ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আল জাজিরার রিপোর্টের পর নতুন করে বেপরোয়া শেখ হাসিনা: গোলাম মাওলা রনি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৫১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
  • ১২২২ বার পড়া হয়েছে

এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে বিচারাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে আল জাজিরার প্রতিবেদনসহ নানা বিদেশি সংবাদপত্রে যেভাবে তাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে গিয়ে যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিলেন শেখ হাসিনা, সেই একই আদালতেই এখন তার বিচার চলছে। ওই আদালতেই জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল। এখন সেই ট্রাইব্যুনালেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান মামলায় মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যেই একটি মামলায় তার সাজা হয়েছে। বাকিগুলোর রায়ও যেন তার ফাঁসির দিকে যায়, সে চেষ্টাই চলছে।’ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে রনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের সময় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সহিংসতা, হেলিকপ্টার থেকে গুলি, হাসপাতালে চিকিৎসা না দেওয়া—এসবই শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ মদদে হয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে। তদন্তকারীরা তা আদালতে উপস্থাপনও করেছেন।

তবে এসব ঘটনার পরও দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আলোচনার ধারা এখনো হাসিনাকেন্দ্রিক ব্যক্তিগত গুজব ও উপস্থিতি ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। সম্প্রতি বিবিসি ও আল জাজিরার টেলিভিশনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রকাশিত রিপোর্ট নিয়ে রনি বলেন, ‘আমাদের দেশের এক শতাংশ মানুষও এই রিপোর্ট দেখেনি। যারা দেখেছে, তাদের মধ্যে প্রতি দশ হাজারে একজন পুরোটা দেখেছে। অথচ দেশের রাজপথে কোনো প্রতিবাদ, কোনো উত্তেজনা দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, ‘এই রিপোর্ট সাধারণ মানুষের চেয়ে আওয়ামী লীগকে বরং শক্তি জুগিয়েছে।’ গোলাম মাওলা রনির মতে, এই পরিস্থিতি দেখে মনে হয় আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো ভয় বা আতঙ্ক নেই। বরং তারা বলছে—‘হ্যাঁ, আমরা গুলি করেছি। না করলে দেশ চলত না।’ রনি বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে আমরা বহু শক্তিধর ব্যক্তিকে নিয়ে তথ্য উপস্থাপন করেছি—সালমান এফ রহমান, হারুন রশীদ বা সামিট গ্রুপের বিরুদ্ধে। কিন্তু কারও পশমও ছুঁতে পারিনি। আদালতে বিচার হতে গেলে প্রমাণ লাগে, মিডিয়া রিপোর্ট দিয়ে কিছু হয় না।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আল জাজিরার রিপোর্টের পর নতুন করে বেপরোয়া শেখ হাসিনা: গোলাম মাওলা রনি

আপডেট সময় ১২:৫১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫

এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে বিচারাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে আল জাজিরার প্রতিবেদনসহ নানা বিদেশি সংবাদপত্রে যেভাবে তাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে গিয়ে যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিলেন শেখ হাসিনা, সেই একই আদালতেই এখন তার বিচার চলছে। ওই আদালতেই জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল। এখন সেই ট্রাইব্যুনালেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান মামলায় মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যেই একটি মামলায় তার সাজা হয়েছে। বাকিগুলোর রায়ও যেন তার ফাঁসির দিকে যায়, সে চেষ্টাই চলছে।’ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে রনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের সময় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সহিংসতা, হেলিকপ্টার থেকে গুলি, হাসপাতালে চিকিৎসা না দেওয়া—এসবই শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ মদদে হয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে। তদন্তকারীরা তা আদালতে উপস্থাপনও করেছেন।

তবে এসব ঘটনার পরও দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আলোচনার ধারা এখনো হাসিনাকেন্দ্রিক ব্যক্তিগত গুজব ও উপস্থিতি ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। সম্প্রতি বিবিসি ও আল জাজিরার টেলিভিশনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রকাশিত রিপোর্ট নিয়ে রনি বলেন, ‘আমাদের দেশের এক শতাংশ মানুষও এই রিপোর্ট দেখেনি। যারা দেখেছে, তাদের মধ্যে প্রতি দশ হাজারে একজন পুরোটা দেখেছে। অথচ দেশের রাজপথে কোনো প্রতিবাদ, কোনো উত্তেজনা দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, ‘এই রিপোর্ট সাধারণ মানুষের চেয়ে আওয়ামী লীগকে বরং শক্তি জুগিয়েছে।’ গোলাম মাওলা রনির মতে, এই পরিস্থিতি দেখে মনে হয় আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো ভয় বা আতঙ্ক নেই। বরং তারা বলছে—‘হ্যাঁ, আমরা গুলি করেছি। না করলে দেশ চলত না।’ রনি বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে আমরা বহু শক্তিধর ব্যক্তিকে নিয়ে তথ্য উপস্থাপন করেছি—সালমান এফ রহমান, হারুন রশীদ বা সামিট গ্রুপের বিরুদ্ধে। কিন্তু কারও পশমও ছুঁতে পারিনি। আদালতে বিচার হতে গেলে প্রমাণ লাগে, মিডিয়া রিপোর্ট দিয়ে কিছু হয় না।’