ঢাকা , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজ ভূমির বারান্দায় ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’—কবিতায় শেকড়ের বার্তা দিলেন মির্জা ফখরুল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:৪৮:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৯৯ বার পড়া হয়েছে

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন যখন প্রতিদিনই উত্তাপ ছড়াচ্ছে, ঠিক তখনই এক ভিন্ন আবহে হাজির হলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঠাকুরগাঁও শহরের তাঁতিপাড়া মহল্লায় নিজের পৈতৃক বাসভবনের বারান্দায় বসে তিনি আবৃত্তি করলেন কবি আহসান হাবীবের কালজয়ী কবিতা— ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’

এই ব্যক্তিগত ও সাংস্কৃতিক মুহূর্তের সংক্ষিপ্ত দৃশ্যায়ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই এটি রাজনৈতিক কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাঝেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আবৃত্তি নিছক সাহিত্যচর্চা নয়; বরং একটি গভীর রাজনৈতিক বার্তা। বর্তমান জাতীয় প্রেক্ষাপটে নিজের জন্মভূমি ও দেশের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্কের পরিচয় নতুন করে প্রতিষ্ঠা করলেন বিএনপি মহাসচিব।

জানা যায়, মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতিতে মতবিনিময় শেষে তিনি বাসভবনে ফেরেন। সেখানে অধ্যাপনা জীবনের সহকর্মী, নাট্যকর্মী ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আড্ডার এক পর্যায়ে তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কবিতাটি আবৃত্তি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঠাকুরগাঁও চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক মামুন উর রশিদ।

সাধারণত রাজনৈতিক সমাবেশে কর্মীদের উজ্জীবিত করতে তিনি কবিতার引用 ব্যবহার করেন। তবে ঘরোয়া পরিবেশে, আপনজনদের সামনে তার এই আবৃত্তি অনেকের কাছে ব্যক্তিগত অনুভূতির অকপট প্রকাশ হিসেবে ধরা পড়ে।

তিনি যে অংশটি আবৃত্তি করেছেন, তার প্রতিটি পঙক্তিতে ফুটে ওঠে নিজের মাটির প্রতি কবির একাত্মতা—

‘আমি কোনো আগন্তুক নই, আমি
ছিলাম এখানে, আমি স্বাপ্নিক নিয়মে
এখানেই থাকি আর
এখানে থাকার নাম সর্বত্রই থাকা—
সারা দেশে।
আমি কোনো আগন্তুক নই।
এই খর রৌদ্র জলজ বাতাস মেঘ ক্লান্ত বিকেলের
পাখিরা আমাকে চেনে
তারা জানে আমি কোনো অনাত্মীয় নই।’

বিশ্লেষকদের চোখে ‘শেকড়ের বার্তা’

রাজনীতিতে যখন নেতাদের ‘জনবিচ্ছিন্নতা’ নিয়ে নানা সমালোচনা শোনা যায়, তখন মির্জা ফখরুলের এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে বলেন, “এটি অত্যন্ত প্রতীকী কাজ। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন—দলের শীর্ষ পদে থাকলেও তিনি মাটির মানুষ, এই দেশের মানুষই তার শক্তি। এটি কর্মী এবং সাধারণ মানুষের কাছে এক ধরনের শেকড়ের বার্তা।”

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আবৃত্তি মির্জা ফখরুলের নিজ ভূমির প্রতি গভীর বন্ধনকে নতুনভাবে সামনে এনেছে, যা জাতীয় রাজনীতিতে ভিন্নমাত্রা যোগ করতে পারে।


 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজ ভূমির বারান্দায় ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’—কবিতায় শেকড়ের বার্তা দিলেন মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় ০৬:৪৮:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন যখন প্রতিদিনই উত্তাপ ছড়াচ্ছে, ঠিক তখনই এক ভিন্ন আবহে হাজির হলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঠাকুরগাঁও শহরের তাঁতিপাড়া মহল্লায় নিজের পৈতৃক বাসভবনের বারান্দায় বসে তিনি আবৃত্তি করলেন কবি আহসান হাবীবের কালজয়ী কবিতা— ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’

এই ব্যক্তিগত ও সাংস্কৃতিক মুহূর্তের সংক্ষিপ্ত দৃশ্যায়ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই এটি রাজনৈতিক কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাঝেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আবৃত্তি নিছক সাহিত্যচর্চা নয়; বরং একটি গভীর রাজনৈতিক বার্তা। বর্তমান জাতীয় প্রেক্ষাপটে নিজের জন্মভূমি ও দেশের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্কের পরিচয় নতুন করে প্রতিষ্ঠা করলেন বিএনপি মহাসচিব।

জানা যায়, মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতিতে মতবিনিময় শেষে তিনি বাসভবনে ফেরেন। সেখানে অধ্যাপনা জীবনের সহকর্মী, নাট্যকর্মী ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আড্ডার এক পর্যায়ে তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কবিতাটি আবৃত্তি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঠাকুরগাঁও চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক মামুন উর রশিদ।

সাধারণত রাজনৈতিক সমাবেশে কর্মীদের উজ্জীবিত করতে তিনি কবিতার引用 ব্যবহার করেন। তবে ঘরোয়া পরিবেশে, আপনজনদের সামনে তার এই আবৃত্তি অনেকের কাছে ব্যক্তিগত অনুভূতির অকপট প্রকাশ হিসেবে ধরা পড়ে।

তিনি যে অংশটি আবৃত্তি করেছেন, তার প্রতিটি পঙক্তিতে ফুটে ওঠে নিজের মাটির প্রতি কবির একাত্মতা—

‘আমি কোনো আগন্তুক নই, আমি
ছিলাম এখানে, আমি স্বাপ্নিক নিয়মে
এখানেই থাকি আর
এখানে থাকার নাম সর্বত্রই থাকা—
সারা দেশে।
আমি কোনো আগন্তুক নই।
এই খর রৌদ্র জলজ বাতাস মেঘ ক্লান্ত বিকেলের
পাখিরা আমাকে চেনে
তারা জানে আমি কোনো অনাত্মীয় নই।’

বিশ্লেষকদের চোখে ‘শেকড়ের বার্তা’

রাজনীতিতে যখন নেতাদের ‘জনবিচ্ছিন্নতা’ নিয়ে নানা সমালোচনা শোনা যায়, তখন মির্জা ফখরুলের এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে বলেন, “এটি অত্যন্ত প্রতীকী কাজ। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন—দলের শীর্ষ পদে থাকলেও তিনি মাটির মানুষ, এই দেশের মানুষই তার শক্তি। এটি কর্মী এবং সাধারণ মানুষের কাছে এক ধরনের শেকড়ের বার্তা।”

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আবৃত্তি মির্জা ফখরুলের নিজ ভূমির প্রতি গভীর বন্ধনকে নতুনভাবে সামনে এনেছে, যা জাতীয় রাজনীতিতে ভিন্নমাত্রা যোগ করতে পারে।