ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না: পেজেশকিয়ান দেশে ফিরে বীরের সংবর্ধনা পেলেন বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ সেই রেফারি থানা হেফাজতে পুশইন হওয়া বৃদ্ধ, মিলেছে নিজ ঠিকানা আরোহীর মাথায় ইট ছুঁড়ে বাইক ছিনতাইয়ের ঘটনা চমকে দিয়েছে দেশবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫, এফ-১৫ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে হামলা ইরানের শিবিরের বট ও অ্যাক্টিভিস্টরা বারবার আমার ফাঁসির দাবি তুলছেন: মাহফুজ জোরপূর্বক পুশইন চেষ্টা, বাংলাদেশিদের ধাওয়ায় পালাল ভারতীয়রা বোমা হামলা বন্ধ করতে ফোন করেছিল ইরানের শীর্ষ নেতারা: ট্রাম্পের দাবি জীবন বাঁচাতে চুপ আছি, কিন্তু গালি কেন থামছে না: মাহফুজ  মধ্যপ্রাচ্যের ১৮ মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলার দাবি ইরানের

১৭ বছর ভুয়া লাইসেন্সে ৯০০ ফ্লাইট চালানোর পর ধরা পড়ল পাইলট

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:২৩:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে

এবার কানাডার জাতীয় বিমান সংস্থা এয়ার কানাডার এক পাইলটের বিরুদ্ধে প্রায় ১৭ বছর ধরে ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহার করে যাত্রীবাহী বিমান পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ৫৯ বছর বয়সী জিওফ্রি ওয়াল নামের ওই পাইলটের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ভুয়া পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশ। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্টারিও প্রদেশের বাসিন্দা জিওফ্রি ওয়াল ১৯৯৮ সালে এয়ার কানাডায় যোগ দেন। পরে ২০০৯ সালে ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হওয়ার পর থেকে প্রয়োজনীয় এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স (এটিপিএল) ছাড়াই তিনি উড়োজাহাজ পরিচালনা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য এটিপিএল বাধ্যতামূলক। এই লাইসেন্স অর্জনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লিখিত পরীক্ষা ও দক্ষতার মূল্যায়নে পাস করতে হয়। তবে ওয়াল জাল নথিপত্র ব্যবহার করে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ১৭ বছরে তিনি বোয়িংসহ বিভিন্ন ধরনের বিমান পরিচালনা করে প্রায় ৯০০টি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সম্পন্ন করেছেন।

এসময় তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করেছেন, যা অভিযোগ অনুযায়ী জাল নথির ভিত্তিতে অর্জিত। ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত বছর এক নিয়মিত মূল্যায়নের সময়। তখন তার লাইসেন্স সংক্রান্ত নথিতে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে কানাডার পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ট্রান্সপোর্ট কানাডা তদন্ত শুরু করে। পরবর্তী অনুসন্ধানে লাইসেন্স জাল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় এবং বিষয়টি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এয়ার কানাডা জানিয়েছে, অভিযোগ সামনে আসার পরপরই জিওফ্রি ওয়ালকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি নিজ উদ্যোগে বিষয়টি ট্রান্সপোর্ট কানাডাকে অবহিত করেছে। তবে বিমান সংস্থাটি দাবি করেছে, এই ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা কখনো হুমকির মুখে পড়েনি। কারণ প্রতিষ্ঠানটির সব পাইলটকে প্রতি ছয় মাস অন্তর দক্ষতা ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

পিল রিজিওনাল পুলিশের ডেপুটি চিফ নিক মিলিনোভিচ বলেন, এটি অনেকটা এমন, যেন কেউ একজন সাধারণ চিকিৎসকের লাইসেন্স নিয়ে মস্তিষ্কের জটিল অস্ত্রোপচার করছেন। তার মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত কৌশলে নিজের পরিচয় ও নথিপত্র গোপন রাখতে সক্ষম হয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতে জিওফ্রি ওয়ালের বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতারণা, জাল নথি প্রস্তুত ও ব্যবহার এবং ভুয়া পরিচয় প্রদান। আগামী ২৯ জুন তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না: পেজেশকিয়ান

১৭ বছর ভুয়া লাইসেন্সে ৯০০ ফ্লাইট চালানোর পর ধরা পড়ল পাইলট

আপডেট সময় ০৩:২৩:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

এবার কানাডার জাতীয় বিমান সংস্থা এয়ার কানাডার এক পাইলটের বিরুদ্ধে প্রায় ১৭ বছর ধরে ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহার করে যাত্রীবাহী বিমান পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ৫৯ বছর বয়সী জিওফ্রি ওয়াল নামের ওই পাইলটের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ভুয়া পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশ। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্টারিও প্রদেশের বাসিন্দা জিওফ্রি ওয়াল ১৯৯৮ সালে এয়ার কানাডায় যোগ দেন। পরে ২০০৯ সালে ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হওয়ার পর থেকে প্রয়োজনীয় এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স (এটিপিএল) ছাড়াই তিনি উড়োজাহাজ পরিচালনা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য এটিপিএল বাধ্যতামূলক। এই লাইসেন্স অর্জনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লিখিত পরীক্ষা ও দক্ষতার মূল্যায়নে পাস করতে হয়। তবে ওয়াল জাল নথিপত্র ব্যবহার করে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ১৭ বছরে তিনি বোয়িংসহ বিভিন্ন ধরনের বিমান পরিচালনা করে প্রায় ৯০০টি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সম্পন্ন করেছেন।

এসময় তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করেছেন, যা অভিযোগ অনুযায়ী জাল নথির ভিত্তিতে অর্জিত। ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত বছর এক নিয়মিত মূল্যায়নের সময়। তখন তার লাইসেন্স সংক্রান্ত নথিতে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে কানাডার পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ট্রান্সপোর্ট কানাডা তদন্ত শুরু করে। পরবর্তী অনুসন্ধানে লাইসেন্স জাল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় এবং বিষয়টি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এয়ার কানাডা জানিয়েছে, অভিযোগ সামনে আসার পরপরই জিওফ্রি ওয়ালকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি নিজ উদ্যোগে বিষয়টি ট্রান্সপোর্ট কানাডাকে অবহিত করেছে। তবে বিমান সংস্থাটি দাবি করেছে, এই ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা কখনো হুমকির মুখে পড়েনি। কারণ প্রতিষ্ঠানটির সব পাইলটকে প্রতি ছয় মাস অন্তর দক্ষতা ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

পিল রিজিওনাল পুলিশের ডেপুটি চিফ নিক মিলিনোভিচ বলেন, এটি অনেকটা এমন, যেন কেউ একজন সাধারণ চিকিৎসকের লাইসেন্স নিয়ে মস্তিষ্কের জটিল অস্ত্রোপচার করছেন। তার মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত কৌশলে নিজের পরিচয় ও নথিপত্র গোপন রাখতে সক্ষম হয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতে জিওফ্রি ওয়ালের বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতারণা, জাল নথি প্রস্তুত ও ব্যবহার এবং ভুয়া পরিচয় প্রদান। আগামী ২৯ জুন তাকে আদালতে হাজির করা হবে।