ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টার আশঙ্কা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি এ বিষয়ে তেহরানকে আগাম সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এপ্রিল মাসে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন আরাগচি ও গালিবাফ। সে সময় ইসরায়েলের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তত গালিবাফের নাম রয়েছে—এমন তথ্য পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে ট্রাম্প প্রশাসন।
পরিস্থিতি বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি আঞ্চলিক সরকারের মাধ্যমে ইরানকে সতর্কবার্তা পাঠায় ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে এমন কোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানায় মার্কিন প্রশাসন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা ছিল, এ ধরনের কোনো উচ্চপর্যায়ের হামলা ঘটলে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগ ভেঙে পড়বে এবং ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই সময় পাকিস্তান সফর শেষে স্পিকার গালিবাফকে বহনকারী একটি বিমান মাঝ আকাশে রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিল। ইরানি নিরাপত্তা সংস্থার সন্দেহ ছিল, দেশের আকাশসীমার কাছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চেয়েছিল তেহরান। একই উদ্দেশ্যে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে আলোচনার সময় ইরানি প্রতিনিধিদের ওপর সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়েছিল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই

ডেস্ক রিপোর্ট 






















