আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বিয়ের অনেক রীতি। পালকি কিংবা গরুর গাড়ির জায়গা নিয়েছে বিলাসবহুল গাড়ি, কখনোবা হেলিকপ্টার। তবে মাগুরার শ্রীপুরে ব্যতিক্রমী এক বিয়ের আয়োজনে যেন ফিরে এলো সেই চেনা পুরোনো দিনের গ্রামবাংলা।
শনিবার বিকেলে শ্রীপুর উপজেলার বরিশাট গ্রামের রাস্তায় দেখা যায় অন্যরকম এক দৃশ্য। ঘোড়ার পিঠে চড়ে বর, সঙ্গে ১০টি গরুর গাড়ি ও পাঁচটি মহিষের গাড়িতে বিশাল বরযাত্রী। আর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কাঠের পালকিতে করে শ্বশুরবাড়ির পথে রওনা হন নববধূ।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মো. বদরুল আলম লিটুর ছেলে মো. শ্রাবণের সঙ্গে পাশের টুপিপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল হালিম শেখের মেয়ে নাবিয়া ইকরার বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখতেই দুই পরিবারের সম্মতিতে নেওয়া হয় এই আয়োজন।
সানাইয়ের সুর, ঢাক-ঢোলের বাদ্য আর ঘোড়ায় চড়ে বরের যাত্রা—সব মিলিয়ে পুরো গ্রাম যেন পরিণত হয় উৎসবের মঞ্চে। বরযাত্রীর বহর দেখতে রাস্তার দুই পাশে ভিড় করেন শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষ।
বর শ্রাবণ জানান, ছোটবেলা থেকেই পুরোনো দিনের ঐতিহ্যবাহী বিয়ের আয়োজন করার ইচ্ছা ছিল তার। সেই শখ পূরণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সামনে গ্রামীণ সংস্কৃতি তুলে ধরতেই এমন আয়োজন।
আর কনে নাবিয়া ইকরারও ছিল পালকিতে চড়ে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত তিনি।
বরের বাবা বদরুল আলম লিটু বলেন, কৃত্রিম চাকচিক্যের পরিবর্তে পরিবারের ইচ্ছাতেই পুরোনো দিনের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন তারা।
আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার সেই চিরচেনা বিয়ের আয়োজন যেন একদিনের জন্য ফিরিয়ে দিল পালকি, গরুর গাড়ি, মহিষের গাড়ি আর সানাইয়ের সেই নস্টালজিক সময়।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























