ঢাকা , সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি সরাতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ছাত্রদল আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আ.লীগ ব্যবসায়ী ও এমপিদের প্রটেকশন দিয়েছে: রাশেদ খাঁন এআই না জানলে মুসলিমরা পিছিয়ে পড়বে: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার নতুন পোশাক আইন করছে ভারত, বিপাকে মুসলিমরা ক্ষমতায় না যেতেই মজলুম থেকে জালিমে পরিণত হয়েছে জামায়াত: রাশেদ খাঁন জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শিবির নিয়ন্ত্রিত ডাকসু ‘পাকিস্তান প্রেম’ জাহির করছে: ছাত্রদল মসজিদের মাইকে ‘ডাকাত’ ঘোষণা দিয়ে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেলও দখলে নিতে চান ট্রাম্প

খালেদা জিয়ার নাম থাকায় বদলে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নকশা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১৮ বার পড়া হয়েছে

দুই দশক পেরিয়ে ২১ বছরে পদার্পণ করেছে ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। তবে প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভিত্তিপ্রস্তর ও নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত বটগাছই এখন রয়েছে ক্যাম্পাসের সীমানার বাইরে।

২০০৫ সালের ১ মার্চ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরের বছর ২৫ মে তিনিই বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। দুটি ফলকেই ছিল তাঁর নাম।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার সময় জমির পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে ১৫ একর। তখন ভিত্তিপ্রস্তরের পাশ দিয়ে প্রধান ফটক নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। পরে গেটের স্থান পরিবর্তন করে মাঝামাঝি এলাকায় নির্মাণ করা হয়। ভিত্তিপ্রস্তরের পাশের রাস্তা বন্ধ করে সেখানে নির্মাণ করা হয় শিউলিমালা হল। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি সম্প্রসারণ করা হলেও পশ্চিম পাশে ভিত্তিপ্রস্তরের পাশের জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। ফলে ভিত্তিপ্রস্তরটি ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে যায়।

শুধু ভিত্তিপ্রস্তর নয়, এর পাশের ঐতিহাসিক বটগাছটিও রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে, কিশোর বয়সে ত্রিশালে এসে কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই বটগাছের নিচে বসে বাঁশি বাজাতেন। নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত সেই স্থানটি ‘নজরুল বটতলা’ নামে পরিচিত।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর খালেদা জিয়ার নামসংবলিত ভিত্তিপ্রস্তর ও উদ্বোধনী ফলক যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। ভিত্তিপ্রস্তরের আশপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখার অভিযোগও রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুটি ফলকই পরিমার্জন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভিত্তিপ্রস্তরটি কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্পত্তি নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম-ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। তাই জমি অধিগ্রহণ করে ঐতিহাসিক ভিত্তিপ্রস্তর ও বটগাছকে ক্যাম্পাসের সীমানার মধ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ভিত্তিপ্রস্তর ও ঐতিহাসিক বটতলাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসন কাজ করছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জমি অধিগ্রহণ সম্ভব হলে ভিত্তিপ্রস্তর ও বটগাছকে ক্যাম্পাসের অন্তর্ভুক্ত করে সেখানে একটি সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি মূল ক্যাম্পাসের সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

২০০৬ সালের ৯ মে জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬’ পাস হয়। নজরুলের নামে প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম এই বিশ্ববিদ্যালয় এখন ২১ বছরে পা দিলেও প্রতিষ্ঠার স্মারক ও কবির স্মৃতিবিজড়িত স্থানটি ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন করে আলোচনা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি সরাতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ছাত্রদল

খালেদা জিয়ার নাম থাকায় বদলে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নকশা

আপডেট সময় ০২:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

দুই দশক পেরিয়ে ২১ বছরে পদার্পণ করেছে ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। তবে প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভিত্তিপ্রস্তর ও নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত বটগাছই এখন রয়েছে ক্যাম্পাসের সীমানার বাইরে।

২০০৫ সালের ১ মার্চ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরের বছর ২৫ মে তিনিই বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। দুটি ফলকেই ছিল তাঁর নাম।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার সময় জমির পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে ১৫ একর। তখন ভিত্তিপ্রস্তরের পাশ দিয়ে প্রধান ফটক নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। পরে গেটের স্থান পরিবর্তন করে মাঝামাঝি এলাকায় নির্মাণ করা হয়। ভিত্তিপ্রস্তরের পাশের রাস্তা বন্ধ করে সেখানে নির্মাণ করা হয় শিউলিমালা হল। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি সম্প্রসারণ করা হলেও পশ্চিম পাশে ভিত্তিপ্রস্তরের পাশের জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। ফলে ভিত্তিপ্রস্তরটি ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে যায়।

শুধু ভিত্তিপ্রস্তর নয়, এর পাশের ঐতিহাসিক বটগাছটিও রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে, কিশোর বয়সে ত্রিশালে এসে কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই বটগাছের নিচে বসে বাঁশি বাজাতেন। নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত সেই স্থানটি ‘নজরুল বটতলা’ নামে পরিচিত।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর খালেদা জিয়ার নামসংবলিত ভিত্তিপ্রস্তর ও উদ্বোধনী ফলক যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। ভিত্তিপ্রস্তরের আশপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখার অভিযোগও রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুটি ফলকই পরিমার্জন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভিত্তিপ্রস্তরটি কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্পত্তি নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম-ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। তাই জমি অধিগ্রহণ করে ঐতিহাসিক ভিত্তিপ্রস্তর ও বটগাছকে ক্যাম্পাসের সীমানার মধ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ভিত্তিপ্রস্তর ও ঐতিহাসিক বটতলাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসন কাজ করছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জমি অধিগ্রহণ সম্ভব হলে ভিত্তিপ্রস্তর ও বটগাছকে ক্যাম্পাসের অন্তর্ভুক্ত করে সেখানে একটি সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি মূল ক্যাম্পাসের সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

২০০৬ সালের ৯ মে জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬’ পাস হয়। নজরুলের নামে প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম এই বিশ্ববিদ্যালয় এখন ২১ বছরে পা দিলেও প্রতিষ্ঠার স্মারক ও কবির স্মৃতিবিজড়িত স্থানটি ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন করে আলোচনা।