ঢাকা , শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিশ্বজয়ী হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়াকে সংবর্ধনা চরমোনাই পীরের ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, হাসপাতালে চোর সরকারি ভাতা পাইয়ে দেওয়ার নামে ইমাম-মুয়াজ্জিনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, বিএনপি নেতাকে শোকজ প্রধানমন্ত্রীকে আক্বীদার প্রশ্নে সতর্ক থাকার আহ্বান ছারছীনা পীরের পেটে গজ রেখে সেলাইয়ের অভিযোগে কনিকার মৃত্যু, পরিবারের পাশে ডিসি আফরোজা মিসবাহর মোট ৯ বিয়ের দাবি, কাবিন-রেজিস্ট্রেশন নেই: ৫ম স্ত্রীর মামলা বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প করতে চায় সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী ওমরাহ পালন করলেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সাভারে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, স্থানীয়দের হাতে আটক ৯ ২৪ বছরে ১১২ এতিম মেয়ের বিয়ে দিলেন রুবেল

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাস

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪১ বার পড়া হয়েছে

গলাব্যথা বা সর্দি-জ্বরের মতো উপসর্গকে আগস্টে অনেকেই সাধারণ মৌসুমি সমস্যা বলে মনে করতে পারেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ছুটি শেষে মানুষের কর্মস্থলে ফেরা এবং শিশুদের স্কুল খোলার এই সময়ে আবারও বাড়তে শুরু করেছে কোভিড-১৯ সংক্রমণ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডিসকভারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসির সর্বশেষ মূল্যায়নে দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই সংক্রমণ বাড়ছে অথবা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রবণতা বেশি। তবে উত্তর-পূর্ব ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলেও সংক্রমণ বাড়ার চিত্র পাওয়া গেছে। অনেক এলাকায় পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সার্বিকভাবে দেশজুড়ে সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী।

গ্রীষ্মেই কেন বাড়ছে করোনা?

সিডিসির জুনের পূর্বাভাসেও দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে গ্রীষ্মকালে সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। কারণ, ২০২৫-২৬ সালের শীতে এসব এলাকায় সংক্রমণ তুলনামূলক কম ছিল। ফলে মানুষের সাম্প্রতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে গ্রীষ্মে করোনা বাড়ার একক কোনো কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, নতুন ভ্যারিয়েন্টের আবির্ভাব, মানুষের চলাচল ও আচরণ এবং পরিবেশগত পরিস্থিতি—সব মিলিয়েই সংক্রমণের নতুন ঢেউ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

সংক্রমণের পরিস্থিতি বুঝতে সিডিসি জরুরি বিভাগের রোগীর তথ্য, পরীক্ষাগারের ফল, হাসপাতালের তথ্য এবং বর্জ্য পানিতে ভাইরাসের উপস্থিতি বিশ্লেষণ করছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর সংখ্যা বাড়ার আগেই বর্জ্য পানিতে ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

সংক্রমণ বাড়লেও কমছে গুরুতর ঝুঁকি

তবে সংক্রমণ বাড়লেও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার আগের তুলনায় অনেক কম। সিডিসির তথ্য বলছে, ২০২৩-২৪ সালের শীতের পর হাসপাতালে কোভিড রোগী ভর্তির হার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অনেকটাই নেমেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে মানুষের সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তুলনামূলক কম গুরুতর ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে বয়স্ক ব্যক্তি ও গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য করোনা এখনো উদ্বেগের কারণ।

পরীক্ষায় সতর্ক থাকার পরামর্শ

সিডিসি ও এফডিএর পরামর্শ অনুযায়ী, উপসর্গ থাকলে ঘরে করা অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় একবার নেগেটিভ ফল এলেই করোনা নেই—এমনটা নিশ্চিত হওয়া যাবে না। উপসর্গযুক্ত ব্যক্তিদের ৪৮ ঘণ্টা পর আবার পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের উপসর্গ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেছে সিডিসি। কারণ, কিছু অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শুরু করতে হয়।

এদিকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শুরু পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত হওয়া ভ্যারিয়েন্টগুলোর মধ্যে XFG.1.1-এর উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য ছিল। আগামী শরৎ মৌসুমে নতুন কোভিড টিকার ব্যবহার শুরুর প্রস্তুতিও চলছে যুক্তরাষ্ট্রে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। যদিও আগের মতো গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, তবু ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের জন্য সতর্ক থাকার বিকল্প নেই।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বজয়ী হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়াকে সংবর্ধনা চরমোনাই পীরের

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাস

আপডেট সময় ০২:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

গলাব্যথা বা সর্দি-জ্বরের মতো উপসর্গকে আগস্টে অনেকেই সাধারণ মৌসুমি সমস্যা বলে মনে করতে পারেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ছুটি শেষে মানুষের কর্মস্থলে ফেরা এবং শিশুদের স্কুল খোলার এই সময়ে আবারও বাড়তে শুরু করেছে কোভিড-১৯ সংক্রমণ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডিসকভারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসির সর্বশেষ মূল্যায়নে দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই সংক্রমণ বাড়ছে অথবা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রবণতা বেশি। তবে উত্তর-পূর্ব ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলেও সংক্রমণ বাড়ার চিত্র পাওয়া গেছে। অনেক এলাকায় পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সার্বিকভাবে দেশজুড়ে সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী।

গ্রীষ্মেই কেন বাড়ছে করোনা?

সিডিসির জুনের পূর্বাভাসেও দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে গ্রীষ্মকালে সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। কারণ, ২০২৫-২৬ সালের শীতে এসব এলাকায় সংক্রমণ তুলনামূলক কম ছিল। ফলে মানুষের সাম্প্রতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে গ্রীষ্মে করোনা বাড়ার একক কোনো কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, নতুন ভ্যারিয়েন্টের আবির্ভাব, মানুষের চলাচল ও আচরণ এবং পরিবেশগত পরিস্থিতি—সব মিলিয়েই সংক্রমণের নতুন ঢেউ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

সংক্রমণের পরিস্থিতি বুঝতে সিডিসি জরুরি বিভাগের রোগীর তথ্য, পরীক্ষাগারের ফল, হাসপাতালের তথ্য এবং বর্জ্য পানিতে ভাইরাসের উপস্থিতি বিশ্লেষণ করছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর সংখ্যা বাড়ার আগেই বর্জ্য পানিতে ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

সংক্রমণ বাড়লেও কমছে গুরুতর ঝুঁকি

তবে সংক্রমণ বাড়লেও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার আগের তুলনায় অনেক কম। সিডিসির তথ্য বলছে, ২০২৩-২৪ সালের শীতের পর হাসপাতালে কোভিড রোগী ভর্তির হার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অনেকটাই নেমেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে মানুষের সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তুলনামূলক কম গুরুতর ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে বয়স্ক ব্যক্তি ও গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য করোনা এখনো উদ্বেগের কারণ।

পরীক্ষায় সতর্ক থাকার পরামর্শ

সিডিসি ও এফডিএর পরামর্শ অনুযায়ী, উপসর্গ থাকলে ঘরে করা অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় একবার নেগেটিভ ফল এলেই করোনা নেই—এমনটা নিশ্চিত হওয়া যাবে না। উপসর্গযুক্ত ব্যক্তিদের ৪৮ ঘণ্টা পর আবার পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের উপসর্গ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেছে সিডিসি। কারণ, কিছু অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শুরু করতে হয়।

এদিকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শুরু পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত হওয়া ভ্যারিয়েন্টগুলোর মধ্যে XFG.1.1-এর উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য ছিল। আগামী শরৎ মৌসুমে নতুন কোভিড টিকার ব্যবহার শুরুর প্রস্তুতিও চলছে যুক্তরাষ্ট্রে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। যদিও আগের মতো গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, তবু ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের জন্য সতর্ক থাকার বিকল্প নেই।