ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়কে ঘিরে শোকের আবহ ছড়িয়ে পড়েছে ইরাকজুড়ে। মরদেহ গ্রহণ এবং জানাজার অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নাজাফে পৌঁছেছেন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি।
খামেনির মরদেহ নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানানো হয়। বুধবার নাজাফ ও পবিত্র নগরী কারবালায় অনুষ্ঠিত হবে জানাজার শোকমিছিল। এতে লাখো শিয়া মুসলিমের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে ইরাকে সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে সফরটি শুধু শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বাগদাদে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও করেছেন পেজেশকিয়ান।
বৈঠকে জানাজার আয়োজন ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য ইরাক সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান তিনি। পেজেশকিয়ানের ভাষায়, এই আয়োজন দুই দেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের গভীরতার পাশাপাশি ইসলামী সংহতিরও প্রতীক।
দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে তেহরান সফরের আমন্ত্রণ জানান ইরানের রাষ্ট্রপতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্ভাব্য এই সফরের মাধ্যমে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন পেজেশকিয়ান। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেন, অতীতে ওয়াশিংটন তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। তবে ইরান কোনো সমঝোতা থেকে সরে আসবে না বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেন, খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া ইরাকের সরকার ও জনগণের জন্য একটি নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। তিনি প্রয়াত ইরানি নেতাকে ইসলামী বিশ্বের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ভিত্তিতে ইরানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 























