ঢাকা , শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
যশোরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা পলাশসহ চারজনকে সেনাবাহিনীর অভিযানে আটক দিনের শুরুতে যে দোয়া পড়তেন নবিজি (সা.) ফিফা শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন ট্রাম্প যে আমলে দারিদ্র্য দূর হয় রাজনীতিতে ইসলাম মানে শুধু নাম নয়, কাজের মধ্যেও থাকতে হবে” বিএনপির এ্যানি নির্বাচনে অংশ নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত বিএনপি: বড় বিপর্যয় না হলে অংশগ্রহণের ঘোষণা রিজভীর বাংলাদেশে পাথর মেরে মানুষ হত্যার রাজনীতি আর চলবে না: জাহিদুল ইসলাম ‘এনসিপি নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদ ও ছাত্রশক্তির শ্যামলী সুলতানা জেদনীর শুভ বিবাহ সম্পন্ন’ বিএনপির ২৭২ মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ,১২ দলীয় জোটের জরুরি সংবাদ সম্মেলন সোমবার “কুরআনের বাংলাদেশ গড়তেই আমাদের লড়াই,চট্টগ্রামে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান”

ঢাকার কড়াইল বস্তিতে আগুনে পুড়ল শতাধিক ঘর, বাসিন্দারা শীতের রাতে আশ্রয়হীন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০০:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৭১ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার মহাখালী এলাকায় অবস্থিত কড়াইল বস্তিতে মঙ্গলবার বিকেল ভয়াবহ আগুন লেগে কমপক্ষে ৫০০টির মতো ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে বাসিন্দারা তাদের জমানো সব ধনসম্পদ হারিয়েছেন এবং শীতের রাতে নিরাপদ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন।

লুৎফর রহমান ও তার স্ত্রী আসমা দীর্ঘ ১০ বছর ধরে কড়াইল বস্তিতে বসবাস করেন। লুৎফর রিকশা চালান, আর আসমা গার্মেন্টসে কাজ করেন। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। আগুনে তাদের ঘর ও সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। লুৎফর জানান, আগুন লাগার সময় তিনি গুলশানে রিকশা চালাচ্ছিলেন। দ্রুত বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করলেও রাস্তা বন্ধ থাকায় যেতে পারেননি।

লুৎফর বলেন, “সঙ্গে মোবাইল ছিল না। আগুনের পর স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়নি। ঘরের জিনিসপত্র সব পুড়ে গেছে। রাত কাটাব কোথায়, জানি না।”

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা রাব্বি জানান, আগুন লাগার সময় তিনি মোহাম্মদপুরে ছিলেন। আগুনের খবরে এসে দেখেন তাদের ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। “২০ হাজার টাকা পুড়ে গেছে। এই শীতের রাতে থাকব কোথায়?”—তিনি প্রশ্ন করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বস্তিবাসীর আহাজারি পরিবেশ ভারী করে দিয়েছে। আগুনে কিছু হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুনে ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন, ঘরের ‘সবকিছুই’ পুড়ে গেছে।

বস্তিবাসী সুমন আহম্মেদ বলেন, “আগুনের সময় বাসার বাইরে ছিলাম। খবর শুনে দৌড়াইয়া এলাম, সব শেষ হয়ে গেছে।” আর ফজলু জানান, আগুনে প্রায় ৫ শতাধিক ঘর পুড়ে গেছে। যেসব ঘরে আগুন এখনও লাগেনি, সেসব থেকে বাসিন্দারা তাড়াহুড়ো করে মূল্যবান জিনিস বের করার চেষ্টা করছেন।

লাভলী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সাত বছর ধরে সংগ্রহ করা টিভি, ফ্রিজসহ সব আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। মাসে মাসে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতাম, সব শেষ।”

ফায়ার সার্ভিস জানায়, বিকেল ৫:২২ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা ১৯টি ইউনিট নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। যানজট ও সরু গলির কারণে গাড়ি সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি, তাই দীর্ঘ পাইপ টেনে পানি ছিটাতে হয়েছে।


 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা পলাশসহ চারজনকে সেনাবাহিনীর অভিযানে আটক

ঢাকার কড়াইল বস্তিতে আগুনে পুড়ল শতাধিক ঘর, বাসিন্দারা শীতের রাতে আশ্রয়হীন

আপডেট সময় ১১:০০:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকার মহাখালী এলাকায় অবস্থিত কড়াইল বস্তিতে মঙ্গলবার বিকেল ভয়াবহ আগুন লেগে কমপক্ষে ৫০০টির মতো ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে বাসিন্দারা তাদের জমানো সব ধনসম্পদ হারিয়েছেন এবং শীতের রাতে নিরাপদ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন।

লুৎফর রহমান ও তার স্ত্রী আসমা দীর্ঘ ১০ বছর ধরে কড়াইল বস্তিতে বসবাস করেন। লুৎফর রিকশা চালান, আর আসমা গার্মেন্টসে কাজ করেন। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। আগুনে তাদের ঘর ও সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। লুৎফর জানান, আগুন লাগার সময় তিনি গুলশানে রিকশা চালাচ্ছিলেন। দ্রুত বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করলেও রাস্তা বন্ধ থাকায় যেতে পারেননি।

লুৎফর বলেন, “সঙ্গে মোবাইল ছিল না। আগুনের পর স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়নি। ঘরের জিনিসপত্র সব পুড়ে গেছে। রাত কাটাব কোথায়, জানি না।”

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা রাব্বি জানান, আগুন লাগার সময় তিনি মোহাম্মদপুরে ছিলেন। আগুনের খবরে এসে দেখেন তাদের ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। “২০ হাজার টাকা পুড়ে গেছে। এই শীতের রাতে থাকব কোথায়?”—তিনি প্রশ্ন করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বস্তিবাসীর আহাজারি পরিবেশ ভারী করে দিয়েছে। আগুনে কিছু হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুনে ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন, ঘরের ‘সবকিছুই’ পুড়ে গেছে।

বস্তিবাসী সুমন আহম্মেদ বলেন, “আগুনের সময় বাসার বাইরে ছিলাম। খবর শুনে দৌড়াইয়া এলাম, সব শেষ হয়ে গেছে।” আর ফজলু জানান, আগুনে প্রায় ৫ শতাধিক ঘর পুড়ে গেছে। যেসব ঘরে আগুন এখনও লাগেনি, সেসব থেকে বাসিন্দারা তাড়াহুড়ো করে মূল্যবান জিনিস বের করার চেষ্টা করছেন।

লাভলী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সাত বছর ধরে সংগ্রহ করা টিভি, ফ্রিজসহ সব আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। মাসে মাসে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতাম, সব শেষ।”

ফায়ার সার্ভিস জানায়, বিকেল ৫:২২ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা ১৯টি ইউনিট নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। যানজট ও সরু গলির কারণে গাড়ি সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি, তাই দীর্ঘ পাইপ টেনে পানি ছিটাতে হয়েছে।