বদলিজনিত কারণে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা ছেড়ে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এক অসহায় ও ঘরহীন বৃদ্ধাকে দৃষ্টিনন্দন সেমিপাকা গৃহ উপহার দিয়ে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। তার এই মানবিক উদ্যোগ শেষ কর্মদিবসে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পবনবেগ গ্রামের ৭০ বছর বয়সী সূর্য্য বেগম স্বামী মারা যাওয়ার পর একমাত্র মেয়েকে নিয়ে দীর্ঘদিন একটি জরাজীর্ণ, ভাঙাচোরা ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। শীত ও বৃষ্টিতে তার জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠতো। অবশেষে ইউএনও রাসেল ইকবাল তার এই দীর্ঘ কষ্টের অবসান ঘটান।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ইউএনও রাসেল ইকবালের আলফাডাঙ্গায় শেষ কর্মদিবস। এইদিনই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সূর্য্য বেগমকে নতুন ঘরটি বুঝিয়ে দেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের টিআর প্রকল্প হতে ২ লাখ ৭৯ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ঘরটি সবুজ রঙিন টিনের ছাউনিযুক্ত দুই কক্ষ বিশিষ্ট। এতে বারান্দা ও ওয়াশরুমসহ বিদ্যুৎ সংযোগ, লাইট, ফ্যান এবং দুটি খাটও দেওয়া হয়েছে।
ঘর হস্তান্তরের পাশাপাশি ইউএনও বৃদ্ধাকে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী ও শীতবস্ত্র উপহার দেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাগর হোসেন সৈকত।
স্থানীয় সংবাদকর্মী শাহারিয়ার হোসেন বলেন, “বৃদ্ধা সূর্য্য বেগমের মানবেতর জীবন ইউএনও রাসেল ইকবালের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। বদলির আদেশ আসার পরও শেষ কর্মদিবসে এসে তিনি ঘরটি বুঝিয়ে দিয়েছেন—এটিই তার অসাধারণ আন্তরিকতার প্রমাণ।”
ইউএনও রাসেল ইকবাল বলেন, “মানুষের জন্য কিছু করতে পারার মধ্যেই আসল শান্তি। কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে এসে একজন ঘরহীন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আমি আনন্দিত। আশা করি, বৃদ্ধা মা এখন নিরাপদে ও শান্তিতে জীবনযাপন করতে পারবেন।”
বৃদ্ধা সূর্য্য বেগম তার জন্য দোয়া করেন এবং স্থানীয়রা তাকে ‘জনবান্ধব কর্মকর্তা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও কর্মজীবনের সফলতা কামনা করেছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















