ঢাকা , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজায় থেমে গেছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান-কামানের গর্জন, ২ বছর পর শান্তির ঘুমে গাজাবাসী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫৪:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৯১ বার পড়া হয়েছে

অবশেষে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি এ ঘোষণা দেন। তাঁর ঘোষণার পরপরই গাজা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদ জানান, অঞ্চলটিতে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের গর্জন থেমে গেছে। দুই বছর পর গাজাবাসী খানিকটা নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে।

আল জাজিরার হানি মাহমুদ লিখেছেন, এটি গত রাতগুলো আর দিনগুলোর তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে ভিন্ন। আমরা গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলাম এমন সব এলাকায়, যেখানে বহু তাঁবুর মধ্যে বাস্তুচ্যুত মানুষ রয়েছে। কিন্তু রাস্তায় কাউকে দেখা যায়নি। সবাই তাঁবুর ভেতরে ঘুমাচ্ছিল।

গত কয়েক সপ্তাহে মানুষের কাছে এমন সুযোগ ছিল না। তারা সব সময় ভীষণ সজাগ অবস্থায় থাকত, কারণ ড্রোন হামলা, যুদ্ধবিমান আর গাজাজুড়ে চলমান অবিরাম বোমাবর্ষণের হুমকি ও আতঙ্ক তাদের মাথায় সব সময় ভর করত। কিন্তু আজ রাতে অস্বাভাবিকভাবে, আমরা যখন একটি বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরের পাশ দিয়ে এই সম্প্রচারের স্থানে আসছিলাম, বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলাম—সবাই ঘুমিয়ে আছে। আমার মনে হয় তারা আজ রাতের এই নীরবতার সুযোগ নিচ্ছে।

আকাশে ড্রোন নেই, যুদ্ধবিমান নেই, ভারী গোলাবর্ষণ নেই। আর আমি যখন এটা দেখি, তখন মনে হয় তারা সত্যিই শান্তিতে ঘুমানোর যোগ্য। কিন্তু, এটা কি সবকিছু বদলে দেবে? এখন অন্তত চুক্তির প্রথম ধাপ কার্যকর হচ্ছে, আর আশা করছি এটা টিকে থাকবে। এটাই এখন সবচেয়ে বড় আশাবাদ। এর আগে ট্রাম্প জানান, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে হামাস ও ইসরায়েল। এমনকি তারা এ বিষয়ে একটি চুক্তিতেও স্বাক্ষর করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বলেছেন, ইসরায়েল ও হামাস আমাদের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ‘স্বাক্ষর করেছে’। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এটি আরব ও মুসলিম বিশ্ব, ইসরায়েল, আশপাশের সব দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি মহান দিন। আমরা কাতার, মিশর ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের ধন্যবাদ জানাই, যারা আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন এই ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন ঘটনা সম্ভব করার জন্য। শান্তির দূতেরা ধন্য হোক!’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজায় থেমে গেছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান-কামানের গর্জন, ২ বছর পর শান্তির ঘুমে গাজাবাসী

আপডেট সময় ১০:৫৪:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

অবশেষে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি এ ঘোষণা দেন। তাঁর ঘোষণার পরপরই গাজা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদ জানান, অঞ্চলটিতে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের গর্জন থেমে গেছে। দুই বছর পর গাজাবাসী খানিকটা নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে।

আল জাজিরার হানি মাহমুদ লিখেছেন, এটি গত রাতগুলো আর দিনগুলোর তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে ভিন্ন। আমরা গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলাম এমন সব এলাকায়, যেখানে বহু তাঁবুর মধ্যে বাস্তুচ্যুত মানুষ রয়েছে। কিন্তু রাস্তায় কাউকে দেখা যায়নি। সবাই তাঁবুর ভেতরে ঘুমাচ্ছিল।

গত কয়েক সপ্তাহে মানুষের কাছে এমন সুযোগ ছিল না। তারা সব সময় ভীষণ সজাগ অবস্থায় থাকত, কারণ ড্রোন হামলা, যুদ্ধবিমান আর গাজাজুড়ে চলমান অবিরাম বোমাবর্ষণের হুমকি ও আতঙ্ক তাদের মাথায় সব সময় ভর করত। কিন্তু আজ রাতে অস্বাভাবিকভাবে, আমরা যখন একটি বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরের পাশ দিয়ে এই সম্প্রচারের স্থানে আসছিলাম, বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলাম—সবাই ঘুমিয়ে আছে। আমার মনে হয় তারা আজ রাতের এই নীরবতার সুযোগ নিচ্ছে।

আকাশে ড্রোন নেই, যুদ্ধবিমান নেই, ভারী গোলাবর্ষণ নেই। আর আমি যখন এটা দেখি, তখন মনে হয় তারা সত্যিই শান্তিতে ঘুমানোর যোগ্য। কিন্তু, এটা কি সবকিছু বদলে দেবে? এখন অন্তত চুক্তির প্রথম ধাপ কার্যকর হচ্ছে, আর আশা করছি এটা টিকে থাকবে। এটাই এখন সবচেয়ে বড় আশাবাদ। এর আগে ট্রাম্প জানান, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে হামাস ও ইসরায়েল। এমনকি তারা এ বিষয়ে একটি চুক্তিতেও স্বাক্ষর করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বলেছেন, ইসরায়েল ও হামাস আমাদের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ‘স্বাক্ষর করেছে’। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এটি আরব ও মুসলিম বিশ্ব, ইসরায়েল, আশপাশের সব দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি মহান দিন। আমরা কাতার, মিশর ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের ধন্যবাদ জানাই, যারা আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন এই ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন ঘটনা সম্ভব করার জন্য। শান্তির দূতেরা ধন্য হোক!’