ঢাকা , সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নুসরাতের মনোনয়নপত্র গ্রহণে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করবে ইসি, আপিলে যাবে না সংসদে শক্ত প্রভাবের চেষ্টায় এনসিপি, দুর্বল জামায়াত: রুমিন ফারহানা লিমন-বৃষ্টি হত্যাকাণ্ড: আদালতের প্রকাশিত নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য, গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা মামলা: আসামি ভোলার জামিন স্থগিত ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বড় সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী জুলাই সনদের আলোচনাকে কেন্দ্র করে সংসদে হট্টগোল মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করা হবে: প্রধানমন্ত্রী হত্যা মামলায় একই পরিবারের ৬ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও যাবজ্জীবন দেশের সব বিমানবন্দরে বাড়তি সতর্কতা জারি মাদুরোর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে চান ভেনেজুয়েলার সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ‘মুরগি’

গুরুতর অসুস্থ পাহাড়ি নারীকে হেলিকপ্টারে করে সিএমএইচে নিল সেনাবাহিনী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:২৩:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৮৩ বার পড়া হয়েছে

এবার রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন মাইনদারছড়া মুখ। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম দুর্গম একটি পাড়া। সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সোমবার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনী। অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দিনব্যাপী চিকিৎসা কার্যক্রমও চালায় তারা। এ সময় গুরুতর অসুস্থ এক পাহাড়ি নারীকে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে সেনাবাহিনীর সূত্র জানায়, মাইনদারছড়া মুখ পাড়াটি মূল সড়ক বা নৌপথ থেকে বিচ্ছিন্ন। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তঘেঁষা এ এলাকাটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে। সে কারণে সম্প্রতি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে সেনাবাহিনী। তবে অভিযানের পাশাপাশি সাধারণ পাহাড়ি মানুষ যাতে কোনো আতঙ্কে না থাকে সেজন্য মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসা কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়।

গতকাল সোমবার সকালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন এলাকার জুমচাষি সাগা তংচংগার স্ত্রী সিনাবি তংচংগা (৬০)। সেনাবাহিনীর চিকিৎসকরা জানান, সিনাবির কিডনি ও পেটের জটিলতা বেশ গুরুতর। দুর্গম এলাকায় এ ধরনের রোগীর চিকিৎসা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল।

পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন করে ডিভিশন সদর থেকে দ্রুত আর্মি এভিয়েশনের একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়। পরে বিকেলে তাকে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। চিকিৎসকেরা বলছেন, সময়মতো হাসপাতালে নেওয়ায় তার অবস্থা এখন নিয়ন্ত্রণে আসে।

সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেবাকে আমরা সমানভাবে গুরুত্ব দিই। অভিযান শুধুমাত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে; সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নয়। তাই অভিযান চললেও মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবার সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগে স্বস্তি পেয়েছেন তারা। সেনাবাহিনী বলছে, পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে নিরাপত্তা কার্যক্রমের সঙ্গে মানবিক সেবা আরও জোরদার করা হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নুসরাতের মনোনয়নপত্র গ্রহণে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করবে ইসি, আপিলে যাবে না

গুরুতর অসুস্থ পাহাড়ি নারীকে হেলিকপ্টারে করে সিএমএইচে নিল সেনাবাহিনী

আপডেট সময় ০৯:২৩:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

এবার রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন মাইনদারছড়া মুখ। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম দুর্গম একটি পাড়া। সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সোমবার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনী। অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দিনব্যাপী চিকিৎসা কার্যক্রমও চালায় তারা। এ সময় গুরুতর অসুস্থ এক পাহাড়ি নারীকে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে সেনাবাহিনীর সূত্র জানায়, মাইনদারছড়া মুখ পাড়াটি মূল সড়ক বা নৌপথ থেকে বিচ্ছিন্ন। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তঘেঁষা এ এলাকাটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে। সে কারণে সম্প্রতি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে সেনাবাহিনী। তবে অভিযানের পাশাপাশি সাধারণ পাহাড়ি মানুষ যাতে কোনো আতঙ্কে না থাকে সেজন্য মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসা কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়।

গতকাল সোমবার সকালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন এলাকার জুমচাষি সাগা তংচংগার স্ত্রী সিনাবি তংচংগা (৬০)। সেনাবাহিনীর চিকিৎসকরা জানান, সিনাবির কিডনি ও পেটের জটিলতা বেশ গুরুতর। দুর্গম এলাকায় এ ধরনের রোগীর চিকিৎসা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল।

পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন করে ডিভিশন সদর থেকে দ্রুত আর্মি এভিয়েশনের একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়। পরে বিকেলে তাকে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। চিকিৎসকেরা বলছেন, সময়মতো হাসপাতালে নেওয়ায় তার অবস্থা এখন নিয়ন্ত্রণে আসে।

সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেবাকে আমরা সমানভাবে গুরুত্ব দিই। অভিযান শুধুমাত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে; সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নয়। তাই অভিযান চললেও মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবার সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগে স্বস্তি পেয়েছেন তারা। সেনাবাহিনী বলছে, পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে নিরাপত্তা কার্যক্রমের সঙ্গে মানবিক সেবা আরও জোরদার করা হবে।