্রবাসী খোকন দেশে এসে গ্রামে এসেছিলেন।

 

খোকনের চাচাতো ভাই রুবেল মিয়া বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে সাড়ে ৪ টার দিকে ঢাকা থেকে আমাদের এক আত্মীয় মোবাইল ফোনে খবর দেয় আমার ভাবীসহ দুই ভাতিজি, ভাতিজা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এছাড়া আমার ভাই ও আরেক ভাতিজা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

 

পরিবারের স্বজনদের সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ৩৮ বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি দেন প্রবাসী সফিকুল ইসলাম খোকন। সেখানে থাকাকালীন দেশে এসে বিয়ে করে কয়েক বছরের মধ্যেই পরিবারকে সেখানে নিয়ে যান। তার পরিবারে দুই ছেলে এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে বেশ সুখেই কাটছিলো তাদের সংসার। তাদের বড় সন্তান নাবিল উচ্চতর পড়াশুনার জন্য ইংল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পান। সেখানে যাওয়ার আগে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে পবিত্র ওমরাহ হজ্ব পালনের জন্য গত ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার ভোর রাতে সৌদি আরবের রিয়াদের বাসা থেকে প্রাইভেটকারে নিজেই গাড়ি চালিয়ে পরিবারের স্বজনদের নিয়ে মক্কার উদ্দেশ্য রওনা দেন। পথিমধ্যে রিয়াদ-মক্কা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন জন নিহত হয়েছেন।

 

এ ঘটনায় প্রবাসী ও তার সন্তান আহত হয়ে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

নিহত তানিয়া তাহমিনা রিনার বড় ভাই আবু সালেহ মো. খুশবো জানান, ২৪ জুলাই বাদ জুম্মা সৌদি আরবে নিহতদের দাফন কাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।