ঢাকা , রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না: রাষ্ট্রপতি ‘দাদাগিরি’ ছেড়ে আজ থেকে ‘বিগ বস বাংলা’য় সৌরভ গাঙ্গুলী নৌকা খুঁজতে গেলে রুমিনের ‘হাঁস’ খেয়ে ফেলার হুঁশিয়ারি সারোয়ার তুষারের ডেঙ্গুর ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে জাপানের সহযোগিতায় গবেষণা চলছে: ড. মঈন খান অস্ত্র রপ্তানি বাড়াতে পাকিস্তানের বড় প্রস্তুতি, লক্ষ্য এবার বিশ্ববাজার ক্রিকেট একাডেমিতে পিচ রোলারের নিচে পিষ্ট হয়ে শিশুর মৃত্যু রাজধানীতে প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ হচ্ছে অটোরিকশা, চলবে অভ্যন্তরীণ সড়কে ৮ জোনে বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না: রাষ্ট্রপতি মুসলিম বিশ্বকে প্রকৃত শত্রুর বিরুদ্ধে মোকাবিলার আহ্বান মুজতাবা খামেনির আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি’র শপথ গ্রহণ

নেপালের বন্যায় ভারতের জন্যও বড় সতর্কবার্তা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ হিমালয় বিপর্যয় আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—প্রাকৃতিক দুর্যোগ কোনো রাজনৈতিক সীমারেখা মেনে চলে না। পাহাড়ে শুরু হওয়া একটি দুর্যোগ অল্প সময়ের মধ্যেই সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশের জনপদ, মানুষের জীবন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হিমবাহ ধস, বরফ-পাথরের স্রোত কিংবা নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বিপুল পানি, পাথর ও পলি নেমে আসার কারণে আকস্মিক এই বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। তবে দুর্যোগের কারণের চেয়েও বড় উদ্বেগ হলো হিমালয় অঞ্চলে বাড়তে থাকা ঝুঁকি।

জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং হিমবাহ ও পার্বত্য ভূপ্রকৃতির অস্থিতিশীলতা এ ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর সঙ্গে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও অতিরিক্ত অবকাঠামোগত চাপ যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।

নেপালের হিমালয় থেকে নেমে আসা গণ্ডক, কোসি, বাগমতী, কমলা ও ঘাঘরার মতো নদীগুলো ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে নেপালে বড় ধরনের দুর্যোগ তৈরি হলে তার প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে ভারতেও পড়তে পারে।

তাই শুধু বন্যার পানি বাড়ার সতর্কবার্তা এখন আর যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা, যেখানে আগেই শনাক্ত করা যাবে—কোন এলাকা ঝুঁকিতে, কোন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং কোথায় দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে হবে।

এ ক্ষেত্রে উপগ্রহ চিত্র, ড্রোন, রিমোট সেন্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা ও প্রস্তুতিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

নেপালের এই দুর্যোগ ভারতের উত্তরাখণ্ডের অভিজ্ঞতাকেও সামনে আনছে। সেখানে দেখা গেছে, প্রাকৃতিক ঝুঁকির সঙ্গে অপরিকল্পিত উন্নয়ন যুক্ত হলে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। তাই হিমালয় অঞ্চলে উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ ও দুর্যোগঝুঁকিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলায় ভারত ও নেপালের মধ্যে নদী অববাহিকাভিত্তিক যৌথ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি। কারণ হিমালয় কোনো রাজনৈতিক সীমারেখায় বিভক্ত নয়। এটি একটি অভিন্ন প্রাকৃতিক ব্যবস্থা।

পাহাড়ে তৈরি হওয়া দুর্যোগ নদীপথ ধরে দ্রুত সীমান্ত পেরিয়ে নিচের জনপদে আঘাত হানতে পারে। তাই রাজনৈতিক সীমান্তের পরিবর্তে নদী অববাহিকাকে কেন্দ্র করে আগাম সতর্কতা, তথ্য আদান-প্রদান ও যৌথ উদ্ধারব্যবস্থা গড়ে তোলাই হতে পারে ভবিষ্যতের বড় প্রস্তুতি।

তথ্যসূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান ও এনডিটিভি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না: রাষ্ট্রপতি

নেপালের বন্যায় ভারতের জন্যও বড় সতর্কবার্তা

আপডেট সময় ১১:০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ হিমালয় বিপর্যয় আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—প্রাকৃতিক দুর্যোগ কোনো রাজনৈতিক সীমারেখা মেনে চলে না। পাহাড়ে শুরু হওয়া একটি দুর্যোগ অল্প সময়ের মধ্যেই সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশের জনপদ, মানুষের জীবন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হিমবাহ ধস, বরফ-পাথরের স্রোত কিংবা নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বিপুল পানি, পাথর ও পলি নেমে আসার কারণে আকস্মিক এই বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। তবে দুর্যোগের কারণের চেয়েও বড় উদ্বেগ হলো হিমালয় অঞ্চলে বাড়তে থাকা ঝুঁকি।

জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং হিমবাহ ও পার্বত্য ভূপ্রকৃতির অস্থিতিশীলতা এ ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর সঙ্গে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও অতিরিক্ত অবকাঠামোগত চাপ যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।

নেপালের হিমালয় থেকে নেমে আসা গণ্ডক, কোসি, বাগমতী, কমলা ও ঘাঘরার মতো নদীগুলো ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে নেপালে বড় ধরনের দুর্যোগ তৈরি হলে তার প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে ভারতেও পড়তে পারে।

তাই শুধু বন্যার পানি বাড়ার সতর্কবার্তা এখন আর যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা, যেখানে আগেই শনাক্ত করা যাবে—কোন এলাকা ঝুঁকিতে, কোন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং কোথায় দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে হবে।

এ ক্ষেত্রে উপগ্রহ চিত্র, ড্রোন, রিমোট সেন্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা ও প্রস্তুতিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

নেপালের এই দুর্যোগ ভারতের উত্তরাখণ্ডের অভিজ্ঞতাকেও সামনে আনছে। সেখানে দেখা গেছে, প্রাকৃতিক ঝুঁকির সঙ্গে অপরিকল্পিত উন্নয়ন যুক্ত হলে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। তাই হিমালয় অঞ্চলে উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ ও দুর্যোগঝুঁকিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলায় ভারত ও নেপালের মধ্যে নদী অববাহিকাভিত্তিক যৌথ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি। কারণ হিমালয় কোনো রাজনৈতিক সীমারেখায় বিভক্ত নয়। এটি একটি অভিন্ন প্রাকৃতিক ব্যবস্থা।

পাহাড়ে তৈরি হওয়া দুর্যোগ নদীপথ ধরে দ্রুত সীমান্ত পেরিয়ে নিচের জনপদে আঘাত হানতে পারে। তাই রাজনৈতিক সীমান্তের পরিবর্তে নদী অববাহিকাকে কেন্দ্র করে আগাম সতর্কতা, তথ্য আদান-প্রদান ও যৌথ উদ্ধারব্যবস্থা গড়ে তোলাই হতে পারে ভবিষ্যতের বড় প্রস্তুতি।

তথ্যসূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান ও এনডিটিভি।