ঢাকা , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্যার দাঁড়িয়ে থাকবেন না, পুলিশের সঙ্গে জেদ করে প্রিজনভ্যানে দাঁড়িয়ে রইলেন ইনু

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০৩:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ৪১৯ বার পড়া হয়েছে

এবার প্রিজনভ্যানে দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। এর জেরে তিনি জেদ করে লোহার রড ধরে প্রিজনভ্যানে দাঁড়িয়ে থাকেন। গতকাল সোমবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনের রাস্তায় প্রিজনভ্যানে এ ঘটনা ঘটে। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও তার স্ত্রী আফরোজা হকের নামে মামলা করে। আজ দুদকের ওই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। এ জন্য ইনুকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৪ কোটি ৮৪ লাখ ২৫ হাজার ৫০৭ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন ও দখলে রাখেন হাসানুল হক ইনু। এ বছরের ১৬ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী মুন্সা জেবিন তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ ও আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ইনুকে সোমবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। দুপুর ১২টার দিকে কারাগারের উদ্দেশে নেওয়ার জন্য হাজতখানা থেকে হাসানুল হক ইনুকে বের করা হয়। এ সময় পুলিশ তাকে তাড়াহুড়ো করে বের করতে চায়। তখন তিনি দাঁড়িয়ে যান।

পুলিশকে বলেন, ‘ধাক্কান কেন?’ তখন পুলিশ সদস্য বলেন, ‘ধাক্কাচ্ছি না।’ পরে তাকে প্রিজনভ্যানের দিকে নেওয়া হয়। এ সময় তার দুহাত পেছনে নিয়ে হাতকড়া পরানো ছিল। প্রিজনভ্যানে নেওয়ার পর হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়। এ সময় হাসানুল হক ইনু প্রিজনভ্যানের ভেতরে রাখা লোহার বেঞ্চের ওপর দাঁড়ান। প্রিজনভ্যানের লোহার ফাঁক দিয়ে আত্মীয়স্বজন ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। তখন প্রিজনভ্যানের ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ ইনুকে দাঁড়িয়ে না থেকে বেঞ্চে বসার অনুরোধ করেন। ইনুর উদ্দেশে এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘স্যার, আপনি দাঁড়িয়ে থেকে কথা বলতে পারবেন না।’

পুলিশ সদস্যের এ কথা শুনে ইনু বলতে থাকেন, ‘আমি দাঁড়িয়ে থাকব। আমি দাঁড়িয়ে থাকতে পারব না, কথা বলতে পারব না— এটা আইনে নেই। আপনারা আপনাদের কাজ করেন।’ তখন ওই পুলিশ সদস্য ইনুর উদ্দেশে বলেন, ‘স্যার, আপনার নিরাপত্তার জন্য বলছি, আপনি দাঁড়িয়ে থাকবেন না।’

এ সময় ইনু বলেন, ‘আমি আমার আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা বলতে পারব না? আমি সারা রাস্তা দাঁড়িয়ে থাকব। আপনি বলেন, কোন আইনে আছে, আমি কথা বলতে পারব না, দাঁড়াতে পারব না? আমাকে আইন দেখান। দাঁড়ানো কি নিষেধ?’ ইনুর মুখ থেকে এ কথা শোনার পর ওই পুলিশ সদস্য বলতে থাকেন, ‘অথরিটির (কর্তৃপক্ষের) নিষেধ আছে।’ পরে পুলিশ সদস্য চলে যান। এ সময় প্রিজনভ্যানে লোহার রড ধরে ইনুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় গাড়ি চলন্ত অবস্থায় ছিল।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

স্যার দাঁড়িয়ে থাকবেন না, পুলিশের সঙ্গে জেদ করে প্রিজনভ্যানে দাঁড়িয়ে রইলেন ইনু

আপডেট সময় ১১:০৩:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

এবার প্রিজনভ্যানে দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। এর জেরে তিনি জেদ করে লোহার রড ধরে প্রিজনভ্যানে দাঁড়িয়ে থাকেন। গতকাল সোমবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনের রাস্তায় প্রিজনভ্যানে এ ঘটনা ঘটে। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও তার স্ত্রী আফরোজা হকের নামে মামলা করে। আজ দুদকের ওই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। এ জন্য ইনুকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৪ কোটি ৮৪ লাখ ২৫ হাজার ৫০৭ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন ও দখলে রাখেন হাসানুল হক ইনু। এ বছরের ১৬ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী মুন্সা জেবিন তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ ও আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ইনুকে সোমবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। দুপুর ১২টার দিকে কারাগারের উদ্দেশে নেওয়ার জন্য হাজতখানা থেকে হাসানুল হক ইনুকে বের করা হয়। এ সময় পুলিশ তাকে তাড়াহুড়ো করে বের করতে চায়। তখন তিনি দাঁড়িয়ে যান।

পুলিশকে বলেন, ‘ধাক্কান কেন?’ তখন পুলিশ সদস্য বলেন, ‘ধাক্কাচ্ছি না।’ পরে তাকে প্রিজনভ্যানের দিকে নেওয়া হয়। এ সময় তার দুহাত পেছনে নিয়ে হাতকড়া পরানো ছিল। প্রিজনভ্যানে নেওয়ার পর হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়। এ সময় হাসানুল হক ইনু প্রিজনভ্যানের ভেতরে রাখা লোহার বেঞ্চের ওপর দাঁড়ান। প্রিজনভ্যানের লোহার ফাঁক দিয়ে আত্মীয়স্বজন ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। তখন প্রিজনভ্যানের ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ ইনুকে দাঁড়িয়ে না থেকে বেঞ্চে বসার অনুরোধ করেন। ইনুর উদ্দেশে এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘স্যার, আপনি দাঁড়িয়ে থেকে কথা বলতে পারবেন না।’

পুলিশ সদস্যের এ কথা শুনে ইনু বলতে থাকেন, ‘আমি দাঁড়িয়ে থাকব। আমি দাঁড়িয়ে থাকতে পারব না, কথা বলতে পারব না— এটা আইনে নেই। আপনারা আপনাদের কাজ করেন।’ তখন ওই পুলিশ সদস্য ইনুর উদ্দেশে বলেন, ‘স্যার, আপনার নিরাপত্তার জন্য বলছি, আপনি দাঁড়িয়ে থাকবেন না।’

এ সময় ইনু বলেন, ‘আমি আমার আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা বলতে পারব না? আমি সারা রাস্তা দাঁড়িয়ে থাকব। আপনি বলেন, কোন আইনে আছে, আমি কথা বলতে পারব না, দাঁড়াতে পারব না? আমাকে আইন দেখান। দাঁড়ানো কি নিষেধ?’ ইনুর মুখ থেকে এ কথা শোনার পর ওই পুলিশ সদস্য বলতে থাকেন, ‘অথরিটির (কর্তৃপক্ষের) নিষেধ আছে।’ পরে পুলিশ সদস্য চলে যান। এ সময় প্রিজনভ্যানে লোহার রড ধরে ইনুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় গাড়ি চলন্ত অবস্থায় ছিল।