মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আগামী ৯ জুলাই মাশহাদে দাফনের আগে রাজধানী তেহরানে চলছে রাষ্ট্রীয় শোক ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের ব্যাপক প্রস্তুতি।
ইতোমধ্যে খামেনির কফিনের ওপর স্থাপন করা হয়েছে মাশহাদের ইমাম রেজার মাজারের প্রতীকী লাল পতাকা। শিয়া ইসলামে এই পতাকা শাহাদাত, ন্যায়বিচারের দাবি এবং প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সরকার খামেনির মৃত্যুকে কারবালার শহীদ ইমাম হুসাইনের আত্মত্যাগের সঙ্গে প্রতীকীভাবে যুক্ত করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে।
আগামী শনিবার থেকে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য খামেনির মরদেহ রাখা হবে। এরই মধ্যে পুরো কমপ্লেক্স সাজানো হয়েছে কালো শোকের পতাকা, লাল প্রতিরোধের পতাকা এবং খামেনির বিশাল প্রতিকৃতি দিয়ে।
প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও দিনরাত কাজ করছেন শত শত কর্মী। বিশাল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে রাখা হয়েছে বিশুদ্ধ পানীয় পানি, অ্যাম্বুলেন্স এবং জরুরি উদ্ধারকারী যান। নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি প্রবেশপথে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী, তল্লাশি করা হচ্ছে প্রতিটি যানবাহন।
ইরানি কর্তৃপক্ষের আশা, শুধু তেহরানেই শেষকৃত্যে অংশ নেবেন প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি মানুষ।
তিন দিন জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সোমবার তেহরানের বিভিন্ন সড়কে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ নেওয়া হবে পবিত্র নগরী কোমে। সবশেষে আগামী ৯ জুলাই, খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।
এদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ দেশবাসীর প্রতি শেষকৃত্যে ব্যাপকভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, জনগণের উপস্থিতিই হবে দেশের ঐক্য ও প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় বার্তা।

ডেস্ক রিপোর্ট 























