ঢাকা , সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এবার যাত্রী না নামিয়ে কোনো বাস ফেরীতে উঠতে পারবে না: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী এবার বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে জমি দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ! ইসরায়েলকে সাহায্যকারী যেকোনো আরব রাষ্ট্রের পরিণতি হবে ভয়াবহ: মোহসেন রেজাই হামের আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ছাড়ালো ৫০ হাজার মোনামি ‘ফুল টাইম পেইড এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করেছেন: কাদের যমুনা সেতু আমরা করেছি, পদ্মা সেতুর উদ্যোগও আমরাই নিয়েছিলাম: সড়কমন্ত্রী সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেবো: ধর্মমন্ত্রী মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর হামে প্রাণ হারানো শিশুদের নিয়ে সাকিবের আবেগঘন বার্তা পাকিস্তানের সঙ্গে জ্ঞান বিনিময় আমাদের জন্য খুবই ভালো হবে: শিক্ষামন্ত্রী

নিজ ভূখণ্ডে প্রথমবার জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালো জাপান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:১৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫
  • ৪৯৩ বার পড়া হয়েছে

জাপান প্রথমবারের মতো নিজস্ব ভূখণ্ডে ভূমি থেকে জাহাজ লক্ষ্য করে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। উত্তরাঞ্চলীয় হোক্কাইডো দ্বীপের সামরিক ঘাঁটি থেকে টাইপ-৮৮ ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করে দেশটির গ্রাউন্ড সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স (জিজিএসডিএফ)। প্রশিক্ষণমূলক এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে নির্ধারিত লক্ষ্যে আঘাত হানে।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে,

“বর্তমান কঠিন নিরাপত্তা বাস্তবতায় সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সেনাদের প্রশিক্ষণের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মহড়া।”

সাধারণত জাপান এ ধরনের লাইভ-ফায়ার মহড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে চালিয়ে আসছিল। তবে ব্যয়বহুল এবং সীমিত অংশগ্রহণের কারণে জাপান এবার নিজস্ব ভূখণ্ডে মহড়া চালানোর কৌশল নিয়েছে। জাপানি ইয়েনের অবমূল্যায়নের কারণে আন্তর্জাতিক মহড়ার ব্যয় বেড়ে যাওয়াও এতে ভূমিকা রেখেছে।

সরকারের মুখপাত্র ইয়োশিমাসা হায়াশি বলেন,

“নিজ দেশে এই ধরনের মহড়া বেশি সংখ্যক সেনাকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়। একইসঙ্গে দ্বীপ ও উপকূলীয় প্রতিরক্ষায় তা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

যদিও জাপান সরকার স্পষ্টভাবে জানায়নি যে, এই মহড়াটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, তবে পূর্ববর্তী নীতিগত বিবৃতিতে চীনকে ‘সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার, বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের আগ্রাসী কৌশলের প্রেক্ষিতে জাপান তার প্রতিরক্ষা নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে।

জাপান বর্তমানে একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা কৌশল অনুসরণ করছে, যার অংশ হিসেবে দেশটি তার সামরিক ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করতে চায়—যা ন্যাটো স্ট্যান্ডার্ডের সমান।

পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তি জোরদার করার পদক্ষেপও চলমান রয়েছে, যাতে আঞ্চলিক উত্তেজনার সময় দ্রুত ও যৌথ প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এবার যাত্রী না নামিয়ে কোনো বাস ফেরীতে উঠতে পারবে না: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

নিজ ভূখণ্ডে প্রথমবার জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালো জাপান

আপডেট সময় ০৯:১৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫

জাপান প্রথমবারের মতো নিজস্ব ভূখণ্ডে ভূমি থেকে জাহাজ লক্ষ্য করে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। উত্তরাঞ্চলীয় হোক্কাইডো দ্বীপের সামরিক ঘাঁটি থেকে টাইপ-৮৮ ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করে দেশটির গ্রাউন্ড সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স (জিজিএসডিএফ)। প্রশিক্ষণমূলক এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে নির্ধারিত লক্ষ্যে আঘাত হানে।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে,

“বর্তমান কঠিন নিরাপত্তা বাস্তবতায় সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সেনাদের প্রশিক্ষণের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মহড়া।”

সাধারণত জাপান এ ধরনের লাইভ-ফায়ার মহড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে চালিয়ে আসছিল। তবে ব্যয়বহুল এবং সীমিত অংশগ্রহণের কারণে জাপান এবার নিজস্ব ভূখণ্ডে মহড়া চালানোর কৌশল নিয়েছে। জাপানি ইয়েনের অবমূল্যায়নের কারণে আন্তর্জাতিক মহড়ার ব্যয় বেড়ে যাওয়াও এতে ভূমিকা রেখেছে।

সরকারের মুখপাত্র ইয়োশিমাসা হায়াশি বলেন,

“নিজ দেশে এই ধরনের মহড়া বেশি সংখ্যক সেনাকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়। একইসঙ্গে দ্বীপ ও উপকূলীয় প্রতিরক্ষায় তা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

যদিও জাপান সরকার স্পষ্টভাবে জানায়নি যে, এই মহড়াটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, তবে পূর্ববর্তী নীতিগত বিবৃতিতে চীনকে ‘সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার, বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের আগ্রাসী কৌশলের প্রেক্ষিতে জাপান তার প্রতিরক্ষা নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে।

জাপান বর্তমানে একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা কৌশল অনুসরণ করছে, যার অংশ হিসেবে দেশটি তার সামরিক ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করতে চায়—যা ন্যাটো স্ট্যান্ডার্ডের সমান।

পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তি জোরদার করার পদক্ষেপও চলমান রয়েছে, যাতে আঞ্চলিক উত্তেজনার সময় দ্রুত ও যৌথ প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব হয়।