ভয়াবহ ভূমিকম্পের ছয় দিন পরও মিলছে জীবনের সন্ধান। ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে একটি ছোট্ট শিশুকে। অলৌকিক এই উদ্ধার অভিযানে নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্বজন ও উদ্ধারকর্মীরা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোরে লা গুয়াইরা প্রদেশের একটি বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম ক্লাইবার মোরান। অভিযানে ভেনেজুয়েলার পাশাপাশি জর্ডানের উদ্ধারকর্মীরাও অংশ নেন।
শিশুটির বয়স নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ তার বয়স তিন বছর বলে জানিয়েছেন। তবে জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ বলেছেন, শিশুটির বয়স দুই বছর। বর্তমানে তাকে রাজধানী কারাকাসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গত বুধবার এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে বহু ভবন ধসে পড়ে, আর হাজারো মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।
এখন পর্যন্ত দেশটির সরকার জানিয়েছে, এই দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছেন এক হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষ। আহত হয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি। তবে উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে মানবিক সংকট মোকাবিলায় সহায়তা বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। ইউনিসেফ জানিয়েছে, জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী, নিরাপদ প্রসবসেবা, নবজাতকের সুরক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধের সরঞ্জামসহ ৪৭ মেট্রিক টন ত্রাণসামগ্রী ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে।
অন্যদিকে নাসার তথ্য বলছে, ভূমিকম্পে প্রায় ৫৯ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। আর ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার শিশু এখন জরুরি মানবিক সহায়তার প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ক্লাইবার মোরানের জীবিত উদ্ধার যেন শোকের মধ্যেও আশার এক প্রতীক। তবে প্রতিদিনই নতুন নতুন মরদেহ উদ্ধারের খবর প্রমাণ করছে, ভেনেজুয়েলার জন্য এই দুর্যোগের ক্ষত কাটিয়ে উঠতে এখনও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























