ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাবেক রাষ্ট্রপতির ফৌজদারী অপরাধের বিচার সম্ভব, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে কোন বাধা নেই: শিশির মনির বড় লক্ষ্য অর্জনে কি ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বলির পাঁঠা বানালেন মোদি? সন্তানদের ওপর রাগ করে ফের বিয়ে করলেন ৮০ বছরের বৃদ্ধ সৌদি আরবকে বাঁচাতে অভিনব কায়দায় ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সমঝোতা শিগগিরই দেশে আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেনা সদস্যদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পছন্দের উর্ধ্বে থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ইরাকের এরবিলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রায় সব’ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের দাবি ইরানের পদার্থে দুটি ভুলের পর এবার রসায়ন পরীক্ষায় ৮ সৃজনশীলের ৪টিতেই ভুল! জোড়া গোল করেই পরের ম্যাচে নিষিদ্ধ নেইমার এমপি নজরুলের একের পর এক বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর ভিডিও

পদার্থে দুটি ভুলের পর এবার রসায়ন পরীক্ষায় ৮ সৃজনশীলের ৪টিতেই ভুল!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

আবারও প্রশ্নপত্রে ভুলের অভিযোগ উঠেছে এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায়। বুধবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিত রসায়ন দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনী, উভয় অংশেই একাধিক ভুল রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন। এসব ভুলের কারণে পরীক্ষার্থীরা বিভ্রান্তি ও মানসিক চাপে পড়েছেন বলে দাবি করেন তারা। বিশেষ করে যারা প্রশ্নগুলো সমাধান করতে পারতেন, তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এর আগে, পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের প্রশ্নপত্রে দুটি বড় ধরনের ভুল ধরা পড়ে৷ পরে ওই প্রশ্নগুলোর জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

রসায়ন দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্ন বিশ্লেষণ এবং বিষয়সংশ্লিষ্ট একাধিক শিক্ষকরা জানান, সৃজনশীল প্রশ্নের ১ নম্বর উদ্দীপকের (II) অংশে বিক্রিয়ক থেকে চারটি উৎপাদ পাওয়া গেলেও কোনটির ভর ২ দশমিক ৫ গ্রাম, তা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে জারকের ভর নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ৫ নম্বর উদ্দীপকেপাত্রউল্লেখ থাকলেওপ্রশ্নে সেটিকে ‘A-পাত্রবলা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করেছে। ৬ নম্বর উদ্দীপকেরপ্রশ্নে ২৫০ মিলিলিটার গ্যাস উৎপন্ন করতে প্রয়োজনীয় মাতৃ যৌগের পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য গ্যাসটির তাপমাত্রা ও চাপ উল্লেখ করা হয়নি। একই উদ্দীপকেরপ্রশ্নে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী CO₂ গ্যাসের জন্য Z-এর মান ৪ দশমিক ০ আসে, যা বাস্তব গ্যাসের ধর্ম ও তরলীকরণ তত্ত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

এদিকে, ৮ নম্বর উদ্দীপকেরপ্রশ্নেভ্যান ডার ওয়ালসসমীকরণকেআদর্শ গ্যাসের সমন্বয় সমীকরণ’-এর পরিবর্তিত রূপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি সংজ্ঞাগতভাবে ভুল। যদিও দেশের কিছু পাঠ্যবইয়ে একই ব্যাখ্যা রয়েছে। শুধু সৃজনশীল নয়, বহুনির্বাচনী অংশেও ভুলের অভিযোগ রয়েছে। যমুনা () সেটের ১০ নম্বর প্রশ্নে কোনো সঠিক উত্তর নেই বলে শিক্ষকরা দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, পাঠ্যবই অনুযায়ী শুধু iii সঠিক হলেও প্রশ্নে সেটি এককভাবে উত্তর হিসেবে দেওয়া হয়নি। বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী ইমতিয়াজ নোমান বলেন, প্রশ্ন সমাধান করতে গিয়ে কয়েকটি উদ্দীপক ও তথ্য নিয়ে বিভ্রান্ত হয়েছিলাম। অনেক সময় নিয়েও নিশ্চিত হতে পারিনি। বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্ন ভুল হবেএমনটা ভাবিনি। তাই অনেকটা সময় নষ্ট হয়েছে। শেষ পর্যন্ত অনুমাননির্ভর উত্তর দিতে হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিশু খান লেখেন, এর আগেও পরীক্ষায় কিছু নম্বর বোনাস পেয়েছি, এবারও কিছু নম্বর বোনাস পাবো। এটাই সায়েন্স। এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিজ্ঞান পরিষদের সভাপতি ও রসায়নের শিক্ষক আরিফ হক বলেন, প্রশ্নপত্রে ভুল নতুন নয়। এসব ভুল শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়ায় ও পরীক্ষার সময় অযথা সময় নষ্ট করে। প্রশ্নের ভুল শুধু প্রশ্নপ্রণেতার নয়, কোথাও কোথাও পাঠ্যবই ও সিলেবাসের অসঙ্গতিও দায়ী জানিয়ে তিনি বলেন, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মেধাবী শিক্ষার্থীরা। কারণ তারা প্রতিটি তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বেশি সময় ব্যয় করে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক রাষ্ট্রপতির ফৌজদারী অপরাধের বিচার সম্ভব, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে কোন বাধা নেই: শিশির মনির

পদার্থে দুটি ভুলের পর এবার রসায়ন পরীক্ষায় ৮ সৃজনশীলের ৪টিতেই ভুল!

