ঢাকা , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো শেডে আগুন: তদন্তে নাশকতার প্রমাণ নেই, বৈদ্যুতিক ত্রুটিকেই দায়ী করা হয়েছে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৪৪:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ৪৩৩ বার পড়া হয়েছে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো শেডে আগুন লাগার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি আজ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্তে নিশ্চিত করা হয়েছে— আগুনের উৎস ছিল বৈদ্যুতিক আর্ক ও শর্ট সার্কিট; এটি কোনো নাশকতা নয়।

মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানিয়ে বলেন, স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রধান উপদেষ্টার হাতে তুলে দেন। পরে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রতিবেদনের বিভিন্ন বিষয় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, কুরিয়ার শেডের ভেতরে ৪৮টি লোহার খাঁচা-অফিস স্থাপন করা হলেও সেখানে ফায়ার অ্যালার্ম, স্মোক ডিটেক্টর, স্প্রিঙ্কলার বা হাইড্রান্ট— কোনো প্রাথমিক অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। তাছাড়া কাগজ মোড়ানো কাপড়ের রোল, রাসায়নিক, পারফিউম ও বডি স্প্রে, ইলেকট্রনিক্স, ব্যাটারি, ঔষধি কাঁচামালসহ বিপুল পরিমাণ দাহ্য পণ্য অগোছালোভাবে রাখা ছিল, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছিল।

তদন্ত কমিটি ৯৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে। তুরস্ক, বুয়েট, অগ্নি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং সিআইডি ফরেনসিক প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ দিয়েছেন। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ২০১৩ সাল থেকে একই স্থানে সাতটি বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, কিন্তু সেগুলোর বেশিরভাগই গণমাধ্যমে তেমনভাবে প্রকাশ পায়নি। তবুও সিভিল এভিয়েশন অথরিটির আগুন প্রতিরোধ ও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো কার্যকর প্রতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি।

তদন্ত কমিটি বেশ কিছু সুপারিশ করেছে—

  • বিমানবন্দর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বতন্ত্র বিমানবন্দর পরিচালনা কর্তৃপক্ষ গঠন
  • সিএএবি শুধু নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করবে।
  • বাংলাদেশ বিমানের ভূমিকা কেবল ফ্লাইট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ রাখা।
  • গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিংয়ের জন্য দক্ষ অপারেটর নিয়োগ।
  • বিমান সংস্থার জন্য বিশেষ শ্রেণির ফায়ার স্টেশন স্থাপন।
  • বিপজ্জনক রাসায়নিক ও বিপজ্জনক পণ্যের গুদাম আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী স্থানান্তর।
  • নিলামযোগ্য পণ্যের জন্য পৃথক কাস্টমস গুদাম স্থাপন।
  • এপ্রোন এলাকায় কোনো ধরনের পণ্য সংরক্ষণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।

উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দরের সম্প্রসারিত কুরিয়ার শেডে ভয়াবহ আগুন লাগে। আজকের এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার নজরে আনা হয়েছে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো শেডে আগুন: তদন্তে নাশকতার প্রমাণ নেই, বৈদ্যুতিক ত্রুটিকেই দায়ী করা হয়েছে

আপডেট সময় ১০:৪৪:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো শেডে আগুন লাগার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি আজ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্তে নিশ্চিত করা হয়েছে— আগুনের উৎস ছিল বৈদ্যুতিক আর্ক ও শর্ট সার্কিট; এটি কোনো নাশকতা নয়।

মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানিয়ে বলেন, স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রধান উপদেষ্টার হাতে তুলে দেন। পরে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রতিবেদনের বিভিন্ন বিষয় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, কুরিয়ার শেডের ভেতরে ৪৮টি লোহার খাঁচা-অফিস স্থাপন করা হলেও সেখানে ফায়ার অ্যালার্ম, স্মোক ডিটেক্টর, স্প্রিঙ্কলার বা হাইড্রান্ট— কোনো প্রাথমিক অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। তাছাড়া কাগজ মোড়ানো কাপড়ের রোল, রাসায়নিক, পারফিউম ও বডি স্প্রে, ইলেকট্রনিক্স, ব্যাটারি, ঔষধি কাঁচামালসহ বিপুল পরিমাণ দাহ্য পণ্য অগোছালোভাবে রাখা ছিল, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছিল।

তদন্ত কমিটি ৯৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে। তুরস্ক, বুয়েট, অগ্নি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং সিআইডি ফরেনসিক প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ দিয়েছেন। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ২০১৩ সাল থেকে একই স্থানে সাতটি বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, কিন্তু সেগুলোর বেশিরভাগই গণমাধ্যমে তেমনভাবে প্রকাশ পায়নি। তবুও সিভিল এভিয়েশন অথরিটির আগুন প্রতিরোধ ও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো কার্যকর প্রতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি।

তদন্ত কমিটি বেশ কিছু সুপারিশ করেছে—

  • বিমানবন্দর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বতন্ত্র বিমানবন্দর পরিচালনা কর্তৃপক্ষ গঠন
  • সিএএবি শুধু নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করবে।
  • বাংলাদেশ বিমানের ভূমিকা কেবল ফ্লাইট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ রাখা।
  • গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিংয়ের জন্য দক্ষ অপারেটর নিয়োগ।
  • বিমান সংস্থার জন্য বিশেষ শ্রেণির ফায়ার স্টেশন স্থাপন।
  • বিপজ্জনক রাসায়নিক ও বিপজ্জনক পণ্যের গুদাম আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী স্থানান্তর।
  • নিলামযোগ্য পণ্যের জন্য পৃথক কাস্টমস গুদাম স্থাপন।
  • এপ্রোন এলাকায় কোনো ধরনের পণ্য সংরক্ষণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।

উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দরের সম্প্রসারিত কুরিয়ার শেডে ভয়াবহ আগুন লাগে। আজকের এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার নজরে আনা হয়েছে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।