ঢাকা , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ, মাথায় হাত ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৯৬ বার পড়া হয়েছে

এবার ভারতীয় পেঁয়াজের সবচেয়ে বড় ক্রেতা বাংলাদেশ অনেকাংশেই দেশটি থেকে আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে আরেক ক্রেতা সৌদি আরবও। এই দুই দেশই পেঁয়াজের জন্য এখন পাকিস্তান ও চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ার ফলে ভয়াবহ মন্দার মুখে পড়েছেন ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে ভারতের পেঁয়াজ চাষিদের অবস্থান ঝুঁকিতে পড়ার জন্য ভারত নিজেই দায়ী। স্থানীয় বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখার অজুহাতে ভারত বরাবরই পূর্বঘোষণা ছাড়া অনেকটা স্বেচ্ছাচারী কায়দায় পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। ফলাফল, পেয়াজের ক্রেতা দেশগুলো এখন আমদানির বিকল্প উৎস খুঁজে নিয়েছে।

অন্যদিকে ভারতের পেঁয়াজের বীজ ব্যবহার করেই প্রতিদ্বন্দ্বি দেশগুলো পেঁয়াজ উৎপাদন বৃদ্ধি ও নিজেদের স্বনির্ভর করছে বলে সতর্কতা দিয়েছে খাত সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক সময় ভারত তাদের মোট পেঁয়াজ রফতানির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বাংলাদেশে সরবরাহ করতো। বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম আগের তুলনায় তিনগুণ বেশি থাকলেও গত আট মাসে খুবই কম পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করেছে ঢাকা। এছাড়া গত প্রায় এক বছরে সৌদি আরবও ভারত থেকে খুব কম পেঁয়াজ কিনেছে।

রফতানিকারকরা জানিয়েছেন, পেঁয়াজের বীজ অবৈধভাবে বাংলাদেশসহ ভারতের অন্যান্য ক্রেতাদের কাছে চলে যাচ্ছে। এরমধ্যে আমদানিকারক দেশগুলো স্বনির্ভর হচ্ছে, যা এই খাতে ভারতের আধিপত্যকে আরও দুর্বল করছে। ইকোনোমিক টাইমস জানায়, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো ছয় মাসের জন্য পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। এরপর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আরও পাঁচ মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেশটির সরকার। এর ফলে ভারতের পেঁয়াজের ওপর যেসব দেশ নির্ভরশীল ছিলো সেসব দেশে দাম বেড়ে যায়। ২০২০ সালে বাংলাদেশ ভারতের কাছে একটি কূটনৈতিক নোট পাঠায়। এতে পেঁয়াজ রফতানিতে ঘনঘন পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

অন্যাদিকে, বর্তমানে স্থানীয় কৃষকদের রক্ষায় বাংলাদেশ আর ভারত থেকে পেঁয়াজ কিনছে না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত বাংলাদেশে ৭ দশমিক ২৪ লাখ টন পেঁয়াজ রফতানি করেছিল, যা তাদের মোট রফতানির ৪২ শতাংশ ছিল। সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছে বাংলাদেশ। যদিও এর জন্য বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে দায়ী করা হয়। কিন্তু রফতানিকারকরা বলছেন বারবার রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কারণেই ক্রেতা দেশগুলো মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ, মাথায় হাত ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের

আপডেট সময় ১০:০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

এবার ভারতীয় পেঁয়াজের সবচেয়ে বড় ক্রেতা বাংলাদেশ অনেকাংশেই দেশটি থেকে আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে আরেক ক্রেতা সৌদি আরবও। এই দুই দেশই পেঁয়াজের জন্য এখন পাকিস্তান ও চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ার ফলে ভয়াবহ মন্দার মুখে পড়েছেন ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে ভারতের পেঁয়াজ চাষিদের অবস্থান ঝুঁকিতে পড়ার জন্য ভারত নিজেই দায়ী। স্থানীয় বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখার অজুহাতে ভারত বরাবরই পূর্বঘোষণা ছাড়া অনেকটা স্বেচ্ছাচারী কায়দায় পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। ফলাফল, পেয়াজের ক্রেতা দেশগুলো এখন আমদানির বিকল্প উৎস খুঁজে নিয়েছে।

অন্যদিকে ভারতের পেঁয়াজের বীজ ব্যবহার করেই প্রতিদ্বন্দ্বি দেশগুলো পেঁয়াজ উৎপাদন বৃদ্ধি ও নিজেদের স্বনির্ভর করছে বলে সতর্কতা দিয়েছে খাত সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক সময় ভারত তাদের মোট পেঁয়াজ রফতানির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বাংলাদেশে সরবরাহ করতো। বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম আগের তুলনায় তিনগুণ বেশি থাকলেও গত আট মাসে খুবই কম পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করেছে ঢাকা। এছাড়া গত প্রায় এক বছরে সৌদি আরবও ভারত থেকে খুব কম পেঁয়াজ কিনেছে।

রফতানিকারকরা জানিয়েছেন, পেঁয়াজের বীজ অবৈধভাবে বাংলাদেশসহ ভারতের অন্যান্য ক্রেতাদের কাছে চলে যাচ্ছে। এরমধ্যে আমদানিকারক দেশগুলো স্বনির্ভর হচ্ছে, যা এই খাতে ভারতের আধিপত্যকে আরও দুর্বল করছে। ইকোনোমিক টাইমস জানায়, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো ছয় মাসের জন্য পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। এরপর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আরও পাঁচ মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেশটির সরকার। এর ফলে ভারতের পেঁয়াজের ওপর যেসব দেশ নির্ভরশীল ছিলো সেসব দেশে দাম বেড়ে যায়। ২০২০ সালে বাংলাদেশ ভারতের কাছে একটি কূটনৈতিক নোট পাঠায়। এতে পেঁয়াজ রফতানিতে ঘনঘন পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

অন্যাদিকে, বর্তমানে স্থানীয় কৃষকদের রক্ষায় বাংলাদেশ আর ভারত থেকে পেঁয়াজ কিনছে না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত বাংলাদেশে ৭ দশমিক ২৪ লাখ টন পেঁয়াজ রফতানি করেছিল, যা তাদের মোট রফতানির ৪২ শতাংশ ছিল। সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছে বাংলাদেশ। যদিও এর জন্য বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে দায়ী করা হয়। কিন্তু রফতানিকারকরা বলছেন বারবার রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কারণেই ক্রেতা দেশগুলো মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।