আপডেট সময় ১১:৫৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

আবারও প্রশ্নপত্রে ভুলের অভিযোগ উঠেছে এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায়। বুধবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিত রসায়ন দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনী, উভয় অংশেই একাধিক ভুল রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন। এসব ভুলের কারণে পরীক্ষার্থীরা বিভ্রান্তি ও মানসিক চাপে পড়েছেন বলে দাবি করেন তারা। বিশেষ করে যারা প্রশ্নগুলো সমাধান করতে পারতেন, তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এর আগে, পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের প্রশ্নপত্রে দুটি বড় ধরনের ভুল ধরা পড়ে৷ পরে ওই প্রশ্নগুলোর জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

রসায়ন দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্ন বিশ্লেষণ এবং বিষয়সংশ্লিষ্ট একাধিক শিক্ষকরা জানান, সৃজনশীল প্রশ্নের ১ নম্বর উদ্দীপকের (II) অংশে বিক্রিয়ক থেকে চারটি উৎপাদ পাওয়া গেলেও কোনটির ভর ২ দশমিক ৫ গ্রাম, তা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে জারকের ভর নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ৫ নম্বর উদ্দীপকেপাত্রউল্লেখ থাকলেওপ্রশ্নে সেটিকে ‘A-পাত্রবলা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করেছে। ৬ নম্বর উদ্দীপকেরপ্রশ্নে ২৫০ মিলিলিটার গ্যাস উৎপন্ন করতে প্রয়োজনীয় মাতৃ যৌগের পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য গ্যাসটির তাপমাত্রা ও চাপ উল্লেখ করা হয়নি। একই উদ্দীপকেরপ্রশ্নে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী CO₂ গ্যাসের জন্য Z-এর মান ৪ দশমিক ০ আসে, যা বাস্তব গ্যাসের ধর্ম ও তরলীকরণ তত্ত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

এদিকে, ৮ নম্বর উদ্দীপকেরপ্রশ্নেভ্যান ডার ওয়ালসসমীকরণকেআদর্শ গ্যাসের সমন্বয় সমীকরণ’-এর পরিবর্তিত রূপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি সংজ্ঞাগতভাবে ভুল। যদিও দেশের কিছু পাঠ্যবইয়ে একই ব্যাখ্যা রয়েছে। শুধু সৃজনশীল নয়, বহুনির্বাচনী অংশেও ভুলের অভিযোগ রয়েছে। যমুনা () সেটের ১০ নম্বর প্রশ্নে কোনো সঠিক উত্তর নেই বলে শিক্ষকরা দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, পাঠ্যবই অনুযায়ী শুধু iii সঠিক হলেও প্রশ্নে সেটি এককভাবে উত্তর হিসেবে দেওয়া হয়নি। বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী ইমতিয়াজ নোমান বলেন, প্রশ্ন সমাধান করতে গিয়ে কয়েকটি উদ্দীপক ও তথ্য নিয়ে বিভ্রান্ত হয়েছিলাম। অনেক সময় নিয়েও নিশ্চিত হতে পারিনি। বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্ন ভুল হবেএমনটা ভাবিনি। তাই অনেকটা সময় নষ্ট হয়েছে। শেষ পর্যন্ত অনুমাননির্ভর উত্তর দিতে হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিশু খান লেখেন, এর আগেও পরীক্ষায় কিছু নম্বর বোনাস পেয়েছি, এবারও কিছু নম্বর বোনাস পাবো। এটাই সায়েন্স। এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিজ্ঞান পরিষদের সভাপতি ও রসায়নের শিক্ষক আরিফ হক বলেন, প্রশ্নপত্রে ভুল নতুন নয়। এসব ভুল শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়ায় ও পরীক্ষার সময় অযথা সময় নষ্ট করে। প্রশ্নের ভুল শুধু প্রশ্নপ্রণেতার নয়, কোথাও কোথাও পাঠ্যবই ও সিলেবাসের অসঙ্গতিও দায়ী জানিয়ে তিনি বলেন, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মেধাবী শিক্ষার্থীরা। কারণ তারা প্রতিটি তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বেশি সময় ব্যয় করে।