সারা দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু সংক্রমণ। ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। রোগীর চাপ বাড়ায় হাসপাতালগুলোতেও তৈরি হচ্ছে সংকট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর মশক নিধন ও জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ময়মনসিংহে চলতি মাসের প্রথম ২০ দিনেই প্রায় ২০০ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ সময় একজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেনবাড়ি, সানকিপাড়া, লিচুবাগান ও নওমহলসহ বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার উপদ্রব বাড়লেও কার্যকর মশক নিধন কার্যক্রম চোখে পড়ছে না।
তবে সিটি করপোরেশনের দাবি, মানসম্মত ওষুধ ব্যবহার করে নিয়মিত মশা নিধনের কাজ চলছে। চিকিৎসকদের মতে, জমে থাকা বৃষ্টির পানিতেই এডিস মশার বংশবিস্তার দ্রুত বাড়ছে। তাই বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বরিশালেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গত ২১ দিনে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ১৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী। মারা গেছেন দুজন। রোগীর চাপ বাড়ায় হাসপাতালের একাধিক মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
অন্যদিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন ২২৭ জন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ৪২ জন। তবে আলাদা ডেঙ্গু ইউনিট না থাকায় অন্য রোগীদের সঙ্গে একই ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। খুলনা, বাগেরহাট ও যশোরে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু হাসপাতালনির্ভর চিকিৎসা নয়, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ। এজন্য জমে থাকা পানি অপসারণ, নিয়মিত মশক নিধন এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























