ঢাকার ভূমিকম্পে ভবনের রেলিং ভেঙে মারা যাওয়া স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলাম রাফির মৃত্যু যেন এক মায়ের চিরস্থায়ী অনুতাপ হয়ে আটকে গেছে। গুরুতর আহত মা নুসরাত জাহান নিপা বারবার নিজেকেই দায়ী করছেন—
“আমারই দোষ… ওকে বাসায় রেখে গেলে আজ আমার ছেলেটা বেঁচে থাকত।”
শুক্রবার পুরান ঢাকার বংশালে মাংস কিনতে গিয়েছিলেন মা–ছেলে। সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্পে পাশের ভবনের ছাদের রেলিং ধসে পড়লে দুজনই আহত হন। মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়ার পর রাফিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
গুরুতর অবস্থায় থাকা মাকে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুসংবাদ দেওয়া হয়নি। বগুড়ায় আনা হলে ২৮ ঘণ্টা পর শনিবার বিকেলে তাকে ছেলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। খবর শুনেই তিনি ভেঙে পড়েন, বারবার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলেন। বর্তমানে তিনি শজিমেক হাসপাতালের নিউরোসায়েন্স বিভাগে ভর্তি আছেন।
বাদ জোহর বগুড়ার নামাজগড়ে রাফির জানাজায় সহপাঠী, বন্ধু ও অসংখ্য মানুষ অংশ নেন। পরে মা নিপাকে শেষবারের মতো ছেলের মুখ দেখানো হয়। বিকেলেই তাকে নামাজগড় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
একই ঘটনায় মাংস কিনতে যাওয়া আরেক বাবা–ছেলেও নিহত হন—কাঠ ব্যবসায়ী আবদুর রহিম (৪৫) ও তার ছেলে মেহরাব হোসেন রিমন (১১)।
মায়ের সামান্য আবদার, ছেলের ছোট্ট ইচ্ছা—এভাবেই একটি ordinary সকাল তাদের পরিবারের জন্য হয়ে ওঠে অমোচনীয় শোকের দিন।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























